Sunday, October 25, 2020
Othersপ্রবন্ধ রচনা

রূপসি বাংলা – নদ নদী ও পশুপাখি প্রবন্ধ রচনা

বাংলার পল্লি সমাজ সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা

রূপসি বাংলা – নদ নদী ও পশুপাখিঃ এই পোষ্টে রূপসি বাংলা – নদ নদী ও পশুপাখি প্রবন্ধ রচনা সুপ্রিয় ছাত্র ছাত্রীদের জন্য শেয়ার করা হল। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় রূপসি বাংলা – নদ নদী ও পশুপাখি দারুন কাজে আসবে। এর আগের পোষ্টে বাংলার একটি গ্রামের চিত্র প্রবন্ধ রচনা শেয়ার করা হয়েছিল দেখে নিতে পারো।   এটিও পড়ুন – ১০০+ ইংরেজি প্রবন্ধ রচনা সহজ ও সরল ভাষায় লেখা। 

রূপসি বাংলা : নদ নদী ও পশুপাখি

রচনা-সংকেত : ভূমিকা—দুই বিশিষ্ট অঙ্গ নদ নদী ও পশুপাখি-নদনদী বৈশিষ্ট্য—গঙ্গা ও পদ্মা—অন্যান্য নদনদী—গৃহপালিত জীবজন্তু-অরণ্যচারী পশু — নানাজাতের পাখি —উপসংহার ।

কোথায় ফলে সোনার ফসল— সোনার কমল ফোটে রে ?

সে আমাদের বাংলা দেশ আমাদেরি বাংলা রে।

ভূমিকা

বাঙালির জন্মভূমি বাংলা। যার দিগন্তপ্রসারী মাঠে কনকধান্যের সমারােহ, চন্দ্রাতপ মতাে নীল আকাশের উদার প্রশান্তি, ছায়াসুনিবিড় গ্রামগুলিতে জীবনযাত্রার সারল্য, গাভির হাম্বা রবে, কোকিল, বউ কথা কও-এর মধুর ডাকে প্রকৃতি-অঙ্গন মুখরিত, সেই বঙ্গভূমি হল রূপময়ী বাংলা, রূপসি বাংলা। এই বাংলার প্রকৃতিতে ‘ছয় ঋতু ফিরে ফিরে নৃত্য করে আসি’। এখানে দিনের প্রথম সূর্য আকাশগাঙে সােনা রােদের বান ডাকায়, দিবাবসানে শান্ত অনুগত নীল সন্ধ্যা নামে কেশবতী কন্যার মতাে। এখানে

প্রকৃতির রূপমুগ্ধ কবি দেখেন মাঠে-প্রান্তরে ‘বিজন ঘাস’, ‘প্রান্তরের পারে/নরম বিমর্ষ চোখে চেয়ে আছে— নীল বুকে আছে তাহাদের ঘাসফড়িঙের নীড়, কাঁচপােকা, প্রজাপতি, শ্যামাপােকা ঢের।

দুই বিশিষ্ট অঙ্গ নদ নদী ও পশুপাখি

রূপসি বাংলার প্রকৃতি জগতের দুই বিশিষ্ট অঙ্গ নদনদী ও পশুপাখি। বাংলার ভূপ্রকৃতিগত যে ভৌগােলিক অস্তিত্ব, তা প্রধানত নদনদীর দান। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ও তাদের উপনদী-শাখানদীবাহিত পলিমাটির প্রলেপে বঙ্গভূমির উদ্ভব। এপার-ওপার বাংলা নিয়ে যে বৃহত্তর বঙ্গভূমি তা নদীমাতৃক ভূ মি—‘নদী জপমালা ধৃত প্রান্তর-ভূমি। আর রূপময়ী বঙ্গপ্রকৃতির বুকে যে প্রাণের মেলা, বিচিত্র কলধ্বনিতে যে ঐকতান, প্রাণস্পন্দনে মুখরিত ওই যে বিচিত্র জীবজগতের জীবন নাট্য, সবকিছুতে যাদের ভূমিকা, তারা বাংলার প্রকৃতির পশুপাখি। বাংলার ভূ প্রাকৃতিক গঠন আর জল হাওয়ার সরসতা ওদের চেহেরায়, রুপে- রঙে- স্বভাবে ও গলার স্বরে এনেছে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য।

ভারতের দর্শনীয় স্থান

নদনদীর বৈশিষ্ট্য

মানবসভ্যতার আদিলগ্ন থেকে নদীর সঙ্গে মানুষের গভীর সখ্য সম্পর্ক। নদী যেন মানবাত্মার পরম আত্মীয়। বঙ্গভূমি নদ নদীকে ঘিরে বাঙালি জীবনচর্যা দেখা গেছে একই রীতি ও বৈশিষ্ট্যের হুবহু অনুবর্তন। নদনদীর গতিচল ছন্দের সঙ্গে বাঙালির জীবনছন্দটি অপূর্ব সুর-তাল-লয়ে বাঁধা। নদীর বিচিত্র খেয়ালিপনায় বাঙালির স্বভাবে কঠোরতা ও কোমলতার সমাবেশ। দৈনন্দিন জীবনের ঘনিষ্ঠ বাঁধনে সম্পৃক্ত বলেই বাঙালি নদনদীর নামও রেখেছে রূপ-রং-কল্পনার মিশ্রণে অপূর্ব সুন্দর করে। তিস্তা তাের্সা-করতােয়া-জলঢাকা, পিয়ালি-ভরলী-বিদ্যাধরী, অজয়-দামােদর-রূপনারায়ণ, মেঘনা-পদ্মা-ধলেশ্বরী, ইছামতী কালিন্দী-রায়মঙ্গল—মাধুর্যে ও কাব্যিক সুষমায় প্রতিটি নাম অনবদ্য।

গঙ্গা ও পদ্মা

‘গঙ্গাহৃদি-বঙ্গভূমি গঙ্গার প্রধান প্রবাহ। এপার বাংলায় গঙ্গা আর ওপার বাংলায় পদ্মা। একই প্রবাহের দ্বৈতনাম। হিমালয় পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত অসংখ্য জলধারা গঙ্গা ও পদ্মার যেমন উপনদী, আবার গঙ্গা-পদ্মা থেকে বহির্গত তেমনি বহু জলধারা উভয় নদীর শাখানদী। উপনদী ও শাখানদী নিয়ে গঙ্গা-পদ্মার বিশাল ও মহিমাময় রূপের সঙ্গে বাঙালি চির-পরিচিত। বাঙালির আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে এই দুই নামীয় প্রবাহের অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক।

অন্যান্য নদনদী

উত্তরবঙ্গের তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, মহানন্দা, জয়ন্তী, রায়ডাক প্রভৃতি নদ নদী হিমালয়-নিঃসৃত বৃষ্টির জলে নয়তাে বরফগলা জলে সতত পুষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় ভূমির অজয়, দামোদর, ময়ূরাক্ষী,ব্রাহ্মণী, কোপাই, শিলাবতী, কংসাবতী প্রভৃতি নদ নদীর উৎস মালভূমি অঞ্চলের অনুচ্চ পাহাড় পর্বত। কেবল অতিবর্ষণে এদের প্রমত্ত সংহারমূর্তি, বছরের অবশিষ্ট দিনগুলিতে শান্ত শ্রী। দক্ষিণবঙ্গে সপ্তমুখী, রায়মঙ্গল, মাতলা, বিদ্যাধরী, গােসাবা, কালিন্দী প্রভৃতি জোয়ারভাটার সত্য প্রবাহে বিচিত্র প্রাণচঞ্চল, দু-তীরে অরণ্যের শ্যামশােভা বিস্তারে অপূর্ব রূপময়ী।

গৃহপালিত জীবজন্তু

নদ নদী অধ্যুষিত বঙ্গ প্রকৃতির বুকে হরেক পশুপাখির মেলাও নয়নাভিরাম। প্রথমে গৃহপালিত জীবজন্তুর দিকে দৃষ্টি ফেরানাে যাক। স্নেহ-মায়ামমতার ডােরে অনেক জীবজন্তুই বাঁধা পড়েছে বাংলার ঘরে ঘরে। গােরু, মােষ, ছাগল, ভেড়া, গাধা, কুকুর, বিড়াল—ওদের কে না চেনে ? গ্রামবাংলার কুটির আঙিনায় গিয়ে দাঁড়ালেই ওরা চোখে পড়ে। এই গৃহপােষ্য প্রাণীগুলি যেমন সহজে পােষ মানে, তেমনি নিত্য জীবনের হরেক উপকারে আসে ওরা। গােরু-মােষ লাঙল টানে, গাড়ি বয়, দুধ দেয়। ছাগল-ভেড়াও দুধ জোগায়। মাংসের জোগান দেয়। গাধা পিঠে করে মাল বয়। অনেকে শৌখিন বিলাসে কুকুর-বিড়াল পােষে। কুকুর শুধু প্রভুভক্ত নয়, সে পরিবারের সদাজাগ্রত প্রহরী।

অরণ্যচারী পশু

গৃহপালিত ছাড়াও অরণ্যের অবাধ স্বাধীনতায় বাস করে নানা জাতের জীবজন্তু-হরিণ, হাতি, হায়না, ভালুক, চিতাবাঘ, নেকড়ে বাঘ প্রভৃতি। কেউ তৃণভােজী কেউ বা মাংসাশী। কেউ হিংস্র তাে কেউ অহিংস্র। হিমালয়ের পাদদেশে তরাই ও ডুয়ার্স অরণ্যে বাস করে হাতি, নেকড়ে, চিতাবাঘ। পুরুলিয়া, বীরভূম, বর্ধমান, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর জেলার মালভূমি অঞ্চলে দেখা যায় হরিণ, সজারু, ভালুক প্রভৃতি। সুন্দরবনে সদর্পে রাজত্ব করে বাংলার গর্ব দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার’। তা ছাড়া বাংলার গ্রামে গ্রামে দেখা যায় শিয়াল নামে অতি চতুর ও বুদ্ধিমান জটি, যার ‘হুক্কা হুয়া’ ডাকের সঙ্গে সকলেই পরিচিত।

নানা জাতের পাখি

বাংলায় কত জাতের পাখিই না বাস করে। তাদের চেহারা, রং, স্বভাব সবই বিচিত্র। কাক, কোকিল দেখতে কালাে, কুৎসিত। কাকের গলা খুব কর্কশ। কোকিল ডাকে মধুর সুরে পঞ্চমে। গৃহস্থের আঙিনায় অবাধ আনাগােনা শালিকের। ফিঙের নাচ, রাজহাঁস-পাতিহাঁসের জল কেটে ভেসে যাওয়া, শেষ বেলায় বকের নিরুদ্দেশ যাত্রা, বুলবুলির চুরি করে ধান খাওয়া, রাতে লক্ষ্মী পেঁচার ডাক, ঘুঘুর ক্লান্ত স্বর, পায়রার বকবকম, বাজ, চিল আর শকুনের চক্কর দিয়ে ওড়া-গ্রামীণ মানুষের অতি চেনাজানা বিষয়। তা ছাড়া আছে টিয়া, দোয়েল, পাপিয়া, শ্যামা, বউ-কথা-কও প্রভৃতি গায়ক পাখির দল। মাছের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় বক, মাছরাঙা, জলপিপি আর পানকৌড়ি।

উপসংহার

মানুষের আর্থিক ও ব্যাবহারিক প্রয়ােজনে বাংলার নদ নদী এখন বিভিন্ন প্রকল্পের বাঁধনে বাঁধা পড়ছে। একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ পশুপাখিদের নির্বিচারে হত্যা করছে। নদনদীর অস্তিত্ব রক্ষা করতে ও পশু পাখির বংশধারা অক্ষুন্ন রাখতে সদাসতর্ক ও সজাগ দৃষ্টি রাখা অত্যাবশ্যক। সুখের কথা, সম্প্রতি নানা ‘অভয়ারণ্য’ ও ‘পক্ষী আলয় সরকার গড়ে তুলেছেন। পশুপাখির প্রতিটি প্রজাতির অস্তিত্বর করাই হল এজাতীয় প্রকল্প রূপায়ণের সার্থকতা।

সোর্স- বানী সংসদ

Leave a Response