পড়াশোনাভাবসম্প্রসারণঅনলাইন ক্যারিয়ারউচ্চ মাধ্যমিকজানা অজানাজীবনীপ্রত্যাশাবিনোদন

এই নিয়মটি মেনে চললে আপনি ৮০ শতাংশ এগিয়ে যাবেন, রইল সুত্র

প্রোঅ্যাকটিভিটি

আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি মৌলিক গুণের কথা শেয়ার করব, যা আয়ত্ব করতে পারলে আপনি ৮০ শতাংশ লোকের চাইতে বেশি এগিয়ে যেতে পারবেন। গুণটিকে ইংরেজিতে বলে প্রোঅ্যাকটিভিটি। শব্দার্থ হিসেবে ব্যবহার করার মত আক্ষরিক বাংলা শব্দ আমি পাইনি। তবে আমার মতে, এর অর্থ স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু করার অভ্যাস। অর্থাৎ যে কাজই করেননা কেন তার ১০০% দায়িত্ব নিজের কাধে নিয়ে তা সম্পাদন করুন। যখন আপনি স্বউদ্যোগী হয়ে কোন কাজ শুরু করেন, সেই কাজটিও প্রোঅ্যাকটিভ গুণের কারণেই সূচনা হয়। এছাড়া যখন অন্য কেউ আপনাকে দায়িত্ব দেয় তখন সেই ব্যক্তি প্রোঅ্যাকটিভ হয়ে কাজটির দায়িত্ব আপনাকে দিচ্ছে, আপনি এ কাজের ক্ষেত্রে রিঅ্যাকটিভ ভূমিকা পালন করছেন মাত্র।

প্রোঅ্যাকটিভ ব্যক্তি বর্গ

প্রোঅ্যাকটিভ ব্যক্তিদের/কর্মীদের সাধারণত কোন কাজ করতে বার বার বলতে হয় না। একবার বুঝিয়ে দিলেই তারা করা শুরু করে দেয়। কাজটি রুটিন কোন কাজ হলে, একবার বুঝিয়ে দিলেই তারা রুটিনমাফিক করতে থাকে। তাদের না বার বার তদারকি করতে হয়, না বিস্তারিত ব্রিফিং দিতে হয়।

অন্যন্য লোকের চাইতে এগিয়ে যাওয়ার সহজ সূত্র

যেটা জানা দরকার, পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই রিঅ্যাকটিভ থাকতে পছন্দ করে। তারা সামনে অসংখ্য কাজ পড়ে থাকতে দেখলেও সেই কাজ করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না কেউ তাদের সেটা করতে বলবে। যেমন: নিজের ঘর পরিস্কার রাখা। এখনকার যুগে অনেক ছেলেমেয়েদের ঘরে ঢুকলেই দেখবেন ঘর এলোমেলো, বিছানা অগোছালো, কাগজপত্র এদিকসেদিক ছড়ানো-ছিটানো। নিজের ঘর গোছানোর কাজটি সহজ, তারা হয়তো প্রায়ই গুছিয়েও থাকে। তবে যতক্ষণ পিতা-মাতার হুকুম না আসবে ততক্ষণ তারা সেই কাজ স্বপ্রণোদিত হয়ে করবে না। এভাবেই বেশিরভাগ মানুষ গড়পড়তা মানের থেকে যায় অর্থাৎ সেই ৮০ শতাংশের একজন হয়ে থেকে যায়।

কিন্তু আমরা যদি আমাদের কাজগুলো নিজ উদ্যোগে সম্পন্ন করি, তবে আমরা খুব সহজেই হতে পারি সেই ২০ শতাংশ মানুষদের একজন যাদের কারণেই পৃথিবীর এগিয়ে যাচ্ছে। যারা নির্দেশের অপেক্ষায় আছে, তারা কোনদিন সেই নির্দেশ পেতো না, যদি না সেই ২০ শতাংশ মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজগুলো নিজেদের কাধে তুলে নিত।

যে ভুলগুলো করবেন না

প্রোঅ্যাকটিভ হওয়া অবশ্যই সহজ কোন কাজ নয়। এর জন্য আপনাকে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। আপনি এক পর্যায়ে দেখবেন, শুধু আপনিই কাজ করছেন, বাকি সবাই নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। তখন হয়তো তাদের দেখে হতাশ হয়ে যাবেন, ভাববেন আপনি কেন এত খাটছেন? কাজটা তো কেবল আপনার না। অনেকসময় দেখবেন, ঘুম থেকে এদের কেউ কেউ উঠে আপনার কাজের তারিফ করছেন, তখন আপনার ভালো লাগবে। কিন্তু আবার দেখবেন, আপনাকে তারা কিছু সদুপদেশও দিচ্ছে, এভাবে কাজ করা উচিত, ওভাবে উচিত ইত্যাদি। সেগুলো শুনে আপনার মেজাজ মাঝে মাঝে বিগড়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনাকে সহনশীল হতে হবে। ভালো উপদেশ গুলোকে সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে। কেউ না আসায় আপনার কাজ থেমে গেলে চলবে না। আপনার এই পরিশ্রম বৃথা যাবে না। যারা ঘুমাচ্ছে তারা চিরকাল অন্যের দাসত্ব করে যাবে তাদের আজকের সামান্য অবসরের জন্য। যদি লিডার হতে চান, তবে আপনাকে কাজ করতে হবে। যদি পৃথিবীকে কিছু দিতে চান, তবে আপনাকে আজ ব্যস্ততায় নিজেকে বলি দিতে হবে। যদি জীবনটাকে তাৎপর্যময় করতে চান, আজকের এই সূর্যদীপ্ত সকাল আপনারই অপেক্ষায়….

চ্যালেঞ্জের সময়গুলো একসময় কেটে যাবে, তখন দেখবেন আপনার সাথে তাদের ব্যবধান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button