প্রবন্ধ রচনা

নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা 700 শব্দের মধ্যে

নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেনঃ নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা, নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা PDF সহ, অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা , অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা  PDF সহ । এটিও পড়ুন – সুকুমার রায় সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা – Sukumar Roy

অনুরূপ প্রবন্ধ ও নােবেল জয়ী দ্বিতীয় বাঙালী।

নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা

প্রসঙ্গসূত্র: ভূমিকা ; রবীন্দ্রনাথের নোবেল জয়ের ৮৫ বছর পর আরেক বাঙালীর এই বিশ্বজয় ; অমর্ত্য সেনের সংক্ষিপ্ত জীবন-কথা ; অর্থনীতিতে যে বিশেষ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই পুরস্কার ; সারাদেশের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ ; নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য এদেশের উন্নয়নে বিশেষ পরামর্শ ; উপসংহার! ]

ভূমিকা

১৫ই অক্টোবর ১৯৯৮-এর একটি বিখ্যাত বাংলা দৈনিক পত্রিকায় প্রথম পাতা জুড়ে খবরের শিরােনাম-মর্ত্যের সেরা সম্মান বাংলা অমর্ত্য’। ইংরেজী এবং বাংলা সংবাদপত্রগুলির শীর্ষ খবর (head news) অমর্ত্য অর্থনীতিতে মর্ত বিজয়ের বিবরণে সমৃদ্ধ। নানা সমস্যা ও দুঃখে জর্জরিত বাঙালী তথা ভারতবাসীর কাছে । এ বছরের শ্রেষ্ঠ হর্ষ-সন্দেশ যে অমর্ত্য সেনের এই পুরস্কার প্রাপ্তি, তাতে কোনাে সন্দেহ নেই।

তার এই কৃতিত্ব আরাে বেশি গৌরবে উজ্জ্বল এই কারণে যে, এই পুরস্কার এবার তিনি এককভাবে অর্জন করেছেন, কয়েক বৎসরের মতাে যৌথভাবে নয়। অবশ্য এই মহান অর্থনীতিবিদ তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, যারা তার কাজে সহযােগী বা সহকর্মী ছিলেন, তাদের সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করে নিতে পারলে তিনি অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের এই উদার দার্শনিক মনােভঙ্গিই তাকে অর্থনীতি বিদ্যার নিচ্ছিদ্র বাস্তবতার মধ্যে সদাজাগ্রত বিবেকরূপে ভূষিত করেছে।

৮৫ বছর পর আরেক বাঙালীর বিশ্বজয়

৮৫ বছর আগে ‘গীতাঞ্জলি কাব্যের নির্বাচিত কবিতা সমূহের ইংরেজী অনুবাদ রবীন্দ্রনাথকে এনে দিয়েছিল ভারতীয় হিসাবে প্রথম নোবেল পুরস্কার। সেদিন তাঁর কাব্যে মানুষের যে জয়গান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক লগ্নে বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছিল, তাই যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তিম প্রহরে এসে অর্থনীতি নামক জটিল মানব-শাস্ত্রে অন্য আধারে স্বীকৃতি লাভ করল অমর্ত্য সেনের কৃতিত্বে। বস্তুতঃ তিনিও রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে প্রাক-যৌবন ও কৈশোরের শিক্ষা লাভ করে রবীন্দ্রভাব পরিমণ্ডলে বর্ধিত হবার দুর্লভ সুযােগ পেয়েছিলেন। তার অশীতিপর বৃদ্ধা জননী শ্রদ্ধেয়া অমিতা সেন এখনাে শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা। সুতরাং আমরা অত্যন্ত শ্লাঘার সঙ্গে বলতে পারি যে রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন ভারতবর্ষকে দুজন নােবেলজয়ী রত্ন উপহার দিয়েছে। আর রবীন্দ্রনাথের জন্মনগরী কলকাতায় কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিবাহিত করে আরাে তিনজন নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এরা হলেন আর্ত মানবের নিরলস সেবিকা মাদার টেরিজা, পীড়িত মানুষের বেদনায় ব্যথিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কারক স্যার রোনাল্ড রস এবং বিশ্রুত বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন।

অমর্ত্য সেনের সংক্ষিপ্ত জীবন কথা

১৯৩৩ সালের ৩রা নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার মুন্সীগঞ্জের সোনারং গ্রামে মাতুলালয়ে অমর্ত্য সেনের জন্ম। পিতা ডক্টর আশুতােষ সেন, মাতা অমিতা সেন। মাতামহ রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে প্রথম যুগের স্থপতিদের অন্যতম পণ্ডিতপ্রবর আচার্য ক্ষিতিমোহন সেন। ক্ষিতিমোহন ঢাকার লারমিন সংক্ষিপ্ত জীবন-কথা স্ট্রীটের বাড়িতে অমর্ত্যের শৈশব শিক্ষার শুরু। দশ বৎসর বয়সে পঞ্চাশের মন্বন্তর (১৯৪৩) মর্মান্তিক দৃশ্য বালক অমর্ত্যের মনে যে দাগ কেটেছিল, তা এখনাে তার মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে রেখেছে। এরপর শান্তিনিকেতনে শিক্ষালাভ। উজ্জ্বল কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তৎকালীন ইন্টারমিডিয়েট বিজ্ঞান পরীক্ষায় পাশ করে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে ৫৫ সালে বিলেতের কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে গমন। ওখান থেকে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করে দেশে প্রত্যাবর্তন। ৫৬ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার শুরু। তারপর ক্রমান্বয়ে কেমব্রিজ, দিল্লী স্কুল অব ইকনমিক্সে অধ্যাপনা। ১৯৭১-এর পর পাকাপাকি বিদেশেই বাস করছেন। লণ্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স, অক্সফোর্ড, হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা। অবশেষে কেমব্রিজ ট্রিনিটি কলেজের সর্বোচ্চ পদে ‘মাস্টার হিসাবে ১৯৯৭ থেকে কর্মরত। তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম—চয়েস অব টেকনিকস, গ্রোথ ইকনমিক্স, অন ইকোনমিক ইনইকুয়েলিটি, পােভার্টি এন্ড ফেমিনঃ এন এসে অন এন টাইটেলমেন্ট এণ্ড ডিপ্রাইভেশন, অন এথিক্স এণ্ড ইকোনমিক্স, দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হাঙ্গার ; ইণ্ডিয়া ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এণ্ড সােসাল অপারচুনিটি। এছাড়া বেশ কিছু উচ্চমানের অর্থনীতি বিষয়ক দেশী ও বিদেশী পত্রিকা সম্পাদনে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বাংলায়ও অর্থনীতি বিষয়ে বই লিখেছেন।

যে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার

অধ্যাপক সেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ উন্নয়ন-অর্থনীতি-বিষয়ক। তার সমস্ত প্রয়াস সমাজের দরিদ্রতম শ্রেণীর কল্যাণের পর অন্বেষণে নিয়ােজিত। বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন দুর্ভিক্ষের কারণ বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন। অনেক সময় খাদ্যের সরবরাহ অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি হওয়া সত্ত্বেও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও সরবরাহের কল্যাণপন্থী ব্যবস্থার অভাবে দুর্ভিক্ষ হয়েছে। তার অর্থনীতি গত তত্ত্ব কল্যাণমূলক অর্থনীতি (Welfare Economics) আখ্যায় চিহ্নিত। তার মতে, অর্থনীতি শুধু টাকা-পয়সার জগতে কার্য-কারণ খোেজার নৈ্ব্যক্তিক বিদ্যাবিলাস নয়, তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের পেটের খিদে মেটানাের যােগ আছে। একটা মৌলিক উচিত-অনুচিতবােধ আছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অর্থনীতির সঙ্গে দর্শনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলােচনায় একটি নৈতিকতাবােধ যুক্ত করেছে। অর্থনীতি চর্চায় অমর্ত্য সেনের এটিই সবচেয়ে বড় এবং মৌলিক অবদান এবং এই মৌলিক কল্যাণকামী মনস্বিতা সুইডিশ অ্যাকাডেমির সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি লাভ করে তাকে নােবেল জয়ে সম্মানিত করেছে।

সারাদেশের উপন্যাস ও আনন্দ

সমস্ত দেশবাসী অমর্ত্য সেনের মর্ত-বিজয়ের খবরে উচ্ছ্বসিত। শান্তিনিকেতনের প্রতীচী তে অমত্যের মাতৃসমীপে যেন তীর্থযাত্রার ঢল, ঢাকা ও মানিকগঞ্জ তাদের আদি নিবাসে বাংলাদেশের আবাল বৃদ্ধবনিতার তীর্থযাত্রা, প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর, দিল্লীসহ সমস্ত ভারতবর্ষ দূর্গোৎসবের আনন্দিত মুহূর্তে উদ্বেলিত, গর্বিত।

এদেশ উন্নয়নে বিশেষ পরামর্শ

ভারতের অর্থনীতিতে বিশ্বায়নের পাশে সামাজিক সুরক্ষাজাল’ দরকার বলে অমর্ত্য সেনের অভিমত। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, ভূমি সংস্কার উপেক্ষা করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্থহীন। ভারতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সরকার মনােযােগ না দিয়ে শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ করেছে। তাই ভারত সরকারের প্রতি তার সুচিন্তিত পরামর্শ— ভূমি সংস্কার, সাক্ষরতা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষের স্বয়ম্ভরতা গুরুত্ব না পেলে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় ভারতীয় অর্থনীতি থমকে থাকবে। আজকের দিনের লােভ-লাভ, জাতীয় আয়সূচক ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি-চর্চার উষর মরুভূমিতে অমর্ত্য সেন মানবকল্যাণের বর্ষণধারায় স্নাত করে বিশ্ববিবেকের দায়িত্ব পালনে ব্রতী হয়েছেন।

উপসংহার

অমর্ত্য সেনের নােবেল জয় বাঙালী হিসাবে আমাদের যেমন গর্বিত করেছে, তেমনি তার চিন্তার মৌলিকতা আমাদের উপর একটি গুরু দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে। সমস্ত বিদ্যাচর্চাকে সাধারণ

মানুষের কল্যাণের সঙ্গে সমন্বিত করে ঐচ্ছিক জীবনে বিবেক এবং চেতনার অমর্ত্য জ্যোতি বিচ্ছুরিত করার সুকঠিন দায়িত্ব নােবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে অমর্ত্য সেন আমাদের উপর অর্পণ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের নােবেল জয়ের মুহূর্তে

আমরা জন্মাইনি, অমর্ত্যের এই নোবেল অর্জনলগ্নে আমরাও সহযাত্রী, সহকর্মী। আমাদের গর্ব মর্তসীমা লঙ্ঘন করে অমর্ত্য আলোকের পথের অভিযাত্রী।

এটিও পড়ুন – কম্পিউটার প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

ট্যাগঃ

নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা ১০০০ শব্দের মধ্যে, নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা মধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীদের জন্য, নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন রচনা, যেভাবে লিখবেন নােবেল জয়ী অমর্ত্য সেন প্রবন্ধ রচনা?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button