পত্র রচনা

বিশুদ্ধ জলের অভাব, জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া সংবাদপত্রের সম্পাদকের নিকট নিকট পত্র

তোমাদের অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির অভাব, তুমি জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া কোন সংবাদপত্রের সম্পাদকের নিকট একখানি পত্র দাও। 

তোমাদের অঞ্চলে বিশুদ্ধ জলের অভাব, তুমি জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া কোন সংবাদপত্রের সম্পাদকের নিকট একখানি পত্র দাও।

‘সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক সাহেব সমীপেষু

বিষয় : বিশুদ্ধ পানির অভাব উপলক্ষে পত্র।

উত্তর দিনাজপুর

১লা জানুয়ারি, ২০২২

মহাশয়,

সম্প্রতি শিলিগুড়ি শহরাঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ হইতেছে না; ইহাতে এতদঞ্চলের জনসাধারণ দুঃখ-দুর্দশা ভোগ করিতেছে। শিলিগুড়ি বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রস্থল। এখন ইহার গুরুত্ব যে কত বেশি তাহা না বলিলেও চলে। শিলিগুড়িরই একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মেহেরচণ্ডী। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় ছাত্র বাস করে কিন্তু নলকূপ স্থাপন করিয়া পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা প্রয়োজন। সুতরাং দুর্ভোগ হইতে বাঁচার জন্য একটি নলকূপ স্থাপন এখনই দরকার। পরে অবশ্য এই এলাকায় জনসাধারণের সুবিধার্থে আরো কিছু নলকূপ বসাইয়া এবং পুরাতন নলকূপ মেরামত করাইয়া দিবার জন্য আমাদের আবেদনপত্রখানি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশ করিতে বিশেষ বাধিত হইব।

শিলিগুড়িতে বিশুদ্ধ পানির অভাব

বর্তমানে শিলিগুড়ি দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। স্বাধীনতা-উত্তরকালে এই প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়ি শহরে জনবসতি পূর্বাপেক্ষা বহুগুণে বাড়িয়া গিয়াছে। কিন্তু তদনুপাতে শহরের তেমন কোন উন্নতি পরিলক্ষিত হয় নাই। এখানে কয়েকটি স্কুল, কলেজ, আদালত, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, রেডিও স্টেশন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও অফিসসমূহ বিদ্যমান। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, শিলিগুড়ির ন্যায় শহরে বিশুদ্ধ পানির বড় অভাব। শহরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে শহরবাসীরা বহু কষ্টে দিনাতিপাত করিতেছে।

শিলিগুড়ি শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকা দিয়া পদ্মানদী প্রবাহিত। নদীতে বর্ষার সময় ব্যতীত বৎসরের অন্য সময়ে পানি থাকে না, নদী শুকাইয়া চর পড়িয়া যায়। শহরের মধ্যে মিউনিসিপ্যালিটির সন্নিকটবর্তী সোনাদীঘি বর্তমান। জনসাধারণের আংশিক চাহিদা এই সোনাদীঘির পানি দ্বারা পূরণ হয় বটে, কিন্তু এই পুকুরটির সব্রক্ষণ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। সংস্কারের অভাবে চতুর্দিকে প্রচুর পরিমাণে শেওলা জমিয়া রহিয়াছে। শহরে আরও যে সব পুকুর আছে, সেগুলি প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং পুকুরগুলি অগভীর হওয়ায় পানি দূষিত। সুতরাং পানের অযোগ্য।

প্রয়োজনের সময় শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের পানির অভাব নিবারণের জন্য নলকূপ বসাইয়া থাকেন বলিয়া আমরা জানি। অতএব, বিশুদ্ধ পানির অভাবে যাহাতে শহরে কোন প্রকার সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ না হয় তজ্জন্য শিলিগুড়ির মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্য বিভাগ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি। তাঁহারা শিলিগুড়ি শহরের গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়া অনতিবিলম্বে বেশিসংখ্যক নলকূপ বসাইয়া ও পুরাতন নলকূপগুলির মেরামত করাইয়া বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করিয়া দিলে তাঁহাদের অনুগ্রহের জন্য শহরবাসী কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ হইবে। তবে বর্তমানে জরুরী ভিত্তিতে মেহেরচণ্ডী গ্রামের গরীব ছাত্রদের সুবিধার্থে একটি নলকূপ স্থাপন করা একান্তই বাঞ্ছনীয়।

এগুলিও পড়তে পারেন -

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 4 =

Back to top button