প্রবন্ধ রচনাপড়াশোনা

র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ : র‍্যাগিং (Raging) ছাত্র জীবনে একটি অভিশপ্ত শব্দ কম বেশি সকলেই জানি। এই পোষ্টে র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা শেয়ার করা হল। আশা করি সকল ছাত্রছাত্রী বন্ধুদের কাজে আসবে। কবি সুভাষ মুখােপাধ্যায় প্রবন্ধ রচনা এর আগের পোষ্টে আলোচনা করা হয়েছিল চাইলে দেখে নিতে পারেন। র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ প্রবন্ধ রচনা অনুসারে যেসমস্ত প্রবন্ধ লেখা যাবে তা হল – র‍্যাগিং একটি সামাজিক অপরাধ,  র‍্যাগিং,  ছাত্রজীবনে র‍্যাগিং, র‍্যাগিং এর কুপ্রভাব, র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ প্রবন্ধ ইত্যাদি।

র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ

[ রচনা-সংকেতঃ  ভূমিকা—র‍্যাগিং এর প্রক্রিয়া—র‍্যাগিং-এর কারণ—র‍্যাগিং-এর কুফল—প্রতিকারের উপায় -উপসংহার।]

ভুমিকাঃ

মানুষ বর্বর অবস্থা থেকে ক্রমশ উন্নত জীবনের দিকে অগ্রসর হয়ে চলেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অবলম্বন করে তার এই এগিয়ে চলা শুধু বাহ্যিক দিক থেকেই নয়, আত্মিক দিক ভূমিকা থেকেও বটে। তবু মাঝে মাঝে মানুষের কোনাে কোনাে আচরণ আমাদের মনে পড়িয়ে দেয় অতীতের বর্বরতাকে, তার পশু স্বভাবকে। মানুষ যখন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখানাের পরিবর্তে উৎপীড়কের ভূমিকা গ্রহণ করে তখন আমাদের আক্ষেপের আর শেষ থাকে না। তখন সংশয় জাগে মানবসমাজের বিবর্তন সম্পর্কে, সংশয় জাগে মানবসভ্যতা সম্পর্কে। ছাত্রাবাসে র‍্যাগিং এইরকম একটি বিষয়, যা মানুষের বর্বরতা ও পশুত্বকেই শুধু তুলে ধরে।

র‍্যাগিং-এর প্রক্রিয়া

র‍্যাগিং সাধারণত হয়ে থাকে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে। নবাগত ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুরােনাে ছাত্রছাত্রীরা দৈহিক ও মানসিকভাবে নানারকম পীড়ন চালিয়ে থাকে। এই র‍্যাগিং কখনাে কখনাে সহনীয়তার সীমার মধ্যে থাকে ঠিকই কিন্তু কখনাে কখনাে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। নানা অছিলায় নবাগতদের বােকা বানানাে, উদ্ভট কোনাে প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা কিংবা নিছক নির্দোষ মজা করা প্রভৃতির মধ্যে ক্ষতিকারক তেমন কিছু নেই। কিন্তু এসবের মধ্যে র‍্যাগিং প্রক্রিয়াটি সীমাবদ্ধ থাকে না বলেই দেখা দেয় দারুণ সমস্যা। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে নবাগতদের স্নান করতে বলা হয়, দীর্ঘক্ষণ ধরে মাটিতে নাকখত দিতে বলা হয় অথবা হাঁটতে বলা হয় ছাদের কার্নিশের ওপর দিয়ে। জোর করে মদ খাইয়ে দেওয়া, শরীরে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়া, মাথায় বােঝা চাপিয়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা প্রভৃতি অত্যাচার চলতে থাকে নবাগতদের ওপর। উঁচু ক্লাসের দাদা-দিদিদের নির্দেশ-পালনে বিন্দুমাত্র অবহেলা দেখালে কুৎসিত গালাগালি এবং চড়-থাপ্পড় চলতে থাকে, চলতে থাকে নানারকম মানসিক নির্যাতন। নানাধরনের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে কমবেশি র‍্যাগিং এর প্রচলন থাকলেও র‍্যাগিং এর ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কথাই বেশি করে শােনা যায়।

র‍্যাগিং এর কারণ

র‍্যাগিং -এর কারণ হিসেবে অনেকে বলে থাকেন, নবাগত ছাত্রছাত্রীদের সংশ্লিষ্ট কলেজের উপযুক্ত করে গড়ে তােলার জন্যই র‍্যাগিং। এতে নাকি পুরােনােদের সঙ্গে নতুনদের যােগাযােগ নিবিড় হয়। কারণ হিসেবে এই ধরনের যুক্তি আসলে র‍্যাগিং-এর পক্ষে সওয়াল করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আসলে মানুষের স্বভাবের মধ্যে যে প্রভুত্ব পিপাসা নিহিত থাকে তারই একটা উৎকট প্রকাশ র‍্যাগিং এর মধ্যে লক্ষ করা যায়। ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাসে অভিভাবকদের শাসন থেকে মুক্ত ছাত্রছাত্রীদের অনেকের মানসিক গঠনও এর জন্য দায়ী। অপেক্ষাকৃত দুর্বলকে পীড়ন করে তারা একধরনের বিকৃত আনন্দ পায়। তা ছাড়া কোনাে কোনাে প্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিং-এর এমন প্রথা তৈরি হয়ে গেছে যে বছরের পর বছর সকলেই সেই প্রথার অনুবর্তন করে। প্রথার উচ্ছেদ ঘটানাে আর সম্ভব হয় না।

র‍্যাগিং এর কুফল

র‍্যাগিং যে কত ক্ষতিকারক হতে পারে তা বেশ বুঝতে পারা যায় র‍্যাগিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর থেকে। র‍্যাগিং -এর শিকার হয়ে অনেক মেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রী কলেজ ছাড়তে বাধ্য হয়। র‍্যাগিং-এর কুফল অনেকে সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। কেউ কেউ পঙ্গু হয়ে যায় শারীরিকভাবে। র‍্যাগিং -এর জন্য মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে, এমন ঘটনাও বিরল নয়। র‍্যাগিং -প্রথার এইসব ভয়াবহ চিত্র চোখের সামনে ফুটে ওঠায় অনেক ছাত্রছাত্রী বিশেষ বিশেষ কলেজে সুযােগ পেয়েও ভর্তি হতে ভয় পায়।

প্রতিকারের উপায়

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় একদল ছাত্রছাত্রী আর একদল ছাত্রছাত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাবে, এই একবিংশ শতাব্দীতে এটা ভাবতেও লজ্জা করে। অবিলম্বে এই জঘন্য প্রথার অবসান হওয়া দরকার। সমস্ত ছাত্রাবাস ও প্রতিকারের উপায় ছাত্রীনিবাসে র‍্যাগিং যাতে চিরতরে বন্ধ হয় তার জন্য বিভিন্নভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। র‍্যাগিং যে সত্যই একটি ঘৃণ্য কাজ সে বিষয়ে আরও বেশি করে জনমত গড়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট কলেজ-কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে এবিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। র‍্যাগিং -এর সুযােগ যাতে না থাকে, তার জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি দরকার। র‍্যাগিং করলে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে র‍্যাগিং করা বিষয়ে একটা ভীতি তৈরি হয়। যেসব নবাগত ছাত্রছাত্রী র‍্যাগিং -এর শিকার হয় তারা যদি পরবর্তীকালে নতুন ছাত্রছাত্রীদের উপর র‍্যাগিং না করার প্রতিজ্ঞা করে তাহলে র‍্যাগিং প্রথা সমূলে উচ্ছেদ হতে পারে। তাই এবিষয়ে এইসব ছাত্রছাত্রীর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।

উপসংহার

মানুষের মধ্যে বর্বরতার প্রকাশ যেমন আমাদের দুঃখ দেয়, লজ্জিত করে তেমনি মানুষের মধ্যে অহরহ শুভচেতনার বিকাশ ও ঘটে চলেছে। তাই আমাদের বিশ্বাস, র‍্যাগিং -এর মতাে একটি অমানবিক প্রথাও বেশিদিন চলবে না। মানুষ তার আপন স্বভাবেই প্রতিরােধ করবে বছরের পর বছর ধরে চলে-আসা এই নির্যাতন-প্রবাহ। আমরা সবাই সেই শুভদিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকব।

ট্যাগঃ র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ প্রবন্ধ রচনা, র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ রচনা , বিস্তারিত র‍্যাগিং ও ছাত্রসমাজ প্রবন্ধ রচনা

সোর্স – ইন্টারনেট

এটিও পড়ুন – পেঁপে চাষের উত্তম পদ্ধতি এবং অল্প সময়ে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button