স্বাস্থ্য

রক্ত সংবহন সংক্রান্ত কয়েকটি জটিল রোগ

রক্ত সংবহন সংক্রান্ত বিশেষ বিশেষ জটিল রোগ এর আলোচনা

মানব দেহে বিভিন্ন ধরনের সংবহন তন্ত্র দেখা যায়। যেমন – রক্ত সংবহন তন্ত্র, লসিকাতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, অন্তঃক্ষরা তন্ত্র, আচ্ছাদন তন্ত্র, পেশীতন্ত্র ইত্যাদি। এর মধ্যে  রক্ত সংবহন তন্ত্র হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর সাহায্যে রক্ত সারা দেহে সঞ্চালিত হয়। নিম্নে রক্ত সংবহন সংক্রান্ত কয়েকটি জটিল রোগ নিয়ে আলোচনা করা হল।

রক্ত ঈষৎ লবণাক্ত জলীয় পদার্থ। রক্ত উচ্চ শ্রেণীর প্রাণিদেহের এক প্রকার কোষ বহুল, বহু জৈব ও অজৈব পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত সামান্য লবণাক্ত, আঠালো, ক্ষারধর্মী ও লালবর্ণের ঘন তরল পদার্থ যা হৃৎপিণ্ড, ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রবাহিত হয়। রক্ত একধরনের তরল যোজক কলা। রক্ত প্রধানত দেহে অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ পরিবাহিত করে।

এটিও পড়ুন – রােগ নির্ণয় করতে হলে রােগীর এই তথ্যগুলি জানা জরুরী

রক্ত সংবহন সংক্রান্ত কয়েকটি রোগ

যেমন – হার্ট ব্লক, হার্ট ফেলিউর, হার্ট অ্যাটাক, করোনারি থ্রম্বোসিস, অ্যানজিনা পেক্‌টোরিস, আর্টেরিওস্ক্লেরোসিস, ব্রাডিকার্ডিয়া ইত্যাদি।

  • হার্ট ব্লক : হৃৎপিণ্ডের SA নোেড কর্তৃক হৃৎপ্রবাহের উৎপাদন যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় বা স্পন্দন-প্রবাহ সঠিকভাবে পরিবাহিত না হয়, তাহলে এই ত্রুটিকে হৃদ্‌অবরোধ বা হার্ট ব্লক (Heart block) বলে।
  • হার্ট ফেলিউর : হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ বা নিলয় বা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিউর (Heart failure) বলে।
  • হার্ট অ্যাটাক : হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনী কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদ্‌পেশীতে রক্ত সরবরাহ তথা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক (Heart attack) বলে। এর অপর নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন (miocardial infraction)।
  • করোনারি থ্রম্বোসিস : হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনীতে মেদ জমে যখন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, তখন রক্তচাপে ছিঁড়ে গিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঘটনাকে করোনারি থ্রম্বোসিস (Coronary thrombosis) বলে।
  • অ্যানজিনা পেক্‌টোরিস : ক্লান্তি বা অবসরের সময় হৃদপেশীতে রক্তসঞ্চালন হ্রাস পেলে বুকের নিচে যে ব্যথা অনুভূত হয় তাকে অ্যানজিনা পেটোরিস (Angina pectoris) বলে।
  •  আর্টেরিওস্ক্লেরোসিস : এটি ধমনী প্রাচীরের স্থূলতা ও স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হওয়া জনিত রোগ।
  • আথেরোস্ক্লেরোসিস: কোলেস্টেরল, স্নেহপদার্থ বা ধ্বংস কোষে জমা হয়ে ধমনীর গহ্বর ছোট হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আথেরোস্ক্লেরোসিস বলে।
  • ব্রাডিকার্ডিয়া: হৃদস্পন্দনের হার 60 এর কম হ’লে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে ব্রাডিকার্ডিয়া বলে।
  • ট্যাকিকার্ডিয়াঃ হৃদস্পন্দনের হার 100 এর বেশী হয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে ট্যাকিকার্ডিয়া বলে।
  • মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন: হৃদপেশী অকেজো হওয়ার ফলে হৃদপেশীর নির্দিষ্ট স্থানে রক্ত সংবহন না হওয়া জনিত রোগ। প্রকৃতপক্ষে একেই হার্ট অ্যাটাক বলে।
  • কার্ডিয়াক ড্রপসি : হৃৎপিণ্ডের পেরিকার্ডিয়াম গহ্বরে তরল সঞ্চয় হেতু হৃৎপিণ্ডের উপর চাপ জনিত রোগ।
  • পেরিকার্ডাইটিস : পেরিকার্ডিয়ামের প্রদাহজমিত রোগ।
  • মায়োকার্ডাইটিসঃ হৃদপেশী স্তরের প্রদাহ জনিত রোগ।
  • মিট্রাল রিগারজিটেশন : মাইট্রাল কপাটিকার গঠন গত ত্রুটির জন্য নিলয়ের সংকোচনকালে বাম নিলয় থেকে রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশের কালে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে মিট্রাল রিগারজিটেশন বলে।
  • রিউমাটিক হার্ট ডিজিজ : রিউমাটিক জ্বরে আক্রান্ত হৃদপেশী ও কপাটিকার কাজ নষ্ট হওয়া জনিত রোগ।
  • মায়োজেনিক ও নিউরোজেনিক হার্ট : যে হৃৎপিণ্ডে উদ্দীপনা হৃদপেশী হতে উৎপন্ন হয় তাকে মায়োজেনিক হার্ট বলে। যেমন- মানুষের হৃৎপিণ্ড। যে হৃৎপিণ্ডে উদ্দীপনা স্নায়ুর মাধ্যমে পৌঁছায় তাকে নিউরোজেনিক হার্ট বলে। যেমন—কেঁচো, চিংডির হৃৎপিণ্ড।

এটিও পড়ুন –  কম বয়সে মেয়েদের স্তন ঝুলে যাওয়ার কারণ, ১০০% সমস্যা ও সমাধান ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button