উৎসব

2022 বুদ্ধ পূর্ণিমা সময় ও ক্যালেন্ডার

বুদ্ধ পূর্ণিমা কী এবং কেন? বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য

বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা (Buddha Jayanti or Buddha Purnima) হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম প্রধান উৎসব। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। বৈশাখী পূর্ণিমা দিনটি বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত। এই পবিত্র তিথিতে বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। এই দিনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীগণ স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। ভক্তগণ প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেন, ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরগৃহ সুশোভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হন। এছাড়া বুদ্ধগণ এই দিনে বুদ্ধ পূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেত প্রার্থনা করে থাকেন।

2022 বুদ্ধ পূর্ণিমা সময় ও ক্যালেন্ডার

উৎসবের নাম তারিখ
বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ জয়ন্তী
বুদ্ধপূর্ণিমা সময় ও ক্যালেন্ডার
১৬ শে মে, ২০২২, সোমবার

বুদ্ধপূর্ণিমা শুভ মুহূর্ত

পূর্ণিমা তিথি শুরু -১৫ শে মে ২০২১ রবিবার 12:45 PM  থেকে
পূর্ণিমা তিথি শেষ – ১৬ শে মে ২০২২, সোমবার 09:43 AM পর্যন্ত।

2021 বুদ্ধ পূর্ণিমা সময় ও ক্যালেন্ডার

উৎসবের নাম তারিখ
2021 বুদ্ধ পূর্ণিমা সময় ও ক্যালেন্ডার ২৬ শে মে, ২০২১

বুদ্ধ পূর্ণিমা শুভ মুহূর্ত

পূর্ণিমা তিথি শুরু -২৫ শে মে ২০২১ মঙ্গলবার 08:29 PM (সন্ধ্যা)
পূর্ণিমা তিথি শেষ – ২৬ শে মে ২০২১, বুধবার  04:43 PM (বিকাল) পর্যন্ত।

বুদ্ধ পূর্ণিমা কী এবং কেন?

গোটা দুনিয়া জুড়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং হিন্দুরা গৌতম বুদ্ধের জন্ম বুদ্ধ জয়ন্তী হিসাবে উদযাপন করে। 563 খ্রিষ্টাব্দে নেপালের লুম্বিনিতে পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধের রাজপুত্র সিদ্ধার্থ গৌতম হিসাবে জন্ম হয়েছিল। সুতরাং, তাঁর জন্মবার্ষিকীর দিনটি বুদ্ধপূর্ণিমা বা বুদ্ধ জয়ন্তী বা বৈশাখী পূর্ণিমা বা ভেসাক নামেও পরিচিত। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, জাভা, ইন্দোনেশিয়া, তিব্বত, মঙ্গোলিয়া একটি বিস্তৃত উৎসবের মধ্য দিয়ে বুদ্ধজয়ন্তীর বিশেষ দিনটিকে ‘ভেসাক’ উৎসব হিসাবে স্মরণ করে।

এটিও পড়ুন – 2022 বুদ্ধ পূর্ণিমা সময় ও ক্যালেন্ডার

বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য

কঠোর ধ্যানমগ্নে থাকতে থাকতে সন্ন্যাসী সিদ্ধার্থের সমস্ত শরীর এক চর্মাবৃত কঙ্কালে পরিণত হলো। এতেও তার অভীষ্ট লক্ষ্য সিদ্ধ হচ্ছে না, তখন তিনি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে আবার ধ্যানেরত হলেন। সন্ন্যাসী সিদ্ধার্থ অভিনব সাধনা পদ্ধতি অবলম্বন করে হৃত স্বাস্থ্য ফিরে পেলেন। বৈশাখীর শুক্লপক্ষের চাঁদ যতই বাড়তে শুরু করল ততই আসন্ন সিদ্ধিলাভের পুলকস্পর্শে তার হৃদয় দ্রবীভূত হচ্ছে। সেদিন ছিল বৈশাখী পূর্ণিমার চতুর্দশ তিথি।

বুদ্ধ পূর্ণিমার গুরুত্ব

বৈশাখী পূর্ণিমার তিথিতে সূর্যোদয়ের পর স্নান করে শ্রী শ্রী বিষ্ণুর পুজো করা হয়। এদিন ধর্মরাজের পুজো করারও রীতি বেশ প্রচলিত আছে। সত্যবিনায়ক ব্রত করলে ধর্মরাজ প্রসন্ন হন। ধর্মরাজ যম হল মৃত্যুর দেবতা। তাই যমকে প্রসন্ন করলে অকাল মৃত্যুর যে ভয়, তার থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। সাধারণত পূর্ণিমার দিনে তিল ও চিনির দান শুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে অজান্তে হওয়া হওয়া পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button