ইংরেজিভাবসম্প্রসারণস্বাস্থ্য

রূপচর্চায় অ্যালোভেরার চমৎকার কিছু ব্যবহার #১ টিপস

A  অতীত থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের একটি জনপ্রিয় উদ্ভিদ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী। অ্যালোভেরা পাতায় আঠালো ও থকথকে জেলীর ন্যায় পদার্থ থাকে যা সৌন্দর্য রক্ষায় অতুলনীয়। চলুন জেনে নিই রূপচর্চায় অ্যালোভেরার চমৎকার কিছু ব্যবহারঃ

১। হিলিং ফেস মাস্ক
অ্যালোভেরার জেল শুধুমাত্র ব্রণ বা মেছতার দাগই দূর করে না, একই সাথে ত্বককে আদ্রতাও প্রদান করে। এজন্য তৈরি করুন হিলিং ফেস মাস্ক। এটি তৈরি করা খুবই সহজ। ১-২টি অ্যালোভেরা পাতার অর্ধেক অংশের জেল বের করে নিন। এর সাথে কিছুটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন যদি আপনি ভালো ঘ্রাণ পেতে চান। শুধু অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২। ফেস ওয়াশ
১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে ১ টেবিল চামচ আমন্ড দুধ এবং ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। কয়েক মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই ফেস ওয়াশটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য খুবই উপকারী।

৩। ফাটা দূর করে
শীতে প্রায় সবারই ত্বক ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। অ্যালোভেরা জেলের সাথে অলিভ অয়েল এবং মধু মিশিয়ে ফাটা ত্বকে লাগান। এতে শুধু ত্বকের আদ্রতাই ফিরে আসবে না, ইনফেকশন থেকেও ত্বক রক্ষা পাবে।

৪। মেকাপ রিমুভার
অধিকাংশ আই মেকাপ রিমুভার রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাই এ ধরণের প্রোডাক্ট ব্যবহার না করা ভালো। কটন বলে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে চোখের মেকআপ তুলে ফেলুন এবং এতে কোন যন্ত্রণাও হবে না।

৫। শুষ্ক মাথার তালু
অ্যালোভেরার গ্লাইকোপ্রোটিন শুষ্ক ত্বক নিরাময়ে কাজ করে। অ্যালোভেরার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শুষ্কতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। অ্যালোভেরার জেল মাথার তালুতে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের যত্নে এলোভেরার ৫টি ফেস মাস্ক

১। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য এলোভেরা ফেস মাস্ক:
খুব সহজেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে উজ্জ্বল ত্বক পেতে এই জেল আপনাকে সাহায্য করবে।
উপকরনঃ
মধু
হলুদ
এলোভেরা জেল
পদ্ধতি:
এক চিমটি হলুদের গুঁড়া ও ১ চা চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটির সাথে এলোভেরার জেল মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। মুখে, গলায় বা হাত-পায়ে পেস্টটি লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ বার এই মাস্ক ব্যাবহারে আপনি পেতে পারেন উজ্জ্বল ও ফর্শা ত্বক।

২। দাগ দূর করতে এলোভেরা ফেস মাস্ক:
দাগবিহীন নিখুঁত ত্বক পেতে বেছে নিতে পারেন এলোভেরা।
উপকরনঃ
এলোভেরা জেল
লেবুর রস
পদ্ধতি:
এলো ভেরার দু’পাশের কাঁটাগুলো কেটে ফেলে দিয়ে ব্লেন্ডারে পিষে নিন। তারপর একটি লেবুর সম্পূর্ণ রস বের করে এর সাথে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ফ্রিজে ১ সপ্তাহ পর্যন্ত ভাল থাকবে। মুখে, গলা, হাত বা পায়ের রঙ হালকা ও দাগ দূর করতে প্রতিদিন লাগিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি রোঁদে পোড়াভাবও দূর করে।

৩। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এলোভেরা ফেস মাস্ক:
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর করে ত্বককে কোমল, ঝকঝকে ও মসৃণ করে তুলতে এই ভেষজটি বেশ কার্যকরী।
উপকরনঃ:
মুলতানি মাটি
এলোভেরা
মধু
লেবুর রস
পদ্ধতি:
মুলতানি মাটির সাথে মধু, লেবুর রস ও এলোভেরা জেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার মাস্কটি ব্যাবহারে মুখের তৈলাক্ত সমস্যা দূর হবে।

৪। রোঁদে পোড়াভাব কমাতে:
খুব সহজেই হাত-পা, মুখ বা শরীরের যেকোনো স্থানের রোঁদে পোড়াভাব কমাতে ঘৃত কুমারী ব্যাবহার করতে পারেন।
উপকরনঃ
মসুর ডালের গুঁড়া বা পেস্ট
তাজা এলোভেরা
কাঁচা টম্যাটো
পদ্ধতি:
একটি কাঁচা টম্যাটোর মাঝখান থেকে শাঁসটুকু নিবেন। মসুর ডালের পাউডার বা পেস্টের সাথে এলোভেরা জেল ও টম্যাটোর শাঁস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। মুখে, গলায় এবং হাত-পায়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনি খুবই পরিষ্কার ত্বক অনুভূত করবেন। যাদের ত্বক শুষ্ক তারা মাস্কটি ধুয়ে ফেলার পর ভেজা ত্বকেই কয়েক ফোঁটা নারিকেল তেল ও দুধের মিশ্রণ লাগিয়ে নিবেন। এতে করে ত্বক ময়েসচারাইজড থাকবে।

৫। যে কোন ধরনের ত্বকের জন্য ফেস মাস্ক:
ত্বককে প্রাকৃতিক উপায়ে পরিষ্কার ও সমস্যা মুক্ত রাখতে বেছে নিন ঘৃতকুমারীকে।
উপকরনঃ
শসার পেস্ট
এলোভেরা জেল
টক দই
মধু
পদ্ধতি:
তাজা শসার পেস্ট করে তার সাথে তাজা এলোভেরার জেল মিশিয়ে নিন। টক দই ও মধুও মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার মুখে মাস্কটি লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটির প্রতিদিনের ব্যাবহারে রোঁদে পোড়াভাব দূর হয়। ব্রণের দাগ বা দাগ হালকা করতেও এটি সাহায্য করে। এটি ত্বককে পরিষ্কার করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে আপনাকে দিবে সমস্যা-মুক্ত ত্বক।
আপনার ত্বক এবং সমস্যা বুঝে একটি ফেস মাস্ক ব্যাবহার করা শুরু করে দিন। ঘরে বসেই নিজেকে করে তুলুন আর আকর্ষণীয় ও সুন্দর ত্বকের অধিকারী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button