উৎসব

2022 স্নানযাত্রা পূজার নির্ঘণ্ট ও ক্যালেন্ডার

2022 Snana Yatra Date & Time in India, स्नान यात्रा

স্নানযাত্রা (Snana Yatra) হল হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা  উৎসব পালন করা হয়। জগন্নাথের দেব ভক্তদের কাছে এটি একটি মহান উৎসব। প্রতি বছর দেবস্নান পূর্ণিমায় এই রীতি পালিত হয়। এই দিনটিকে জগন্নাথ দেবের জন্মতিথি হিসেবে মনে করা হয়।

এই দিন পুরীতে স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ দেব, বলভদ্র, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র ও  দনমোহন বিগ্রহকে জগন্নাথ মন্দির থেকে স্নানবেদীতে বের করে আনা হয়। সেখানে তাদের প্রথাগতভাবে স্নান করানো হয় এবং ভক্তদের দর্শনের জন্য সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত করা হয়। জগন্নাথের ভক্তদের বিশ্বাস, স্নানযাত্রার দিন যদি জগন্নাথদেবকে দর্শন করা যায় তাহলে সকল পাপ থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব। এই জন্য অসংখ্য ভক্ত স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে পুরীর মন্দির দর্শনে যান।

ধর্মীয় গুরুত্ব

শ্রী শ্রী জগন্নাথের ভক্তদের বিশ্বাস, সেদিন যদি তারা পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরে দেবতাকে দর্শন করতে যান, তবে তাদের সকল পাপ থেকে মুক্ত হতে পারবেন। এই জন্য অসংখ্য ভক্ত জগন্নাথের স্নান যাত্রা উপলক্ষ্যে পুরীর মন্দির দর্শনে যান। স্কন্দপুরাণম্‌ বলা হয়েছে, পুরীর মন্দিরে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পরেই প্রথম বার রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন।

স্নানযাত্রার মাহাত্ম্য

শ্রীক্ষেত্র পুরীতে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার মূল কেন্দ্র। শুধু পুরীই নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা পালিত হয় মহাসমারোহে।

2022 স্নানযাত্রা পূজার নির্ঘণ্ট ও ক্যালেন্ডার

উৎসবের নাম পূজার দিন উৎসবের তারিখ
স্নানযাত্রা মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২

জৈষ্ঠ পূর্ণিমা ব্রত মুহুর্ত

পূর্ণিমা তিথি শুরু ১৩ জুন ২০২২ সময় 21:04:02
পূর্ণিমা তিথি শেষ ১৪ জুন ২০২২ সময় 17:22:31

2021 স্নানযাত্রা পূজার নির্ঘণ্ট ও ক্যালেন্ডার

উৎসবের নাম পূজার দিন উৎসবের তারিখ
স্নানযাত্রা বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১

 

কিন্তু কী এই স্নান যাত্রা?

জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভু মনুর ‌যজ্ঞ প্রভাবে প্রভু শ্রী শ্রী জগন্নাথ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই এই তিথিকে জগন্নাথ দেবের জন্মদিন হিসাবে পালন করার নির্দেশ দেন স্বয়ং মনুই। সেই জন্মদিন উপলক্ষেই এই বিশেষ স্নান উৎসব পালিত হয়ে আসছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার একশো আটটি কলস ভর্তি সুশীতল জলে মহাস্নান হয়ে থাকে।
কথিত আছে সমস্ত দেবদেবীরা যাতে জগন্নাথ দেবের এই স্নানযাত্রা ভালভাবে দেখতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্না‌নযাত্রাকালে স্নানবেদির চারদিকে রত্মশোভিত চাঁদোয়া ও আবরণবস্ত্র দিয়ে আচ্ছাদিত করে দিতেন। পরবর্তীকালে স্নানবেদি জীর্ণ হয়ে পড়লে তা নতুন করে নির্মাণ করেন শ্রীঅনঙ্গভীম দেব।
স্নান‌যাত্রার দিন চন্দন, আতর সহ বিভিন্ন সুগন্ধি দিয়ে পবিত্র জল এনে রাখা হয় স্নানবেদিতে। সুগন্ধি ধূপ দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয় স্নানমঞ্চ। তারপর মন্দিরের দক্ষিণ কূপ থেকে স্নানের জল আনেন প্রভু জগন্নাথের সেবকরা। সেই জল সুগন্ধ দ্রব্যে সুবাসিত করে ‘পাবমানী’ মন্ত্রে সোনার কলস পরিপূর্ণ ও অধিবাস করেন গর্ভমন্দিরে। এবার শুরু হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নানমঞ্চে নিয়ে আসার প্রস্তুতি।
সুন্দর পট্টবস্ত্র দিয়ে ঢেকে জগন্নাথদেব সহ বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে আসা হয় স্নানমঞ্চে। স্নানমঞ্চে নিয়ে আসার সময় চামর ও তালপাতা দিয়ে বাতাস করতে করতে তিন দেবতাকে বাতাস করা হয়। সকলে যাতে স্নানের অনুষ্ঠান ‌দর্শন‌করতে পারেন সেজন্য পুরী মন্দিরে একটি উঁচু বেদী করা হয়েছে। যাতে পুরীর প্রশস্ত রাজপথ ‘বড়দাণ্ড’ থেকেও সকলে প্রভুর স্নানযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে পারেন। অবশেষে মহা সমারোহে ভোরবেলা ব্রহ্মার সঙ্গে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নান সম্পূর্ণ করা হয়।
স্নানের পর জগন্নাথ ও বলরামের হাতিবেশ বা গণেশবেশ হয়ে থাকে। স্বয়ং জগন্নাথদেব মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মহাস্নানের পর তাঁর অঙ্গরাগবিহীন রূপ যেন কেউ না দেখেন। তাই স্নানযাত্রার পর থেকে ১৫ দিন পুরীর মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকে। জয় জগন্নাথ, জয় বলদেব, জয় সুভদ্রা মহারাণী।

স্নানযাত্রা উপলক্ষে বাংলার উৎসব ও মেলা:

  •  নদীয়া জেলার অন্তর্গত নাকাশিপাড়া থানার গোটপাড়া গ্রামে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে সাড়ম্বরে গোপীনাথদেবের স্নান যাত্রা উৎসব ও চৌদ্দ-পনের দিন ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
  • এছাড়া নদীয়ার চাকদহ থানার যশড়া গ্রামে জ্যৈষ্ঠী পূর্ণিমায় বুড়োমাতলার পূজা ও পালুনী উৎসব।
  • মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত হরিহরপাড়া থানার রামপাড়া গ্রামের নলহাটিতে ধর্মরাজ পূজা উপলক্ষ্যে মেলা এবং শ্রীপাট যশড়া গ্রামে জ্যৈষ্ঠী পূর্ণিমায় জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা উৎসব ও মেলা।
  • দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার অন্তর্গত জয়নগরে জয়নগর-মজিলপুর গ্রামে জাগ্রত জয় চণ্ডীদেবীর পনেরো দিনব্যাপী বার্ষিক পূজা-উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
  • বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া থানার অন্তর্গত মালিয়াড়া গ্রামে চণ্ডীদেবীর গাজন উৎসব ও মেলা।
  • বর্ধমান জেলার বর্ধমান থানার অন্তর্গত বারাশতী গ্রামে ধর্মরাজের গাজন উৎসব ও মেলা।
  • উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট থানার শিবহাটি গ্রামে চতুর্ভুজ সিংহবাহিনী দেঘীর বার্ষিক পূজা ও মেলা।
  • দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ফলতায় জগন্নাথপুর গ্রামে স্নান যাত্রা উৎসব ও মেলা।

এটিও পড়ুন- 2022 হিন্দু পূজার নির্ঘণ্ট ও ক্যালেন্ডার

এগুলিও পড়তে পারেন -

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + five =

Back to top button