কৃষিব্যবসা

সবজি চাষ করার সঠিক উপায় 100 % কাজে আসবে

সবজি চাষ ও সাধারণ ভেষজ উদ্ভিদ চাষ করার সঠিক উপায়

সবজি চাষ ও সাধারণ ভেষজ উদ্ভিদ (Growing Vegetable and Simple Medicinal Plants): আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। প্রতিনিয়ত চাষের জমি কমে যাচ্ছে কিন্তু খাদ্যের চাহিদা বেরেই যাচ্ছে ফলে ফসলের সঠিক যোগান দিতে আমাদের সবজি চাষ হোক কিংবা সাধারণ ভেষজ উদ্ভিদ চাষ হোক! চাষের সঠিক উপায় মেনে চললে ভালো ফল আশা করতে পারবো। সেজন্য আজকের এই পোষ্ট । [ বাড়ির প্রত্যক দিনের কিছু টুকিটাকি টোটকা ]

সবজি চাষ করার সঠিক উপায়

আমরা যেসব ফলমূল রান্না করে খাই, তাদের সাধারণভাবে সবজি বলা হয়। যেমন—আলু, বেগুন, পটল, মুলাে, ঝিঙে, কপি, লাউ, কুমড়াে ইত্যাদি।

ঋতু বা বপনকাল অনুসারে সবজিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন—গ্রীষ্মকালীন বা বর্ষাকালীন সবজি ও শীতকালীন সবজি।vegetables

খারিফ সবজি

শশা, বেগুন, ট্যাড়শ, পটল, লাউ, কুমড়াে, ঝিঙে, উচ্ছে প্রভৃতি সবজির চাষ গ্রীষ্মকাল বা বর্ষাকালে হয়। এদের খারিফ সবজি বলে।

রবি সবজি:

ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, টম্যাটো, বীট, গাজর, শিম, মুলাে প্রভৃতি সবজির চাষ শীতকালে হয়। এদের রবি সবজি বলে। এটি বসন্তকালীন ফসল হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে প্রধানতঃ শীতকালীন ফসলরূপে আখ্যায়িত। হেমন্তকালে বীজ বুনে যে ফসল কৃষক বসন্তকালে ঘরে তোলে তা-ই রবিশস্য

সবজি চাষের জন্য প্রধান উপকরণ হল জমি। সাধারণত সবজি চাষের জন্য দোআঁশ মাটি সর্বাপেক্ষা উপযােগী। মাটিতে যাতে রৌদ্র পড়ে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সবজি চাষের জন্য যে সকল যন্ত্রপাতি প্রয়ােজন, সেগুলি হল—কোদাল, খুরপি, নিড়ানি, রেক বা দেশি বিদা, জলের ঝাঁঝরি ইত্যাদি।

সবজি চাষের জন্য কয়েক দফা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যেমন— (১) বীজতলা কর্ষণ ও প্রস্তুত করা। (২) বীজবপন। (৩) চারা লাগানাে। (৪) জলসেচন। (৫) সার প্রয়ােগ। (৬) আগাছা তােলা। (৭) কীটনাশক ঔষধ প্রয়ােগ। (৮) ফসল তােলা।

এটিও পড়ুন – শীত কালীন মরশুমে টবে ফুল চাষ

বীজতলা ও মূলজমি প্রস্তুত করা : কিছু সবজি আছে যাদের চারা প্রস্তুত করে মূলজমিতে লাগানাে হয়। সেই কারণে সবজির বীজতলা প্রয়ােজন। চারা উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যে জমি নির্বাচন করা হয়, তাকে বীজতলা বলে। বীজতলার জমি পার্শ্ববর্তী জমি থেকে অন্তত ১৫ সেমি উঁচু হওয়া চাই। একটি আদর্শ বীজতলার আকৃতি হবে লম্বায় ৩০০ সেমি, এবং চওড়ায় ১২০ সেমি.। বীজতলায় যাতে অবাধ রােদ পাওয়া যায়, সেদিকে লক্ষ রাখা প্রয়ােজন। প্রতি বীজতলার চারধারে গভীর জলনিকাশের নালা রাখা প্রয়ােজন। বীজতলার মাটি বেশ নরম, উর্বর, ঝুরঝুরে হওয়া দরকার। বীজতলার মাটিকে কোদাল দিয়ে ভালােভাবে কুপিয়ে ঝুরােঝুরাে করে নিতে হবে। সার হিসাবে গােবর সার, কম্পােস্ট সার, খােল, অ্যামােনিয়াম সালফেট, সুপার ফসফেট ব্যবহার করা হয়। বীজতলা তৈরি হয়ে গেলে মাটি সামান্য আর্দ্র অবস্থায় থাকার সময় পাতলা করে বীজ বপন করতে হবে।

যে জমিতে চারা লাগানাে হবে সেখানকার জমি ভালােভাবে কর্ষণ করে এবং প্রয়ােজনমতাে সার প্রয়ােগ করে জমি তৈরি করে রাখতে হবে।

বীজবপন : ভালাে পুষ্ট, রােগহীন শােধন করা বীজ সংগ্রহ করে বীজতলায় বপন করতে হবে। মাটি সামান্য ভিজে অবস্থায় থাকার সময় পাতলা করে বীজ বপন করতে হবে। বীজবপনের পর প্রত্যহ সকাল-বিকাল ঝাঁঝরি দিয়ে জল দিতে হবে। রােদের সময় বীজতলা খড়, চাটাই দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

চারা লাগানাে : চারা বেরােবার ১৫ দিন পর চারাগুলাে ১, ইঞ্চির মতন লম্বা হলে বীজতলা থেকে চারা তুলে মূল জমিতে রােপণ করতে হবে। চারা তুলবার আগে বীজতলাটাকে ভিজিয়ে রাখতে হবে। চারা তুলে লাগাবার উপযুক্ত সময় হল বিকেল। চারা বীজতলা থেকে ধীরে ধীরে তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট সারি ও গাছের দূরত্ব রেখে রােপণ করতে হবে। চারা রােপণের পর গােড়ার মাটি শক্ত করে চেপে দিতে হবে। পরে গােড়ায় সামান্য জল দিতে হবে।

জলসেচ : চারাগাছ লাগানাের ১০-১৫ দিন পর থেকে জলসেচের ব্যবস্থা করতে হবে। গাছের গােড়ায় যাতে অতিরিক্ত জল না-জমে তার জন্য নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

সার প্রয়ােগ : চারা লাগানাের কিছুদিন পর থেকে গাছের গােড়ার চারপাশে ৩- ৩/, ইঞ্চি দূরত্বে সার প্রয়ােগ করতে হবে। জমিতে উপযুক্ত পরিমাণে গােবর সার বা পাতাপচা সার প্রয়ােগ করলে মাটি খুব সরস ও সতেজ থাকে।

আগাছা দমন : সবজিগাছের চারপাশের মাটিকে হালকাভাবে কর্ষণ করে আগাছাগুলি বেছে গাছের গােড়ায় মাটি ধরিয়ে দিতে হবে। সবজি খেতে আগাছা থাকলে সবজির বৃদ্ধি কমে যায় এবং উদ্ভিদ দুর্বল হয়ে পড়ে। তার ফলে ফসল সহজেই কাঁটশত্র দ্বারা আক্রান্ত হয়। তাই জমি ও জমির আশপাশ আগাছামুক্ত রাখা একান্ত দরকার।

কীটনাশক ওষুধ প্রয়ােগ : গাছে পোকামাকড়ের উপদ্রব হলে মাঝে মাঝে কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করতে হবে। এতে ফলনের হার বৃদ্ধি পায়। এর পরেই নির্দিষ্ট সময়ে ফসল তােলার কাজ করতে হবে।

উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পুষ্টি : উদ্ভিদ বৃদ্ধি ও পুষ্টির প্রয়ােজনে মাটি, জল ও বাতাস থেকে প্রয়ােজনীয় খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি, পুষ্টি ও দেহগঠনের জন্য মােট ১৬টি খাদ্য উপাদান প্রয়ােজন। এগুলিকে প্রধানত নিম্নলিখিত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথা –

প্রধান বা মুখ্য খাদ্যোপাদান (Major nutrients) : কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি উপাদানগুলি গাছ বেশি মাত্রায় গ্রহণ করে বলে এদের প্রধান বা মুখ্য খাদ্যোপাদান বলে। এদের মধ্যে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, জল ও বাতাস থেকে এবং বাকিগুলি উদ্ভিদ মাটি থেকে গ্রহণ করে।

গৌণ খাদ্যোপাদান (Secondary nutrients) : ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার—এই উপাদানগুলি উদ্ভিদ কিছুটা কম পরিমাণে গ্রহণ করে। এদের বলা হয় গৌণ খাদ্যোপাদান।

অণুখাদ্য উপাদান (Micro Trace elements): আয়রন, জিংক, বােরন, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, ক্লোরিন-এই উপাদানগুলি অতি সামান্য পরিমাণ উদ্ভিদের প্রয়ােজন হয়। এইগুলােকে অণুখাদ্য উপাদান বলে।

উদ্ভিদেহে প্রধান, গৌণ ও অণুখাদ্য সবই অপরিহার্য। কারণ এদের যে-কোনাে একটির অভাব ঘটলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পুষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। সেইজন্য এদের সকলকেই অপরিহার্য উপাদান বলে।

এটিও পড়ুন – পেঁপে চাষের উত্তম পদ্ধতি এবং অল্প সময়ে অধিক লাভ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button