রূপচর্চাস্বাস্থ্য

চুলের যত্ন ও চুলের রোগ প্রতিরোধের উপায়

চুলের রোগ ও চুলের যত্ন

চুলের যত্ন ও চুলের রোগ : খোলা চুল তুমি বলে দাও, কেনো মুগ্ধ না হবে কেউ তোমার মায়ায়? চুল শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না ভালবাসাও বৃদ্ধি করে। চুলকে ভালো রাখার জন্য আমরা কতই না উপায় অবলম্বন করে থাকি? তাই চুলের যত্ন ও চুলের রোগ প্রতিরোধের সঠিক উপায় কি? কিভাবে চুলের যত্ন করলে চুল ভালো থাকবে তার উপায় শেয়ার করা হল।

চুল অন্তস্ত্বক বা ত্বকের বহিঃস্তরে অবস্থিত ফলিকল থেকে উৎপন্ন চিকন লম্বা সুতার মতোন প্রোটিন তন্তু। শুধুমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে পাওয়া যায় বলে চুল স্তন্যপায়ী প্রাণীর একটি নির্দেশক বৈশিষ্ট্য। চুলের প্রধান উপাদান হচ্ছে কেরাটিন।

চুলের রোগ ও চুলের যত্ন

চুলের রোগে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। যেমন, চুলের আগা ফেটে যেতে পারে, চুল উঠতে থাকে, চুলে জট পাকিয়ে যেতে পারে, চুলে উকুন হয়ে থাকে, অসময়ে চুল পেকে যেতে পারে ইত্যাদি। এগুলির পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকে। যেমন, দীর্ঘদিন ধরে কোন রোগে ভুগলে, চুলের অযত্ন, ভেজাল তেল বা শ্যাম্পুর ব্যবহারে, পেটের রোগে দীর্ঘদিন ভুগতে থাকলে। সর্বপরি প্রচণ্ড মানসিক টেনশন থেকেও চুলের রোগ হয়ে থাকে।

  • অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশুদ্ধ তেল, শ্যাম্পু ব্যবহার করা, চুলের আগা মাঝে মাঝে ছেটে নেওয়া মাথায় হাল্কা ম্যাসাজ করা, ঠাণ্ডা জলে স্নান করা, স্নানের পর চুল ভাল করে মুছে শুকিয়ে নেওয়া চুলকে সজীব রাখে।
  • চুলের পুষ্টির জন্য কারিপাতা নারিকেল তেলে আধঘন্টা ফুটিয়ে ঐ তেলটি মাথায় লাগাতে হবে।
  • পেয়ারার রস চুলে লাগালে চুলের পুষ্টি হয়।
  • যাদের চুল তৈলাক্ত তারা জলে কয়েকটা চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর ওই জলে একটি গোটা লেবুর রস মেশান। জলটি ঠাণ্ডা হলে শ্যাম্পু করার পর এই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
  • যাদের চুল পেকে যাচ্ছে তারা সিলারি পাতা এক মুঠো নিয়ে জলে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে তাতে একটি গোলা লেবুর রস দিয়ে সেই জলে মাথা ধুয়ে বিশেষ উপকার হবে।
  • রাত্রে শোয়ার আগে আমলা ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে মাথায় লাগালে চুল পাকার হাত থেকে অনেকটা উপকার পাওয়া যাবে।
  • যাদের চুল অনুজ্জ্বল তারা মাথায় নারকেলের দুধ লাগালে চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে পাবেন।
  • মাথায় খুস্কি হলে দুই চামচ মেথি রাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান। মাথায় খুস্কি সারাতে টক দই লাগিয়ে আধঘন্টা ধরে হাল্কা মালিশ করুন।
  • মৌরি ভিজিয়ে রেখে বেটে মাথায় লাগালে খুস্কি সারে। চুল বড় করতে।
  • শুকনো আমরা শুদ্ধ নারিকেল তেলে ফুটিয়ে সেই তেলটি প্রত্যেক রাতে শোওয়ার আগে লাগান। সকালে ধুয়ে ফেলুন ইহা চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লিভারের সঙ্গে রূপের সম্পর্ক নিবিড়। তাই লিভার যাতে ভাল থাকে সে দিকে বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। লিভার ভাল হলে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

সকালে খালি পেটে কালমেঘ, উচ্ছের রস, চিরতার রস যে কোন একটি নিয়মিত খেলে লিভার ভাল থাকে। এছাড়া পেঁপে, গাঁদাল পাতা, পলতা পাত খাওয়া খুবই উপকারি। তাছাড়া তাড়া শাক সবজি, নারিকেল, বাদাম ও বাদাম জাতীয় খাবার খেলে লিভার তথা সৌন্দর্য রক্ষা হয়।

এটিও পড়ুন – চুলের বিভিন্ন সমস্যা এবং সমাধানের গোপন উপায়। 

চুলের যত্ন ও রূপচর্চার ক্ষেত্রে ডিম :

ডিম চুলের কন্ডিশনারের কাজটি উত্তমরূপে সমাধা করে। সৌন্দর্য রক্ষার বিশেষ, কার্যকরী একটি উপাদান হল ডিম। ডিম হল ন্যাচারাল ব্লিচ। ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং টানটান রাখে। সেই কারণে ডিম মাখলে ত্বক নরম ও মসৃণ হয়। ডিমের সাদা অংশটি ব্রণ পরিষ্কার করতে বিশেষ কার্যকারী। ডিমের সাদা অংশটা মধু ও গ্রাউণ্ডবার্লির সাথে মিশিয়ে ফেসমাস্ক তৈরি করা যায়। এটির রূপচর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী।

এগুলিও পড়তে পারেন -

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

twenty − 10 =

Back to top button