পরীক্ষার রুটিনইংরেজিtechnologyঅনলাইন ক্যারিয়ারউচ্চ মাধ্যমিকউচ্চ মাধ্যমিক সাজেশনপড়াশোনাবাংলা ব্যাকরণ

ভালো ছাত্র-ছাত্রী হয়ে ওঠার গোপন টিপস ১০০% সত্যি

ভালো ছাত্র কে না হতে চায়! কিন্তু সারাক্ষন শুধু বই নিয়ে থাকলে কি ভালো ছাত্র হওয়া জায়? না যায় জায়না, তার জন্য চাই সঠিক কিছু পদ্ধতি মেনে চলা। পড়াশোনায় একজন ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় অনেক। তার মধ্যে সহজতর পদ্ধতিগুলো জানা থাকলে যে কোন একজন ছাত্রই হয়ে উঠতে পারেন ভাল ছাত্র।প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত অনেক দামী আর বৈচিত্রময়। তাই এই মুহুর্তগুলোকে কাজে লাগানোই হচ্ছে প্রতিভাবান লোকেরদের কাজ। ছাত্র জীবনেও এরকম একটি ছকে বাঁধা জীবন নয় বরং বৈচিত্রময় একটি কাল অতিক্রম হয়।একে অনেক ছাত্র-ই সাজিয়ে ফেলেন নিজেদের মত করে। যার ফলাফল নিশ্চিত ভাল রেজাল্ট।আর এই আয়োজনের নাম হল- প্রতিদিনের রুটিন অথবা ডেইলি রুটিন।ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় কতগুলি মৌলিক উপাদান কে।তার মধ্যে একটি অবশ্যই ডেইলি রুটিন।এর মাহাত্ম আছে যে কোন খারাপ ছাত্রকেই ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় বাতলে দিতে পারে। ভাল ছাত্র হবার সুবিধা অনেক। সেই সব সুবিধের কথা জানেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। তাই কথা না বাড়িয়ে চলে যাই কিভাবে ভাল ছাত্র যায় সে বিষয়ে।

ডেইলি রুটিন (Daily Routin):

সময়ের সাথে সবচাইতে বেশি সঙ্গতিপুর্ন হল প্রতিদিনের রুটিন। এই রুটিনের মধ্যে খেয়াল রাখতে হবে সপ্তাহের সব দিনে টোটাল বিষয় সমুহ এসেছে কি না। যদি না আসে তবে সে অনুযায়ী সাজাতে হবে। প্রত্যেক সপ্তাহের কাজ সপ্তাহেই শেষ করতে হবে। পাঠ্যসুচীতে যা কিছু আছে তার সবটাই ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রথম কাজ। যে সকল ছাত্রছাত্রি একটি সুন্দর রুটিন মেনে চলে সে ভাল না হয়ে পারেনা। দিনের প্রত্যেক ক্ষুদ্রাংশকেও ভেঙ্গে সাজাতে হয়।

যেমন – ধরুন ভোর ৫ টা থেকে ৬ টা ইংরেজি পড়া, ৬ টা থেকে ৭ টা সময় পর্যন্ত সায়েন্স গ্রুপ পড়া ইত্যাদি ইত্যাদি এভাবে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে হবে।

প্রতি দশ মিনিটের জন্য একটি কাজ করা যেতে পারে আর তার রেজাল্ট মাসের শেষে মিলিয়ে দেখলে এমনিতেই ডেইলি রুটিনের গুরুত্ব বুঝা যাবে।

একটি উদাহরনের কথা মনে পড়েছে। সেটা এই রকম- একটি ট্রেন চালানোর জন্যে প্ল্যাটফর্ম ত্যাগ করার আগে রেল মাষ্টার অর্ডার দিলেন যে আজ আরো পাঁচটি বগি এই ট্রেনের সাথে জুড়ে দেয়া হবে তার কারন যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। যেমন হুকুম তেমন কাজ, কিন্তু এই কাজের জন্য সময় দরকার। পেছনের ট্রেন খানা কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে আসবে, তবু মাষ্টার কাজটি করলেন। এর মাঝে পেছনের ট্রেন চলে আসায় তিনি লাইন ম্যান দিয়ে আটকে দিলেন এবং এই ট্রেন ছাড়ার পর পেছনের ট্রেন ফ্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করালেন।

ডেইলি রুটিনের সাথে এই উদাহরনের একটা ছোট্র মিল আছে। প্রথমত – রুটিন করে ফেলার পর অবশ্যই অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিয়ে সেটা দক্ষ ষ্টেশন মাষ্টারের ন্যায় পরিচালনা করতে হবে। একটি ডেইলি রুটিন শুরু হতে পারে ঘুম থেকে উঠার পরপর-ই। এটা সকালে যে কোন মুহুর্ত হতে পারে। তবে সুর্য উঠার আগে হলে ভাল হয়। কারন এই সময়ে শরীরের ইন্দ্রীয়গুলো ভাল কাজ করে। ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় হিসেবে এই রুটিন একটি ট্রেনের ইঞ্জিনের চেয়ে বেশি বড় ভুমিকা রাখতে পারে।

সময়কে ভাগ করে নেয়ার পর তা দিয়ে দিনের একেক টী কাজ পরিপুর্নভাবে সম্পন্ন করতে পারাই রুটীনের কাজ। যদি ব্যর্থ হয় তবে রুটিন করার মূল্যটা থাকলই না । তাই একটি রুটিন কখনোই এলোমেলো হতে পারেনা সফলতার জন্যে।

সময় পরিকল্পনাঃ

একটি দৈনিক রুটীনের মাঝে এমন ভাবে সময় প্ল্যান করতে হবে যেন বোরিং না আসে। পড়ার সময় খুব বেশি যেন না হয়। দিনে ৬/৭ ঘন্টার বেশি পড়া উচিত না। বেশি পড়লেই ভাল হয় না। ভাল করে পড়লে কম পড়াই যথেষ্ট। তবে মেধানুসারে ৬/৭ঘন্টা থেকে আরো বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু মনে রাখা উচিত সেই বাড়তি সময় যেন মনের উপর প্রভাব না ফেলে।

ডেইলি নোটঃ

যদি নোট করার অভ্যেস না থাকে তবে আজি তা আয়ত্ব করুন। নোট এমন একটি ব্যাপার যা না করলে কখনোই তেমন কিছু মনে রাখা সম্ভব নয়। যে কোন কঠিন বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করলেও একটি নোটের মাধ্যমে তা সহজ করে ফেলা যায়। জটীল বিষয়ের জটিল পয়েন্টসগুলো লিখে রাখাই ভালো। বিশেষ করে ইতিহাসের সাল ও তারিখ।
নিয়মিত ক্লাসঃ

ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকাটা আবশ্যক। প্রতিদিনের মত যদি ক্লাসে উপস্থিত না থাকা যায় তবে সেই অনুপস্থিত ক্লাসের পড়াটাও সংগ্রহ করা উচিত। শিক্ষকের সাথে একই সময়ে যে পাঠ চর্চা করা হয় তা সাথে সাথেই বোধগম্য হয়ে যায়। নিয়মিত ক্লাস করার সুবিধা অনেক।

পড়া পড়া এবং লেখাঃ

কথায় বলে “লেখাপড়া” পড়ার আগে যদি কোন বিষয়কে লেখা হয় তাহলে বেশ ভালো। তবে পড়ার কোন বিলল্প নেই। কেবল কোন কিছু না বুঝে শুধু পড়াই নয়, বুঝে শুনে পড়া। কোন কিছু মগজে না ঢুকতে চাইলে তা চটপট লিখে ফেলা উচিত। লিখতে গেলে বিষয়টা খুব ভাল ভাবে মনে থাকে এবং অনেক দিন সেই পড়াটি মনে থাকে। তাই প্রথম চেষ্টা হচ্ছে পড়া, তার পরের চেষ্টাও পড়া এবং সবশেষে লিখে চেষ্টা করা।

এছাড়াও যদি বিষয়টি পড়া শেষ হয়ে যায় তারপর আবার নতুন করে লিখে দেখা যেতে পারে যে ঐ বিষয়টি আসলেই আয়ত্ব হয়েছে কি না।

হ্যাঁ আরেকটি কথা মুখস্থ করা বিষয় গুলি যদি সাত দিন অন্তর অন্তর একবার করে লেখা যায় তাহলে তো আর পড়া ভুলে যাবার কোন কথায় নেই।

ভালো ছাত্র ছত্রী হবার গোপন টিপস পর্ব ২ অতি শিগ্র পাবলিশ হবে তক্ষণে সঙ্গে থাকুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button