ব্যবসা

কেনাকাটার সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে

প্রত্যকদিন আমারা কিছু না কিছু কেনা কাটা করে থাকি। কেনাকাটার সময় বা কেনা কাটা করতে গিয়ে আমারা বিভিন্ন ভাবে প্রতারিত হয়ে আসছি। আমরা যদি একটু সচেতন হই, তাহলে এই প্রতারনার হাত থেকে রেহাই পাবো। এজন্য কেনাকাটার সময় আমাদের কয়েকটি জিনিস মাথার রাখতে হবে । তা নিম্নে আলোচনা করা হল।

কেনাকাটার সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবেঃ

  • কেনাকাটার সময় একটু সতর্ক হলে উপভোক্তারা বা ক্রেতারা অনেক হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
  • কেনাকাটার সময় রসিদ বা ক্যাশমেমো ইত্যাদিসহ গ্যারান্টি বা ওয়ারান্টি কার্ড নিতে হবে ও সেগুলো যত্ন করে রেখে দিতে হবে।
  • মনে রাখবেন ৫০০ টাকার বেশি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্যাশমেমো দেওয়া অবশ্যই বাধ্যতামূলক।
  • প্যাকেট করা জিনিসে উৎপাদকের নাম, উৎপাদনের তারিখ এবং নীট ওজন বা পরিমাণ বা সংখ্যা লেখা আছে কিনা দেখে নিতে হবে।
  • প্যাকেটের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরো দামের (MRP) থেকে বেশি দামে কোনো জিনিস বিক্রি করা বেআইনি।
  • বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিসের প্যাকেটে আমদানিকারকের নাম, ঠিকানা ও বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকতে হবে।
  •  তৈরি জামাকাপড়ের মাপ শুধুমাত্র সেন্টিমিটারে দেখাতে হবে। ‘XXL’, ‘X’,’E’,’M’, ‘S’, ইত্যাদি স্টিকার লাগানো বেআইনি। ওইসব মার্কাযুক্ত পোশাক কেনা উচিত নয়।
  • যে দন্ডটি দিয়ে কাপড় মেপে বিক্রি করা হয় সেটি ইস্পাতের তৈরি এবং তার দৈর্ঘ্য ১ মিটার বা তার থেকে বেশি হতে হবে। দণ্ডের দুই প্রান্তে বৈধ পরিমাপন পরিদর্শকের দেওয়া চলতি বছরের ছাপ থাকবে।
  • ওজন বা মাপে জিনিস কিনতে গেলে দোকানে বৈধ পরিমাপন দফতরের শংসাপত্র টাঙানো আছে কিনা দেখে নিতে হবে।
  • কাঠের দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে মাল বিক্রি করা বেআইনি। ওজনে জিনিস কেনার সময়ে বাটখারাগুলো বৈধ কিনা দেখে নিতে হবে। বাটখারাগুলোর তলায় সিসার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বৈধ পরিমাপ পরিদর্শকের ইউনিট নম্বর মেয়াদসূচক বছর এবং কোয়ার্টারের ছাপ থাকা বাঞ্ছনীয়। মনে রাখতে হবে, নবীকরণের পরে ওজনের কাটা এবং বাটখারাগুলো দু’বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। কিন্তু সমস্ত ইলেকট্রনিক ওঞ্জনযন্ত্র ও পেট্রলপাম্পে বছরে একবার নবীকরণ করা বাধ্যতামূলক।
  • সোনার গয়নার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ‘হলমার্ক’ চিহ্ন দেখতে হবে।
  • হোটেলে/রেস্টুরেন্টে জলের বোতল বা পানীয়ের ক্ষেত্রে বোতলের গায়ে লেখা দামের থেকে বেশি নেওয়া বেআইনি।
  • বৈদ্যুতিক এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, পানীয় জলের বোতল, বেবিফুড প্রেসার কুকার ইত্যাদি কেনার সময় ISI ছাপ দেখে নিতে হবে।
  • ভোজ্য তেল, ঘি, মাখন, মধু, মশলা ইত্যাদি কেনার সময় প্যাকেটে আগমার্ক ছাপ দেখে কিনতে হবে।
  • মোড়ক করা খাদ্যসামগ্রীর মোড়কের উপর ‘FSSAI’ নং লেখা দেখে নিতে হবে।
  • টিন বা প্যাকেট ভরতি মাংস ইত্যাদি কেনার সময় MFPO ছাপ দেখে নিতে হবে।
  • প্রয়োজনে গ্যাসের ওজন দেখে নেওয়ার জন্য যে ব্যক্তি বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করতে আসবেন তার কাছে স্প্রিং-তুলাযন্ত্র থাকা বিধিসম্মত। সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস আছে তা দেখতে হলে সিলিন্ডারের গায়ে লেখা (খালি সিলিন্ডারের) ওজন ও গ্যাসের ওজন (১৪.২ কিগ্রা)-এর যোগফল তুলা-নির্দেশিত ওজনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
  • পেট্রোল বা ডিজেল কেনার সময় উপভোক্তা যাতে প্রয়োজনে পেট্রোলের বা জিজেলের পরিমাপ পরীক্ষা করতে পারেন, তার জন্য প্রত্যেক পেট্রোল পাম্পে প্রকাশ্যে পরীক্ষিত ৫ লিটারের পাত্র রাখা থাকে।

ক্রেতা বিক্রতা সমস্যা সংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য পাবেন https://consumerhelpline.gov.in ওয়েবসাইট থেকে।

এটিও পড়ুন – কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারিত হলে কী করবেন

এগুলিও পড়তে পারেন -

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =

Back to top button