Others

শ্রমের মর্যাদা বাংলা রচনা 600 শব্দের মধ্যে

জাতীয় জীবনে শ্রমের গুরুত্ব | The Dignity of Labor.

মানুষ কোনো কাজ সম্পন্ন করতে যে শারীরিক বা মানসিক শক্তি দিয়ে থাকে তাকে সাধারণত শ্রম বলে। শ্রমকে দুই ধরনের -১) মানসিক শ্রম ও ২) শারীরিক শ্রম। জীবন-যাপন করতে হলে সব মানুষকেই কম-বেশি শারীরিক ও মানসিক শ্রম করতে হয়। প্রত্যেক মানুষই তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে থাকে।

শ্রমের মর্যাদা অনুসারে অনুরূপ প্রবন্ধ রচনা লেখা যাবে শ্রমের মর্যাদা, ছাত্র জীবনে শ্রমের গুরুত্ব, জাতীয় জীবনে শ্রমের গুরুত্ব প্রবন্ধ রচনা, শ্রমের গুরুত্ব, The Dignity of Labor Essay

শ্রমের মর্যাদা

ভূমিকা :

জীবনের সকল ক্ষেত্রেই পরিশ্রমের মর্যাদা অপরিহার্য। সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে পরিশ্রমের মর্যাদাবোধ পরিশ্রমেরই যোগ্য পুরস্কার। পরিশ্রমলব্ধ কর্মের সাফল্যের যে আনন্দ, তাহা সত্যই নির্মল ও উপযোগী। কোন এক মনীষী বলিয়াছেন, “ক্ষণস্থায়ী জীবনটাকে পরিশ্রম দ্বারা যত বেশি পারা যায় কাজে লাগাইয়া লও।”

শ্রম সম্মান হানিকর নহে:

কায়িক পরিশ্রম আত্মসম্মানের পক্ষে কিছুমাত্র হানিজনক নহে, বরং উহাই মানব-সমাজে উন্নতির শ্রেষ্ঠ উপায়। সর্বাধিক পার্থিব উন্নতি ও অভ্যুদয় শ্রমসামর্থ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। মানব জাতির স্থিতি ও পরিপুষ্টির গোড়ায় রহিয়াছে অপরিহার্য শ্রম শক্তি। “জগতের সকল কার্যই শ্রম-সাপেক্ষ। কায়িক পরিশ্রমেই শিল্পী ও বিজ্ঞানী উদ্ভাবনী শক্তিকে বাস্তব সত্যে পরিণত করিয়া উহাকে মানুষের মঙ্গলে নিয়োজিত করেন। মানসিক শক্তি ও কায়িক শ্রম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একের অভাবে অন্যটিও পঙ্গু হইয়া পড়ে। চিন্তা ও চেষ্টা, বুদ্ধি ও শক্তি, অর্থ ও সামর্থ্য পরস্পর যুক্ত হইলে এ-জগতে সকল কার্যই সিদ্ধ হইতে পারে।

মনীষী কার্লাইল বলিয়াছেন, “আমি মাত্র দুইটি লোককে সম্মান করি, সম্মানের যোগ্য তৃতীয় নাই। প্রথমত, আমার সম্মানের পাত্র ঐ কৃষক এবং শ্রমশিল্পী, যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করিয়া অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করিতেছেন, মানুষ হইযা মানুষের মত জীবন-যাপন করিতেছেন। ঐ যে আতপতপ্ত পাণ্ডুর বদনমণ্ডল, ঐ যে ধূলিধূসর দেহ, ঐ যে কর্ম-কঠোর কর্কশ করযুগল, উহাই আমার শ্রদ্ধার যোগ্য। দ্বিতীয়ত, আমার সম্মানের পাত্র তিনি, যিনি আত্মোন্নতি সাধন করিতে নিরত আছেন, যিনি শরীরে নয়, আত্মার খাদ্য সংস্থান, জ্ঞান-ধর্ম অনুশীলনে ব্যাপৃত আছেন—এই দুই ব্যক্তি আমার ভক্তিভাজন।”

শ্রমই উন্নতির মূল:

ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত বা জাতিগত সকল উন্নতির মূলেই রহিয়াছে শ্রম ও অধ্যবসায়। যে জাতি যত পরিশ্রমী সে জাতি তত উন্নতশীল। পৃথিবীর ইতিহাসে যে সকল জাতি উন্নতি করিয়াছে, তাহার মূলে আছে শ্রমশীলতা। ব্যক্তিগত পরিশ্রম হইতে সমষ্টিগত পরিশ্রমই জগতের বর্তমান সভ্যতা সৃষ্টি করিয়াছে। আজও মানুষের পরিশ্রমের বিরাম নাই। পাশ্চাত্য দেশসমূহ অন্যান্য জাতির উপর একমাত্র শ্রমশক্তি বলেই প্রভাব বিস্তার করিতে সমর্থ হইয়াছে।

জগতে যে মহাপুরুষেরা নিজেদের বা জাতির উন্নতি সাধন করিয়াছেন তাঁহারা সকলেই ছিলেন পরিশ্রমী। পৃথিবীতে যে সকল কীর্তি স্থাপন হইয়াছে তাহাদের মূলে রহিয়াছে মানুষের শ্রম ও অধ্যবসায়। অতএব যাহা মানুষের উন্নতির মূল তাহা হেয় হইতে পারে না; পরন্তু তাহা গৌরব ও মর্যাদার বস্তু ।

এটিও পড়ুন – উন্নয়ন বনাম পরিবেশ প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

জাতীয় জীবনে শ্রমের প্রয়োজনীয়তা :

আমাদের বেকার সমস্যা দূর করিয়া জাতীয় জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করিতে হইলে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ভিন্ন গত্যন্তর নাই। আজকাল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বহু শিক্ষিত লোক কর্মের অভাবে বেকার বসিয়া আছেন। বেকার সমস্যার প্রধান কারণ চাকরির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা। শিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই চাকরি প্রত্যাশী এবং কৃষি-শিল্পাদি কায়িক শ্রমজনক কার্যকে কুসংস্কারবশত হীন ভাবিয়া উহা করিতে অনিচ্ছুক। ইহা সত্যই আমাদের জাতিগত দুর্বলতার কারণ। কায়িক কর্মে কোন হীনতা নাই। আলস্য ও পরান ভৌজনেই হীনতা। কর্মমাত্রই মহৎ; কারণ কর্ম ব্যতীত লোকরক্ষা হয় না। কৃষি-শিল্পাদির কর্ম মহত্তম; কারণ ঐ সকল কর্মে ধন উৎপাদন হয়, চাকরি প্রভৃতি কর্মে ধন উৎপাদন হয় না; হস্তান্তর হয় মাত্র। উহাতে ব্যক্তি বিশেষের অর্থোপার্জন হয় বটে, কিন্তু দেশ ও জাতির ধন বৃদ্ধি হয় না। দেশের কৃষিজাত ও শিল্পজাত দ্রব্যাদি বিদেশে বস্তানি হইলে বহু অর্থাগম হইতে পারে। উহাতে দেশ ও জাতির উন্নতি নিহিত আছে।

উপসংহার :

আমাদিগকে অন্যান্য জাতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করিয়া কায়িক শ্রমের মর্যাদা দিতে হইবে। বৃথা আভিজাত্যের অহংকার ত্যাগ করিয়া পরিশ্রমকে মর্যাদার বস্তু বলিয়া গ্রহণ করিতে হইবে। পরিশ্রম না করিয়া হীন জীবন যাপন করার ন্যায় মারাত্মক অপরাধ আর কিছু নাই। যত তাড়াতাড়ি এ অপরাধজনক কাজ হইতে মুক্ত হওয়া যায়, ততই জাতির পক্ষে মঙ্গল। source: Internet

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button