সংলাপ রচনাঃ কোনাে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তির মধ্যে যে সংলাপ কল্পনা করা হয় তাকেই কাল্পনিক সংলাপ বলে।

নাটকীয় সংলাপের সঙ্গে কাল্পনিক সংলাপের কিছুটা পার্থক্য আছে। নাটকীয় সংলাপে চরিত্রের আচরণগত নির্দেশও থাকে। কিন্তু কাল্পনিক সংলাপে বিষয়কেন্দ্রিক আলােচনাই মুখ্য।

কাল্পনিক সংলাপ রচনার জন্য পালনীয় নির্দেশ

  •  সংলাপ রচনার জন্য প্রদত্ত বিষয়টিকে প্রথমে মনে মনে ভালাে করে ভেবে। নেওয়া দরকার। বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে কথােপকথনের মাধ্যমে তা তুলে ধরা কঠিন।
  • সংলাপের ভাষা হবে সহজ, সরল। মৌখিক ভাষার স্বাভাবিকতা বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
  • সংলাপ হবে চরিত্র অনুযায়ী। অর্থাৎ কল্পিত চরিত্রের বয়স, জীবিকা, সামাজিক অবস্থান প্রভৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংলাপ তৈরি করতে হবে।
  • কাল্পনিক সংলাপে নাটকীয়তা সৃষ্টির অবকাশ নেই ঠিকই, কিন্তু উক্তি-প্রত্যুক্তির মাধ্যমে সামান্য পরিমাণে নাটকীয় রস পরিবেশন করতে পারলে ভালাে হয়। এতে কথােপকথনের ব্যাপারটি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
  • কোনাে একটি চরিত্র একটানা অনেকক্ষণ কথা বললে একঘেয়ে লাগতে পারে। সেজন্য একটি চরিত্রের সংলাপ যাতে বেশি দীর্ঘ না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
  • প্রয়ােজনবােধে সংলাপের মধ্যে প্রবাদ-প্রবচন, বাগধারা বা বিশিষ্টার্থক শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা কখনােই যেন অকারণ বা অপ্রাসঙ্গিক অবতারণা না হয়।
  •  

    মনে রাখতে হবে কাল্পনিক সংলাপ একাধিক ব্যক্তির মধ্যে নিছক উক্তি-প্রত্যুক্তি কিংবা খােশগল্প নয়। এটি আসলে সংলাপের মধ্য দিয়ে কোনাে একটি বিষয়ের আলােচনা বা পর্যালােচনা। তাই এ ধরনের রচনা যাতে কখনােই বিষয় থেকে সরে গিয়ে অবান্তর কথােপকথনে পর্যবসিত না হয়, সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে।

এটিও পড়ুন –

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *