পূজা পদ্ধতিপূজার দিন ও তারিখ

2020 একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার Latest

আপনারা যারা একাদশী ব্রত পালন করেন একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার তাদের জন্য শেয়ার করা হল। এই একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার এ একাদশীর উপবাস তারিখ দিন মাস, একাদশীর উপবাস শুরু এবং কখন শেষ তার সময়ও দেওয়া হয়েছে।

একাদশী কী?

হিন্দু ধর্মমতানুসারে একাদশী পুণ্যতিথি হিসেবে বিবেচিত হয়। একাদশী হল একটি চান্দ্র তিথি। চাঁদের শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি। হিন্দু ধর্মর মত অনুসারে নিরম্বু উপবাস বিহিত। একাদশী ব্রত অবশ্য পালনীয়। শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তার লীলাবিলাসের প্রথম থেকেই “একাদশী উপবাসের” প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন। শ্রীল জীব-গোস্বামী তার ভক্তিসন্দর্ভ গ্রন্থে স্কন্ধ পুরাণের একটি উদ্ধৃৃতি দিয়ে বলেছেন, “যে মানুষ একাদশীর দিন শস্যদানা গ্রহণ করে সে তার পিতা, মাতা, ভাই এবং গুরু হত্যাকারী, সে যদি বৈকন্ঠ লোকেও উন্নীত হয়, তবুুুুও তার অধঃপতন হয়়।”

একাদশী পালনের নিয়মাবলী

একাদশীর মূল কাজ হল– নিরন্তর ভগবানকে স্মরণ করা । তাই আপনারা যে নিয়মে, যে সময়ে পালন করুন না কেন, ভগবানকে ভক্তিভরে স্মরণ করাই যেন আপনারই মূল কাজ হয় । আমরা একাদশী পালনের সাত্ত্বিক নিয়মটি উল্লেখ করছি । এটি পালন করা সবার উচিত ।

  1.  সমর্থ পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার, ও দ্বাদশীতে একাহার করিবেন ।
  2.  তা হতে অসমর্থ পক্ষে শুধুমাত্র একাদশীতে অনাহার।
  3. যদি উহাতেও অসমর্থ হন, একাদশীতে পঞ্চ রবিশস্য বর্জন করতঃ ফল মূলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান রহিয়াছে।

সমর্থ পক্ষে রাত জাগরণের বিধি আছে , গোড়ীয় ধারায় বা মহান আচার্য্যবৃন্দের অনুমোদিত পঞ্জিকায় যে সমস্ত একাদশী নির্জলা ( জল ব্যতীত ) পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন । সেগুলি সেমতে করলে সর্বোওম হয় । নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় থেকে নিরাহার থাকতে অপারগ হলে নির্জলাসহ অন্যান্য একাদশীতে কিছু — সবজি , ফলমূলাদি গ্রহণ করতে পারেন । যেমন — গোল আলু , মিষ্টি আলু , চাল কুমড়ো , পেঁপে , টমেটো, , ফুলকপি ইত্যাদি সবজি ঘি অথবা বাদাম তৈল দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে আহার করতে পারেন । হলুদ, মরিচ, ও লবণ ব্যবহার্য । আবার অন্যান্য আহায্য যেমন — দুধ ,কলা , আপেল , আঙ্গুর, আনারস, আখঁ, আমড়া শস্য, তরমুজ, বেল, নারিকেল, মিষ্টি আলু , বাদাম ও লেবুর শরবত ইত্যাদি ফলমূলাদি খেতে পারেন ।

একাদশীতে পাচঁ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছেঃ

  1.  ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন – চাউল,মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েশ, খিচুড়ি, চাউলের পিঠা, খৈ ইত্যাদি
  2. গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন – আটা,ময়দা, সুজি , বেকারীর রূটি , বা সকল প্রকার বিস্কুট ,হরলিকস্ জাতীয় ইত্যাদি ।
  3. যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন — ছাতু , খই , রূটি ইত্যাদি ।
  4. ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন — মুগ মাসকলাই , খেসারী , মসুরী, ছোলা অড়রহ , ফেলন, মটরশুটি, বরবঢী ও সিম ইত্যাদি ।
  5. সরিষার তৈল , সয়াবিন তৈল, তিল তৈল ইত্যাদি । উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যেকোন একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয় ।

□ উল্লেখ্য যারা সাত্ত্বিক আহারী নন এবং চা , বিড়ি / সিগারেট পান কফি ইত্যাদি নেশা জাতীয় গ্রহণ করেন, একাদশী ব্রত পালনের সময়কাল পর্যন্ত এগুলি গ্রহণ না করাই ভালো ।

□ একাদশী করলে যে কেবলমাত্র নিজের জীবনের সদ্ গতি হবে তা নয় । একাদশী ব্যক্তির প্রয়াত পিতা / মাতা নিজ কর্ম দোষে নরকবাসী হন , তবে সেই পুত্র ই (একাদশী ব্রত ) পিতা – মাতাকে নরক থেকে উদ্ধার করতে পারে । একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে যেমন নরকবাসী হবে , অন্যকে ভোজন করালেও নরকবাসী হবে । কাজেই একাদশী পালন করা আমাদের সকলেরই কর্তব্য ।

□ একাদশী পারণঃ (একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙ্গার পর নিয়ম ) পঞ্জিকাতে একাদশী পারণের ( উপবাসের পরদিন সকালে ) যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে , সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে, প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা একান্ত দরকার । নতুবা একাদশীর কোন ফল লাভ হবে না । একাদশী ব্রত পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস করা নয় , নিরন্তর শ্রীভগবানের নাম স্মরণ , মনন , ও শ্রবণ কীর্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয় । এদিন যতটুকু সম্ভব উচিত । একাদশী পালনের পরনিন্দা , পরিচর্চা, মিথ্যা ভাষণ, ক্রোধ দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ । □ বিঃ দ্রঃ নিমোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়ঃ — একাদশী ব্রতের আগের দিন রাত ১২ টার আগেই অন্ন ভোজন সম্পন্ন করে নিলে সর্বোওম । ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাঁশ

□ করে দাঁত ও মুখ গহব্বরে লেগে থাকা সব অন্ন পরিষ্কার করে নেওয়া সর্বোওম । সকালে উঠে শুধু মুখ কুলি ও স্নান করতে হয়।

□ একাদশীতে সবজি কাটার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোথাও কেটে না যায় । একাদশীতে রক্তক্ষরণ বর্জনীয় । দাঁত ব্রাশঁ করার সময় অনেকের রক্ত ক্ষরণ হয়ে থাকে । তাই একাদশীর আগের দিন রাতেই দাঁত ভালো ভাবে ব্রাশঁ করে নেওয়াই সর্বোওম ।

□ একাদশীতে চলমান একাদশীর মাহাত্ন্য ভগবদ্ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণ অথবা সম্ভব না হলে নিজেই ভক্তি সহকারে পাঠ করতে হয় ।

□ যারা একাদশীতে একাদশীর প্রসাদ রান্না করেন , তাদের পাচঁ ফোড়ঁন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিৎ ।কারণ পাঁচ ফোড়ঁনে সরিষার তৈল ও তিল থাকতে পারে যা বর্জনীয় ।

□ একাদশীতে শরীরে প্রসাধনী ব্যবহার নিষিদ্ধ । তৈল ( শরীরে ও মাথায় ) সুগন্ধি সাবান শেম্পু ইত্যাদি বর্জনীয় ।

□ সকল প্রকার ক্ষৌরকর্ম — শেভ করা এবং চুল ও নক কাটা নিষিদ্ধ । সোর্স – উইকিপিডিয়া

 

2020 একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার

একাদশীর উপবাস

 

একাদশী উপবাস শুরু একাদশী উপবাস শেষ
৫ই বৈশাখ, শনিবার ৪ঠা বৈশাখ রাত্রি ১০।১৩ হইতে ৫ই বৈশাখ রাত্রি ১১।৩৫ পর্যন্ত।
২০শে বৈশাখ, রবিবার জ্যৈষ্ঠ, সোমবার। ১৯ শে বৈশাখ শেষ রাত্রি ৪।৩৮ হইতে ২০শে বৈশাখ রাত্রি ২।২১ পৰ্য্যন্ত।
৪ জ্যৈষ্ঠ,সোমবার ৩রা জ্যৈষ্ঠ দিবা ১।৪৫ হইতে ৪ জ্যৈষ্ঠ দিবা ৩৪২ পর্যন্ত।
১৯শে জ্যৈষ্ঠ, মঙ্গলবার (নির্জলা)

 

১৮ ই জ্যৈষ্ঠ দিবা ১২। ১৪ হইতে ১৯শে জ্যৈষ্ঠ দিবা ৯।৪৬ পর্যন্ত।
২রা আষাঢ়, বুধবার।

 

১লা আষাঢ় প্রাতঃ ৫|৩২ হইতে ২রা আষাঢ় দিবা ৭২৯ পর্যন্ত।
১৬ ই আষাঢ়, বুধবার (শয়ন)

 

১৫ই আষাঢ় রাত্রি ৭|১৩ হইতে ১৬ ই আষাঢ় অপঃ ৪৫৩ পর্যন্ত।
৩১শে আষাঢ়, বৃহস্পতিবার।

 

৩০শে আষাঢ় রাত্রি ৮|৪৩ হইতে ৩১শে আষাঢ় রাত্রি ১০ |৬ পর্যন্ত।
১৪ই শ্রাবণ, বৃহস্পতিবার

 

১৩ই শ্রাবণ রাত্রি ২।২৯ হইতে ১৪ই শ্রাবণ রাত্রি ১২।৩৪ পর্যন্ত।
৩০শে শ্রাবণ, শনিবার ।

 

২৯শে শ্রাবণ দিবা ১০ |৪৬ হইতে ৩০শে শ্রাবণ দিবা ১১১৭ পর্যন্ত।
১২ই ভাদ্র, শনিবার (পার্শ্ব)

 

১১ই ভাদ্র দিবা’ ১১।২ হইতে ১২ই ভাদ্র দিবা ৯ |৫০ পৰ্য্যন্ত।
২৭শে ভাদ্র, রবিবার।

 

২৬শে ভাদ্র রাত্রি ১১।৩৪ হইতে ২৭শে ভাদ্র রাত্রি ১১৬ পর্যন্ত।
১০ই আশ্বিন, রবিবার।

 

৯ই আশ্বিন রাত্রি ৯।৪৭ থেকে ১০ ই আশ্বিন রাত্রি ৯/৩২ পর্যন্ত।।
 

২৬শে আশ্বিন, মঙ্গলবার

 

২৫শে আশ্বিন দিবা ১১।২১ হইতে ২৬শে আশ্বিন দিবা ১০।১ পর্যন্ত।
১০ ই কার্তিক, মঙ্গলবার ।

 

৯ই কার্ত্তিক দিবা ১১।৩১ হইতে ১০ ই কার্তিক দিবা ১২।২১ পর্যন্ত।
২৫ শে কার্তিক, বুধবার।

 

২৪ শে কার্তিক রাত্রি ১০।২৮ হইতে ২৫শে কার্ত্তিক রাত্রি ৮/৩১ পৰ্য্যন্ত।
১০ই অগ্রহায়ণ, বৃহঃবার (উত্থান)

 

৮ই অগ্রহায়ণ শেষরাত্রি ৪।২৯ হইতে ১০ই অগ্রহায়ণ প্রাতঃ ৬১৪ পর্যন্ত।
২৫শে অগ্রহায়ণ, শুক্রবার

 

২৪শে অগ্রহায়ণ দিবা ৯|২১ হইতে ২৫ শে অগ্রহায়ণ দীবা ৭৪ পর্যন্ত।
৯ই পৌষ, শুক্রবার।

 

৮ই পৌষ রাত্রি ১১ ৫৬ হইতে ৯ই পৌষ রাত্রি ২৭ পর্যন্ত।
২৪শে পৌষ, শনিবার

 

২৩ শে পৌষ রাত্রি ৮৭ হইতে ২৪শে পৌষ রাত্রি ৫৪৯ পর্যন্ত।
১০ই মাঘ, রবিবার

 

৯ই মাঘ রাত্রি ৭ |৫৯ হইতে ১০ই মাঘ রাত্রি ৯৫০ পর্যন্ত।
২৫ শে মাঘ, সোমবার

 

২৪শে মাঘ দিবা ৭। ১৪ হইতে ২৪শে মাঘ শেষরাত্রি ৪ ৫০ পর্যন্ত।
১০ই ফারূন, মঙ্গলবার (ভৈমী)

 

৯ই ফাল্গুন দিবে ২।২৬ থেকে ১০ই ফাল্গুন দিবা ৩।২৪ পর্যন্ত।
২৪শে ফাল্গুন, মঙ্গলবার।

 

২৩শে ফাল্গুন সন্ধ্যা ৫ |৩৮ হইতে। ২৪শে ফাল্গুন অপঃ ৪।১৫ পর্যন্ত।
১১ চৈত্র, বৃহঃবার

 

১০ই চৈত্র প্রাতঃ ৬।১ হইতে ১১ চৈত্র প্রাতঃ ৫৫৪ পর্যন্ত।
২৪শে চৈত্র, বুধবার

 

২৩শে চৈত্র শেষ রাত্রি ৪ ৫৭ হইতে ২৪ শে চৈত্র শেষ রাত্রি ৪২৪ পর্যন্ত।

এটিও পড়ুন –2020 মুম্বাইতে শ্রী শ্রী দুর্গাপুজার সময় নির্ঘণ্ট ( ভারত )

ট্যাগঃ 2020 একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার, ডাউনলোড করুন 2020 একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার, জেনে নিন 2020 একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার, 2020 একাদশী উপবাসের তারিখ ও ক্যালেন্ডার PDF

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button