উৎসব

2021 দশহরা গঙ্গা পুজার সময় নির্ঘণ্ট – Ganga Dussehra Puja Date

শ্রীশ্রী গঙ্গাপুজা সময়? দশহরা গঙ্গা পুজা করলে কী হয় বিস্তারিত

দশহরা গঙ্গা বা গঙ্গা দশরার ( Ganga Dussehra) বা শ্রীশ্রীগঙ্গাপুজা পূজাকে গঙ্গাভাতারন  নামেও পূজিত হন। এটি একটি হিন্দু উৎসব যা গঙ্গার অবতারন (বংশোদ্ভূত) হিসেবে উদযাপন করে। হিন্দু ধর্মলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে, পবিত্র গঙ্গা নদী এই দিনে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিল। হিন্দু বর্ষপঞ্জী হিসেবে জ্যেষ্ঠের মোম চাঁদ (শুক্লপক্ষ) এর দশমীতে (দশমীর দিন) তিথিতে ( আগের নয় দিন সহ দশ দিন স্থায়ী হয়।) গঙ্গা দশরার পুজা করা হয়।

জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা দশমী তিথিকে দশহরা বলে। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী দশহরা তিথিকে পূর্ণ তিথি বলা হয়েছে। গঙ্গা পাপানাশিনী, কলি কলুষ নাশিনী। হর হর গঙ্গে। দশবিধ ফল দিয়ে দেবী গঙ্গার পূজার বিধি। দেবী যাহাতে কর্মফল হরণ করে মুক্তি বা মহাফল প্রদান করেন । আচার বশত এই দিনে মনসা পূজাও দেখা যায়। আজ বটুকভৈরবের আবির্ভাব তিথি।

মনে করা হয়, এই তিথিতে গঙ্গা স্বর্গ থেকে মর্তে আগমন করেছিলেন। এর ফলে রুক্ষ পৃথিবী হয়ে উঠেছিল শস্য শ্যামলা। গঙ্গার প্রবাহে পৃথিবী যাতে ধ্বংস না হয়, তার জন্য মহাদেব গঙ্গাকে নিজের জটায় আবদ্ধ করে আস্তে আস্তে পৃথিবীতে প্রবাহিত করেন।

স্কন্ধপুরাণ অনুসারে, এই দিনে গঙ্গায় স্নান করে গঙ্গাকে দশটি ফুল, দশটি ফল ও দশটি প্রদীপ দিয়ে পুজো করার কথা বলা হয়েছে।

2021 দশহরা গঙ্গা পুজার সময় নির্ঘণ্ট

উৎসবের নাম উৎসবের দিন উৎসবের তারিখ
দশহরা গঙ্গা পুজা বা গঙ্গা দশহরা পুজা রবিবার ২০ জুন, ২০২১

বাংলা প্নজিকা অনুসারে – ৫ আষাঢ়, ১৪২৮ (রবিবার)

এই তিথিতে নিম্নোক্ত নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে যাবে। জীবনে সাফল্য পেতে বেশি সময় লাগবে না। সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি ঘটবে।

  • দশহরা গঙ্গা পুজার দিন গঙ্গা স্নান করুন, আপনার সব পাপ ধুয়ে মুছে যাবে। আপনি পুন্য অর্জন করতে পারবেন। দশবিধ ফল দিয়ে দেবী গঙ্গার পূজা করুন। দেবী কর্মফল হরণ করে মুক্তি বা মহাফল প্রদান করবেন।
  • গঙ্গার প্রবাহে যাতে পৃথিবী ধ্বংস না হয়, তার জন্য দেবাদিদেব মহাদেব গঙ্গাকে জটায় ধারণ করে আস্তে আস্তে প্রবাহিত করেছিলেন। তাই এই দিন শিব পূজার বিশেষ চল রয়েছে। এই দিন শিবলিঙ্গকে গঙ্গা জল দিয়ে অভিষেক করলে ভগবান শিব খুব প্রসন্ন হন এবং ভক্তের মনবাসনা পূর্ণ করেন।
  • এই তিথিতে দান ধ্যান করলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়। এছাড়া এই দিন দান করে যে পুন্য অর্জন করা হয় তার ফল শত জন্মে প্রবাহিত হয়।
  • এই তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করুন এবং পুজোর পর কলা, নারকেল, বেদানা, ডালিম, পনির, ডাল দান করুন এর ফলে আপনার শত জন্মের পাপ ধুয়ে মুছে যাবে।
  • পর দ্রব্য হরণ, অবৈধ প্রণয়, পর দ্রব্য চুরি, অহঙ্কারী বা মিথ্যা কথা বলা, পরনিন্দা করা, অসঙ্গত প্রলাপ এই বাক্যগত পাপ। মনে মনে পরের জিনিস কামনা, পরের অনিষ্ট চিন্তা এবং মিথ্যার প্রতি আসক্তি এই তিনটি মানসিক পাপ।
  • হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই দিন গঙ্গা স্নান করে দশটি প্রদীপ, দশটি ফল, দশটি ফুল দিয়ে গঙ্গাকে পূজা করুন। আপনি এই দশটি পাপের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

গঙ্গা দশহরার তাৎপর্য

বিশ্বাস করা হয় যে, মা গঙ্গা দেবী যেদিন পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, সেদিন খুবই অনন্য এবং খুবই সৌভাগ্যশালী মুহুর্ত ছিল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দেবী গঙ্গার পূজা করলে মানুষ দশ প্রকার পাপ থেকে মুক্তি লাভ পায়। শ্রীশ্রী গঙ্গাপুজা দিন মায়ের ধ্যান ও স্নানের দ্বারা কোনও ব্যক্তি কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, ঈর্ষা, হিংসা, হত্যা, ছলনা, জালিয়াতি, পরনিন্দার মতো মহা পাপ থেকে মুক্তি পায়। গঙ্গা মা পূজার পাশাপাশি এই দিনে দান-পুণ্যের কাজও করুন।

এটিও পড়ুন – ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সেরা অনলাইন জব Top 10 Online Job For Student

দশহরা গঙ্গা পুজার দিন বাংলার উৎসব ও মেলা

  • নদীয়া জেলার অন্তর্গত চাপড়া থানার জলকর মথুরাপুর গ্রামে জ্যৈষ্ঠ মাসের দশহরা তিথিতে মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
  • এছাড়াও নদীয়া জেলার নাকাশিপাড়া থানার বেকোয়াইল গ্রামে জ্যৈষ্ঠমাসে দশহরা তিথিতে সাড়ম্বরে পঞ্চানন্দ ঠাকুরের পূজা ও বার্ষিক উৎসব হয়।
  • বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত ওন্দা থানার অমরপুর গ্রামে তিনদিন ব্যাপী মহাধূমধামের সহিত শ্রীশ্রী মনসা দেবীর পূজা ও মেলা হয়।
  • বীরভূম জেলার অন্তর্গত দুবরাজপুর থানার বিরোরীগ্রামে দশহরা উৎসব উপলক্ষ্যে শ্রীশ্রীমনসাদেবীর পূজা ও মেলা হয়।
  • এছাড়া বাঁকুড়া জেলার জয়পুর থানার ফুটকরা গ্রামে শ্রীশ্রীমনসাদেবীর পূজা ও মেলা হয়।
  • হুগলী জেলার অন্তর্গত আরামবাগ থানার রসুলপুর গ্রামে দুই দিন ব্যাপী মনসাপূজা ও মেলা হয়। এছাড়া আরামবাগ  নিকটে মনসাডাঙ্গা গ্রামে শ্রী শ্রী মনসা পুজা, শতাবৃতি চণ্ডীপাঠ ও মহামেলা।

এটিও পড়ুন – 2022 দশহরা গঙ্গা পুজার সময় নির্ঘণ্ট – Ganga Dussehra Puja Date

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button