Others

সিনেমার সুফল ও কুফল প্রবন্ধ রচনা

সিনেমা দেখার সুফল এবং কুফল সম্পর্কে রচনা

সিনেমার সুফল ও কুফল – এই পোষ্টে সিনেমার সুফল ও কুফল সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা শেয়ার করা হল। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় এরকম ধরনের প্রবন্ধ রচনা খুব কাজে আশে। আশা করি সকল বিদ্যার্থী বন্ধুদের সিনেমার সুফল ও কুফল এই রচনাটি কাজে লাগবে।

সিনেমার সুফল ও কুফল

বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে মানবজীবনের উন্নতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিজ্ঞান যেমন একদিকে দূরকে কাছে করেছে, অপরদিকে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। এর একদিকে মানুষের খাওয়ার যোগার করছে, অপরদিকে অবসাদগ্রস্ত মনকে অনাবিল আনন্দধারা দান করে সঞ্জীবিত করে রেখেছে। সিনেমা শিল্পও আজ মানুষের বিরস মনে রসের সঞ্চার করছে।

আমেরিকার স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক ‘টমাস এডিসন” সবাক চিত্র আবিষ্কার করে মানবজাতির অশেষ উপকার সাধন করেছেন। চলচ্চিত্র কতকগুলি আলোকচিত্রের সমষ্টি মাত্র। চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটি ছবি দৈর্ঘ্যে এক ইঞ্চি, প্রস্থে তিন চতুর্থাংশ ইঞ্চি। ছবিগুলি দ্রুতভাবে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় অপসারিত হয় বলে এদেরকে সচল সজীব বলে মনে হয়। ছবিগুলি সেলুলয়েডের ফিতায় একটির পর একটি সাজান থাকে। শব্দ যন্ত্রের সাহায্যে অভিনেতা-অভিনেত্রীর মুখনিঃসৃত স্বর অবিকলভাবে ধরে রাখা হয় এবং রেকর্ড করা হয়। পরে ছবির সাথে সংগতি রেখে রেকর্ডগুলি সাজিয়ে দেওয়া হয় তাকে ডাবিং(dabbing) বলে।

বিংশ শতাব্দীর কর্মব্যস্ত জীবনধারা বিজ্ঞানের অবদান, এ অস্বীকার করার উপায় নেই। শিক্ষার দুরূহ বিষয়কে এ সহজ করে দিয়েছে। দূরকে কাছে করেছে, দুর্গমকে সুগম করেছে এবং দিয়েছে অজানাকে জানার প্রেরণা। পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক কাহিনী সিনেমার সাহায্যে দর্শকের সামনে উপস্থিত করা সহজ। যারা লেখাপড়া জানে না, তারও সিনেমার সাহায্যে দেশের বিবর্তনের ইতিহাস, কোন জাতির উত্থান-পতনের ইতিবৃত্ত জানতে পারে। আর Mass Education বা ‘গণশিক্ষা’ বলতে আমরা যা বুঝি, তা একমাত্র সিনেমার সাহায্যে প্রচার করা যায়। বেতারের সাহায্যেও প্রচার করা যায় বটে, কিন্তু তা খুব ফলপ্রসূ নয়। এতে পরোক্ষভাবে শিক্ষা দেওয়া যায়। দিয়াশলাই সম্বন্ধে গাদা গাদা বই না দেখে যেমন একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে এর প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে, তেমনি রেডিওর সাহায্যেও বক্তৃতার পর বক্তৃতা না দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সিনেমার সাহায্যে শিক্ষা দিলে এ মানুষের মনে ভালভাবে দাগ কাটতে পারে। রাশিয়ার জীবনযাত্রার যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, এর মূলে আছে চলচ্চিত্রের সাহায্যে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা। লোকায়ত সরকারের কোন উন্নতিমূলক পরিকল্পনা সম্পর্কে জনমত গ্রহণ মানসে চলচ্চিত্রাকারে দেখান হয়। এতে জনমত সংগ্রহ এবং জনসাধারণকে পরিকল্পনা সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা দেওয়া যায়।

পাশ্চাত্য দেশে সিনেমার উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। আমেরিকার হলিউড পাশ্চাত্য সিনেমা জগতের পাদপীঠ। আমাদের দেশে এখনও সিনেমার যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয় নি। সিনেমার মেশিন, সাউও রেকর্ডিং মেশিন ইত্যাদি পাশ্চাত্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয় বলে আমাদের দেশের অনেক টাকা বিদেশে চলে যায়।

সিনেমা শিল্পও কেবল কণ্টকহীন কুসুম নয়। এর অনেকগুলি দোষও আছে। সেই ত্রুটির পরিণামেই আজ বাঙালী সমাজ তিলে তিলে অবনতির গভীর পঙ্কে ডুবতে বসেছে। পাশ্চাত্য দেশ থেকে যে সমস্ত ছবি আমদানি করা হয়, এই । অনেকটা আমাদের দেশের যুবক-যুবতীদের নৈতিক অধঃপতনের জন্য দায়ী। পাশ্চাত্য সভ্যতার সাথে আমাদের সভ্যতার পার্থক্য দিনের মতো স্পষ্ট। তাদের জীবনযাত্রার প্রণালী আমাদের জীবনযাত্রা পদ্ধতি থেকে আলাদা। সমাজে যা করলে তাদের বৈকুণ্ঠের পথ প্রশস্ত হয়, তা আমাদের দেশে করলে আমাদের নরকের পথ সহজ হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। পাশ্চাত্য দেশের অধিকাংশ ছবিই যৌন আবেদনমূলক। আমাদের দেশের অধিকাংশ যুবক-যুবতী এই ছবিগুলি দেখে নৈতিক অধঃপতনের চরম সীমায় পৌঁছায়। ভাল ছবিও যে সে দেশে প্রস্তুত হয় না, তা নয়। তবে যৌন আবেদন এবং সহ নৃত্য সে দেশের সভ্যতার ও রুচিজ্ঞানের পরিচয় বহন করে; আবার এ আমাদের দেশে অশ্লীলতার প্রতীক। ভাল বন্ধু থেকে ভাল গুণটি নেওয়া সহজ কিন্তু খারাপ থেকে খারাপের ভাল নেওয়া তেমন সহজ নয়। ছবিগুলি অনেকাংশে ভাল হলেও আমরা সকলে এর রস গ্রহণ করতে পারি না। শিল্পকলার রস গ্রহণ ক্ষমতা আমাদের দেশের খুব কম লোকেরই আছে। আমাদের দেশে যে ছবি প্রস্তুত হয়, এর অধিকাংশ ‘হলিউড মার্কা’ ছবি। অর্থাৎ হলিউডের অনুকরণ করতে গিয়ে দেশ জাতীয় কৃষ্টি ও বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে। আমাদের দেশের ছবিগুলি এমন হওয়া উচিত যাতে জীবনধারা উন্নততর হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের দেশের প্রযোজকরা পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণ করতে গিয়ে ‘দাঁড়কাকের গায়ে ময়ূর পুচ্ছ” ব্যবহার করছে এবং পরিণামে নিজের হাঁটার ভঙ্গিও হাঁড়াতে বসেছে।

যৌন আবেদনমূলক ছবিগুলি দেখে কত ছাত্র নিজের জীবনকে তিলে তিলে অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে কে তার হিসাব রাখে। প্রেম অপরাধের বস্তু নয়। কিন্তু সিনেমার পর্দায় প্রেমকে যেভাবে আবেগবহুল করা হয়, এতে প্রেমের গভীরতা দেখাতে গিয়ে প্রেমের পবিত্রতা নষ্ট করে দেয়। সিনেমা শিল্পের দিকটা উন্নত হলে সিনেমাই গণশিক্ষার বাহন হবে তাতে সন্দেহ নেই। ফুল থেকে ভ্রমর মধু পান করে আর মাকড়সা বিষ আহরণ করে। সিনেমার সুফল গ্রহণ করার শক্তি যাদের আছে তাদের পক্ষে সিনেমার অবদান অনস্বীকার্য। আর সিনেমা দেখে যাদের চিত্ত অধোগামী হয় তাদের জন্য এর পরিত্যাজ্য সন্দেহ নেই। যে ছুরিতে অস্ত্রোপচার করে রোগ নিবারণের ব্যবস্থা করা যায়, সে ছুরিতে হত্যা করাও সম্ভব হয়। অধিকারী ভেদে সকল বস্তুর উপকরণের গুণাগুণ নির্ণীত হয়। এঁদের জন্য দায়ী কে তা অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য।

ট্যাগঃ সিনেমার সুফল ও কুফল প্রবন্ধ রচনা, সিনেমার সুফল ও কুফল সম্পর্কে রচনা, সিনেমার সুফল ও কুফল রচনা PDF, সিনেমার সুফল ও কুফল প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে।

এগুলিও পড়তে পারেন -

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

seven − 4 =

Back to top button