প্রবন্ধ রচনা

বাংলার কৃষক প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

বাংলার অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা- Bengali Farmer essay

বাংলার কৃষক- কৃষক একজন ব্যক্তিবিশেষ যিনি কৃষিকার্য পেশায় নিয়োজিত থেকে ফসল উৎপাদন করেন। পাশাপাশি তিনি খাবারের উপযোগী করে গৃহপালিত প্রাণী লালন-পালন করেন। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে এ পেশার মাধ্যমে কৃষক মানুষের জন্যে খাদ্য সরবরাহ করে জীবনকে চলমান রেখেছেন।

বাংলার কৃষক প্রবন্ধ রচনা অনুসারে অনুরূপ প্রবন্ধ লেখা যাবে বাংলার কৃষকের জীবন ও জীবিকা,  কৃষিনির্ভর বাংলার জীবন, বাংলাদেশের কৃষক রচনা, বাংলার অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা ইত্যাদি।

বাংলার কৃষক প্রবন্ধ রচনা

[ প্রসঙ্গসূত্রঃ ভূমিকা ; কৃষিনির্ভর বাংলার জীবন; চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাঙালী কৃষকের দুরবস্থা; কৃষিনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তন; স্বাধীনতার পরে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নপ্রয়াস: উপসংহার।]

ওমা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ওমা, তোমার রাখাল তোমার চাষি।

—রবীন্দ্রনাথ

ভূমিকা

সুপ্রাচীন কাল থেকে ভারতের মানুষের জীবনযাত্রা ভূমিলগ্ন। কৃষিই আমাদের সভ্যতার ধারক ও বাহক। রামায়ণে দেখি, উত্তর ভারত থেকে কৃষিসভ্যতার সম্পদ বহন করে আর্য রামচন্দ্র দক্ষিণ ভারতের অহল্যাভূমিতে প্রাণের স্পন্দন জাগালেন। ভগীরথ গঙ্গার প্রবাহকে দক্ষিণমুখী করে সগর রাজার মৃত সন্তানদের পুনরুজ্জীবন ঘটান। কাব্যে, গানে, পুরাণে এই কৃষি-সংস্কৃতির বহুবিধ কীর্তিগাথা। ভারতীয় সভ্যতার জয়যাত্রা একদিকে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষে, অপরদিকে ঐহিক জীবন পরিপোষক কর্ষণ-কৌশলে।

কৃষিনির্ভর বাংলার জীবন

ভারতের পূর্ব প্রত্যস্তের বাংলা নামক ভূ-ভাগটিও এই ভূমিভূয়িষ্ঠ জীবনকে অবলম্বন করেই পরিপুষ্ট। মনীষী অক্ষয়কুমার দত্তের ভাষায়—“ভূমিই আমাদের একমাত্র মূলধন ও কৃষকেরাই আমাদের প্রতিপালক।” বাংলার মানুষের প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাদের অক্লান্ত শ্রমে উৎপন্ন ফসলে আমাদের জীবন-ধারণ। কিন্তু যারা আমাদের প্রতিপালক তারা দুবেলা পেট ভরে খেতে পায় না। এর জন্য দায়ী কে?

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাঙালী কৃষকের দুরবস্থা

১৭৯৩ খ্রীস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিশের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের পর থেকে বাংলার কৃষকের ভাগ্যে নেমে এল দুর্যোগের অমারাত্রি। জন্ম নিল নির্দয় এক জমিদার শ্রেণী। মাটিতে যাদের পা পড়ে না, তারাই হল জমির মালিক। মাটিকে যারা মায়ের মত শুশ্রুষা করে, সেই কৃষকেরা হারাল জমির উপর অধিকার। তখন থেকেই ভূমিহীন কৃষকের আবির্ভাব। পরের জমিতে গায়ের রক্ত জল করে যে ফসল ফলায়, তার ভোগে তারা বঞ্চিত। জমিদার খাজনার দায়ে উৎপন্ন ফসলের বেশির ভাগ কেড়ে নেয়, অবশিষ্ট যা থাকে তা ঋণের দায়ে গ্রাস করে মহাজন। যাদের সামান্য জমি, তারাও এই একই দুর্ভাগ্যের শিকার। ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত হতে থাকে বাংলার কৃষকের স্বনির্ভর আর্থিক কাঠামো, কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কূটীর শিল্পও বিদেশী শাসকবর্গের চক্রান্তে হয় সম্পূর্ণ ধ্বংস। বাংলার তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ কেটে নিয়ে তাদের শিল্পদক্ষতার অবলুপ্তি ঘটানো হয়। ইংলণ্ডে প্রস্তুত কাপড়ে বাংলার বাজার ছেয়ে যায়, আর স্বদেশে ঘটে ইংরেজের শিল্পসমৃদ্ধি।

এটিও পড়ুন – নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা 700 শব্দের মধ্যে

কৃষিনির্ভর অর্থ নীতির পরিবর্তন

শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পের গফুর জমিদারের অত্যাচারে সর্বস্বান্ত হয়ে ভিটে-মাটি ছেড়ে রাতের অন্ধকারে মেয়ে আমিনাকে নিয়ে ফুলবেড়ের চটকলে শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে যায়। কৃষক পরিণত হয় কারখানার শ্রমিকে। এই নতুন ব্যবস্থায় মানুষ মালিকের দাসে পরিণত হয়, মেয়েদের মান-ইজ্জতের কোন মূল্য থাকে না। ইংরেজ আমলে যে-সব শিল্পকারখানা এই বাংলায় গড়ে ওঠে তার শ্রমশক্তির সবটুকু আসে ঐ পরিবর্তিত কৃষক-সম্প্রদায় থেকে।

স্বাধীনতার পরে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন প্রয়াস

বাংলার তথা ভারতের কৃষিব্যবস্থার এই অবনতি স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত ছিল অব্যাহত। ভূমিহীন কৃষকদের সকলেই যে শ্রমিকের কাজ পেয়ে গেল, তাও নয়। অথচ ভারতের অর্থনীতির মূলভিত্তি এখনো এই কৃষির উপরেই প্রতিষ্ঠিত। কাজেই স্বাধীনতার পরে জাতীয় সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষি ও কৃষকের অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়াসী হয়েছেন। প্রথমেই জমিদারী প্রথা রহিত করে ভূমিহীন কৃষকদের হাতে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারপর কৃষকদের আধুনিক প্রথায় চাষ করার নানা পদ্ধতি শেখানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উন্নত বীজ, সার, সেচ প্রয়োগে জমির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হয়। সামগ্রিক গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের (Integrated Village Development Project) মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষকের সর্ববিধ বিকাশের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলা হয়েছে দ্বিখণ্ডিত। পূর্ববাংলা থেকে আগত ছিন্নমূল জনতার চাপে ভূমিব্যবস্থার এইসব সুযোগ বাংলার মানুষ পুরোপুরি নিতে পারেনি। বাসস্থান তৈরির তাগিদে এককালে বনভূমি কর্তন করা হয়েছে, এবার হাত পড়েছে কর্ষণযোগ্য ভূমির উপর। ধনী জোতদাররা হয়তো লাভবান হচ্ছে, কিন্তু গরীব কৃষক যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। অথচ ইদানীং দেখা যাচ্ছে, মানুষ শহর থেকে গ্রামের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষি ও কৃষকের সার্বিক উন্নতির প্রয়োজন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

উপসংহার

আগেই বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর কৃষি ও কৃষকের অবস্থার পরিবর্তনে আমাদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার সচেষ্ট হলেও বাংলার কৃষকের তেমন উল্লেখ্য উন্নতি ঘটেনি। কারণ উপসংহার সামগ্রিকভাবে গ্রাম-বাংলার মানুষ যে দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকারে আবৃত তা থেকে মুক্তি না ঘটলে, শুধু কৃষি-পরিকল্পনায় কিছু কাজ হবে না। এজন্যই শুধু কিছু সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে ব্যাপক ও স্থায়ী কর্মপ্রণালীর সুষ্ঠু রূপায়ণ প্রয়োজন। প্রয়োজন গ্রামবাসী বাঙালীর বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুবন্দোবস্ত। তবেই সম্ভব হবে কৃষকের অবস্থার কার্যকর রূপান্তর। বাংলার মানুষ পাবে বাঁচার আশ্বাস।

এগুলিও পড়তে পারেন -

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =

Back to top button