পত্র রচনা

জীবনের লক্ষ্য জানিয়ে বন্ধুকে পত্র লিখ – Established in life

জীবনে তুমি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাও তা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখাে।

জীবনের লক্ষ্য জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লিখ অথবা জীবনে তুমি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাও সে বিষয়ে তােমার বন্ধুকে একটি চিঠি লেখাে। অথবা তোমার জীবনের লক্ষ্য জানিয়ে বন্ধুকে পত্র লিখ। অথমা তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও তা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লিখ। Write a letter to a friend telling you what you want to be when you grow up, Write a letter to a friend about your life goal. or Write a letter to your friend about how you want to be established in life

জীবনের লক্ষ্য জানিয়ে বন্ধুকে পত্র লিখ

বন্ধুবরেষু, কালিয়াগঞ্জ
উত্তর দিনাজপুর
১০ ডিসেম্বর ২০২০

কমল, তাের চিঠি পেয়েছি। তুই জানতে চেয়েছিস, আমি ভবিষ্যতে নিজেকে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সত্যি বলতে কী, আমি অনেকদিন পর্যন্ত আমার জীবনের লক্ষ্য সম্বন্ধে কিছু স্থির করে উঠতে পারিনি। কখনও মা-বাবার কথায়, কখনও অন্য আত্মীয়স্বজনের কথায়, কখনও বা পরিচিত কোনাে মানুষের সাফল্য দেখে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রভৃতি হবার কথা ভেবেছি। কিন্তু আসলে এগুলির কোনােটির প্রতিই আমার যথার্থ প্রবণতা নেই। অথচ জীবিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রবণতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। জানিস কমল, আমি বেশ কিছুদিন যাবৎ ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য নিয়ে যে কীরকম দ্বিধার মধ্যে ছিলাম, তা তােকে বলে বােঝাতে পারব না। যাক, এখন অবশ্য সেই দ্বিধা কাটিয়ে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। আমি শিক্ষিক হতে চাই। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়, যে-কোনাে স্তরে শিক্ষকতার সুযােগ পেলে নিজেকে ধন্য মনে করব। এইরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে ছােট্ট একটি ইতিহাস রয়েছে।

আমার খুড়তুতাে ভাই অভীক ক্লাস সেভেনে পড়ে। কিন্তু বাংলা আর ইংরেজি দুটোতেই বেশ কাঁচা। অভীকের হাফ-ইয়ারলি পরীক্ষার একমাস আগে হঠাৎ কাকু আমাকে বললেন, তুই অভীককে বাংলা আর ইংরেজিটা এই একমাস একটু দেখিয়ে দে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। কোনােদিন কাউকে পড়াইনি। তাও আবার পরীক্ষার আগে অভীকের মতাে ছেলেকে পড়ানাে! কিন্তু কাকুর আদেশ, না করতে পারলাম না। সেদিনই শুরু করে দিলাম। আশ্চর্যের ব্যাপার, কয়েক দিন যেতে না যেতেই অভীককে পড়াবার সময় অদ্ভুত একটা তৃপ্তি পেতে লাগলাম মনের মধ্যে। বুঝতে পারলাম পড়ানাের মধ্য দিয়েই আমার ব্যক্তিত্ব, আমার সামর্থ্যের যথার্থ বিকাশ ঘটতে পারে। কয়েক দিন আগে অভীকের পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। বাংলা এবং ইংরেজিতে অনেকটা উন্নতি করেছে অভীক। বাড়ির লােকজন তাে বটেই, ওর স্কুলের মাস্টারমশাইরাও কিছুটা অবাক হয়েছেন। এই ঘটনায় আমার আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়ে গেছে, তেমনি ঠিক করে নিয়েছি আমি শিক্ষিকাই হব। বাড়ির অভিভাবকদের কাছেও এই সংকল্পের কথা জানিয়ে দিয়েছি। মা প্রথমটায় একটু কিন্তু-কিন্তু করেছিলেন, কিন্তু এখন আর তার অমত নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শিক্ষকতার জীবিকা গ্রহণ করলে আমি সফল হবই। আমি মনে করি, যে-কোনাে জীবিকাকে যদি প্রাণের বস্তু হিসেবে কেউ গ্রহণ করে তাহলে সেই ক্ষেত্রে তার উন্নতি অবধারিত। জীবিকার সঙ্গে প্রাণের যােগ খুবই প্রয়ােজন। শিক্ষকতার মধ্যে আমি সেই প্রাণের যােগ অনুভব করতে পারি। ভাবতে ভালাে লাগে, কত ছাত্রছাত্রীকে আমি পড়াব, তাদের সঙ্গে সুন্দর স্নেহময় সম্পর্ক গড়ে উঠবে। বহুজনের মধ্যে এভাবে নিজেকে বিস্তৃত করতে পারার আনন্দও তাে কম নয়! সব দিক থেকে ভেবে দেখেছি শিক্ষকতার মধ্যেই আমি খুঁজে পাব আমার মনের আনন্দ, প্রাণের আরাম, আত্মার শান্তি।

আমি তাে আমার কথা জানালাম, এবার তাের সংকল্পের কথা জানতে ইচ্ছে করছে। তাড়াতাড়ি জানাবি। ভালােবাসা রইল।

ইতি
সুরেশ

 

এটিও পড়ুন – পত্র রচনা – পত্র রচনার কয়েকটি পালনীয় নির্দেশ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button