পত্র রচনাবিজ্ঞান

বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাও বাবা মা চাইছে ডাক্তারি পড়াতে এ অবস্থায় তােমার মনােভাব জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি

উচ্চমাধ্যমিকের পাশ করার পর তুমি বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়তে চাও? কিন্তু তোমার পিতা মাতা চায় ডাক্তারি পড়াতে! এমতবস্থায় তোমার মনোভাব জানিয়ে বন্ধুকে পত্র লিখ? 

বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে: উচ্চমাধ্যমিকের পাশ করার পর তুমি বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়তে চাও? কিন্তু তোমার পিতা মাতা চায় ডাক্তারি পড়াতে! এমতবস্থায় তোমার মনোভাব জানিয়ে বন্ধুকে পত্র লিখ?  অথবা তুমি চাইছ উচ্চমাধ্যমিকের পর বিজ্ঞান নিয়ে পড়বে, বাবা মা চাইছে তােমাকে ডাক্তারি পড়াতে। এ অবস্থায় তােমার মনােভাবের কথা জানিয়ে তােমার বন্ধুকে চিঠি লেখাে। অথবা- বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়তে চেয়ে তোমার মতামত জানিয়ে বন্ধুকে পত্র লিখ। অথবা বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাও বাবা মা চাইছে ডাক্তারি পড়াতে এ অবস্থায় তােমার মনােভাব জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি  [ ইংরেজি প্রবন্ধ, চিটি ও প্যারাগ্রাফ পড়তে পারেন এখানে ]

বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাও! জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি।

রায়গঞ্জ, দক্ষিন দিনাজপুর

১৩ এপ্রিল, ২০২০

প্রিয়বরেষু

আশিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ। তাের পরীক্ষা কেমন হয়েছে এখনও জানতে পারিনি। সত্বর জানাবি। আমার পরীক্ষা মােটামুটি ভালােই হয়েছে। শুধু বাংলা দ্বিতীয় পত্রে সাহিত্যের ইতিহাসের প্রশ্নোত্তরে একটা ছােট্ট ভুল করে ফেলেছি। সেই নিয়ে মনে একটুখানি অস্বস্তি রয়ে গেছে। তবে তাতে নম্বরের খুব বেশি হেরফের হবে বলে মনে হয় না।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার সামনে অন্য একটা সমস্যা হাজির হয়েছে। সেটি হল, এর পর কী নিয়ে পড়ব। আমার মা-বাবা চাইছেন আমি ডাক্তারি পড়ি। এটা নাকি ওদের অনেকদিনের স্বপ্ন। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার দিকে আমার তেমন আগ্রহ নেই। মা-বাবা আমাকে বােঝাতে চাইছেন, আমি যদি ডাক্তার হই তাহলে উপার্জনের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সমাজসেবাও করতে পারব। এ কথার যাথার্থ্য আমি স্বীকার করি। আমাদের দেশে সামাজিক দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন চিকিৎসকের খুবই প্রয়ােজন। ডাক্তারি পাস করে যারা সেবার আদর্শকেও মনে রাখেন তারা আমার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। চিকিৎসকের বৃত্তি নিঃসন্দেহে একটি মহান বৃত্তি। তবু সবার তাে সব দিকে প্রবণতা ও আগ্রহ থাকে না। আর তা না থাকলে অন্যের ইচ্ছায় কোনাে পেশাকে নির্বাচন করা উচিত নয় বলে মনে করি। আমিও কোনােদিনই ডাক্তার হবার কথা ভাবিনি। বিজ্ঞানের অধ্যাপনা ও গবেষণাই আমার ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্ন। বলতে পারিস এটাই আমার জীবনের লক্ষ্য।

আশিক, তুই তাে জানিস, ছােটবেলা থেকেই আমি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কাহিনি আর দেশবিদেশের বিজ্ঞানীদের জীবনী পড়তে কীরকম ভালােবাসি! বিশেষ করে আমার বেশি আগ্রহ পদার্থবিদ্যায়। পদার্থবিদ্যার প্রসঙ্গ নিয়ে আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারি। আমার পড়ার ঘরে সযত্নে টাঙিয়ে রেখেছি আইনস্টাইন আর সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ছবি। কিছুদিন আগে স্টিফেন হকিং যখন এদেশে এসেছিলেন, তখন তাকে একবার চোখে দেখবার জন্য আমি যে কীরকম ছটফট করেছি, তা তােকে বলে বােঝাতে পারব না। কিন্তু সে সুযােগ আমার হয়নি। তবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাকে নিয়ে যেসব লেখা বেরিয়েছিল, সেগুলি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। এতদিনে আমি বুঝতে পেরেছি পদার্থবিদ্যাই আমার স্বপ্ন, আমার সাধনা। এছাড়া অন্য কোনাে বিষয় নিয়ে পড়তে গেলে আমি তাতে নিজেকে উজাড় করে দিতে পারব না। বরং সেক্ষেত্রে হয়তাে প্রশ্রয় পাবে আত্মপ্রতারণা। অথচ এই কথাটা কিছুতেই মা-বাবাকে বুঝিয়ে উঠতে পারছি না। ওঁরা ভাবছেন ডাক্তারি না পড়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনাে করলে আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে। মা তাে আজ বলেই ফেললেন, ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে বি.এস-সি., তারপর এম.এস-সি. পাস করে কী হবে? চাকরি জোটাতে হিমশিম খেতে হবে।

মায়ের এই কথাটা যে একেবারে অমূলক, তা নয়। তবু আমি বিশ্বাস করি, কেউ যদি কোনাে বিষয়ের অধ্যয়নে মনপ্রাণ ঢেলে দেয়, তাহলে একদিন-না-একদিন সাফল্য সে পাবেই। আমার দৃঢ় ধারণা, পদার্থবিদ্যা নিয়ে উচ্চতর অধ্যয়নের সুযােগ পেলে। আমি নিজের যােগ্যতা প্রমাণ করতে পারব। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে সেই আত্মপ্রত্যয় আমার নেই। সেজন্যই আমি মনে মনে ভেবে রেখেছি, উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে একটি ভালাে কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হব। এখনও পর্যন্ত মা-বাবা আমার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন না। কিন্তু আমিও হাল ছাড়ার পাত্র নই। ক্রমাগত বুঝিয়ে যাচ্ছি। যেভাবেই হােক মা-বাবাকে রাজি করাতেই হবে। দু-একদিনের মধ্যে আমেদাবাদ থেকে আমার কাকু আসছেন। ভাবছি কাকুকে দিয়ে মা-বাবাকে বােঝানাের চেষ্টা করব। পারলে আমার প্রবণতার কথা জানিয়ে তুইও আমার মাকে একটা চিঠি লেখ না। আমি জানি, মা তাের কথায় বেশ গুরুত্ব দেন।

যাই হোক, আর কথা বারাছি না, আমার সিদ্ধান্ত তো জানতে পারলি। তোর ইতিহাস নিয়ে পড়াই ঠিক তো। সব জানিয়ে চিঠি লিখিস। ভালোবাসা রইল।

ইতি –

তোর কনক

 

প্রেরক

অনীশ সাহা

প্রযত্নে- শচীন্দ্র নাথা সাহা

চন্ডিতলা, রায়গঞ্জ

উত্তর দিনাজপুর

ডাকটিকিট

প্রপক

আশিক রায়

প্রযত্নে – কুলেন্দ্র নাথ রায়

কুশমণ্ডি, দক্ষিণ দিনাজপুর, ৭৩৩১৩২

এটিও পড়ুন – উন্নয়ন বনাম পরিবেশ প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

ট্যাগঃ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাও জানিয়ে বন্ধুকে পত্র? কেন বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাও জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button