স্বাস্থ্য

জ্বর সর্দি কাশি রোগ এর লক্ষণ ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা

বাড়ীতেই সারিয়ে তুলুন আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় জ্বর, সর্দি এবং কাশি রোগ

জ্বর সর্দি কাশি রোগ:  বাড়ীতে কম বেশি প্রায় সকলের জ্বর, সর্দি, কাশি ঠাণ্ডা গরমে হয়ে থাকে। অনেক সময় ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয় না। বা অবহেলা করা হয়। আমরা একটু সতর্ক হলে সাধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশি নিরাময় করতে পারি মাত্র কিছু টোটকা এবং বাড়ীতে থাকা জিনিসপত্র দিয়ে। তো চলুন কিভাবে জ্বর, সর্দি ও কাশি লক্ষণ দেখে বুঝবেন এবং তার আয়ুর্বেদ চিকিৎসা কিভাবে বাড়ীতে বসে করবেন।

জ্বর সর্দি কাশি রোগ এর লক্ষণ ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা

সর্দি ও কাশি

লক্ষণ :-নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি, গলা খুসখুস করা, জোর কাশি, গা হাত-পা কামড়ানাে, বুক ব্যথা প্রভৃতি এই রােগের প্রধান লক্ষণ। ঠান্ডা লাগা, জলে ভেজা, বাতাস লেগে ঘাম গায়ে শুকানাে, হঠাৎ করে গরম থেকে ঠান্ডা বা ঠান্ডা থেকে গরমে যাওয়া এই রােগ সৃষ্টির কারণ।

চিকিৎসা :-১) বাসক পাতা ১০ গ্রাম, তুলসী মঞ্জুরী ১০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম জলে ফুটিয়ে ১০০ গ্রাম হলে নামাতে হবে। ছেঁকে নিয়ে ৪ চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে হবে ৫ দিন।

২) বাসকপাতা ৪ গ্রাম, তুলসীপাতা ৪ গ্রাম, আদা ৪.গ্রাম, তেজপাতা ৩ গ্রাম, পিপুল ৩ গ্রাম এবং বছ ৩ গ্রাম একত্রে ৩ কাপ জলে সেদ্ধ করে এক কাপ হলে নামাতে হবে। ঐ জল উষ্ণ অবস্থায় চায়ের মতাে খেতে হবে রােজ দুবেলা করে অন্ততঃ ৫ দিন।

৩) বাচ্চাদের হুপিং কাশির জন্য ১০০ গ্রাম গাজর রস, ৫০ গ্রাম মিছরী ১০ গ্রাম বাসক পাতার রস এবং ১০ গ্রাম তুলসী মঞ্জুরী থেতাে করা রস একত্রে জ্বাল দিয়ে যখন গাঢ় হবে তখন নামিয়ে ঠান্ডা করে শিশিতে ভরে রাখতে হবে। ঐ রস দিনে তিনবার রােগীকে খাওয়াতে হবে। প্রত্যেকবারে ১ চামচ রস সামান্য গােলমরিচের গুড়াে মিশিয়ে খেতে হবে। এই ঔষধ ১৫ দিন খেতে হবে।

পথ্যঃ- পুষ্টিকর ও লঘু পাচ্য খাদ্য খেতে হবে। টক্ খাওয়া উচিত নয়।

এটিও পড়ুন – পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিস্তারিত

সর্দি-জ্বর

লক্ষণ:-ঠান্ডা লাগা, জলে ভেজা, বাতাস লেগে ঘাম বন্ধ হওয়া প্রভৃতি কারণে সর্দি-জ্বর হয়। হাচি, নাক দিয়ে জল পড়া, গা-হাত কামড়ানাে, বুক ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব এই রােগের প্রধান লক্ষণ।

চিকিৎসা :- ১০ গ্রাম শিউলী পাতার রস, ১০ গ্রাম তুলসী পাতার রস, ১০ গ্রাম বাসক পাতার রস, ২ চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় খেতে হবে ৩/৪ দিন।

পথ্য :- কালােজিরে, আদা, পেঁয়াজ, রসুন কুঁচিয়ে তেলে ভেজে গরম ভাতের সঙ্গে খেতে হবে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা 

লক্ষণ :-জ্বর বা জ্বরভাব, মাথায় শ্লেষ্মাজনিত বেদনা, চোখ ও নাক দিয়ে জল পড়া, গা ব্যথা, অরুচি, বমি, দুর্বলতা, হাঁচি, কাশি প্রভৃতি এই রোগের প্রধান লক্ষণ।

চিকিৎসাঃ- ৫ গ্রাম ঝালপানের রস, ৫ গ্রাম আদার রস, ১ চামচ মধু, ১ টা মহালক্ষীবিলাস বড়ি (যে কোন কবিরাজী ঔষধের দোকানে পাওয়া যায়) একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে পরপর তিনদিন। পথ্য ও- জ্বর বেশী থাকলে ভাতের বদলে আটার রুটি খেতে হবে।

সাধারণ জ্বরঃ

লক্ষণ :- ঠান্ডা লাগা, হঠাৎ ঘাম বন্ধ হওয়া, অত্যধিক পরিশ্রম করা, আঘাত লাগা, রাত্রি জাগা, স্নান খাওয়ার অনিয়ম, হঠাৎ ঋতু পরিবর্তন প্রভৃতি কারণে এই জ্বর হয়। প্রথমে শীত, কাপুনি ও গা ব্যথা সহ জ্বর দেখা দেয়। কখনাে শীত, কখনাে গরম, গা জ্বালা, অস্থিরতা, পিপাসা, মাথা ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা উদরাময়, নাড়ী দ্রুত চলা, ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস, অরুচি, ময়ল জিহ্বা প্রভৃতি এই রােগের প্রধান লক্ষণ।

চিকিৎসাঃ- ৫ গ্রাম শিউলী পাতার রস, ৫ গ্রাম তুলসী পাতার রস, ১ চামচ মধুসহ সামান্য মকরধ্বজ (যে কোন কবিরাজী দোকানে পাওয়া যায়) মিলিয়ে খেতে হবে দিনে তিনবার করে তিন দিন।

পথ্যঃ- ডাল বা সজি দিয়ে আটার রুটি এবং দুধ খেতে হবে।

এটিও পড়ুন – জ্বর সর্দি কাশি রোগ চেনার উপায়। জ্বর সর্দি কাশি রোগ হলে যা যা করবেন?

ম্যালেরিয়া জ্বর

লক্ষণ :- হঠাৎ করে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে আবার হঠাৎ করে ছাড়ে শরীর ব্যথা, মাথা দপদপ করা, তৃষ্ণা, কখনাে কাশি, কখনাে প্রচন্ড ঘাম প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। অ্যানােফিলিস নামক মশার কামড়ে এই রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।

চিকিৎসা ঃ- ১০ গ্রাম চিরতা, ১০ গ্রাম গুলঞ্চ, ১০ গ্রাম কট্কী, ১০ গ্রাম ক্ষেতপাপড়া, ১০ গ্রাম তুলসীপাতা, ৫ গ্রাম বাসকপাতা ১ কেজি জলে সি করতে হবে। ২০০ গ্রাম হলে নামিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে রেখে দিতে হবে রােজ সকাল ও সন্ধ্যায় আধকাপ করে মধু মিশিয়ে খেতে হবে। ৭ দিন।

পথ্য ও- জ্বর থাকলে ভাত না খাওয়া উচিত। রুটি খাওয়া ভালাে।

টাইফয়েড 

লক্ষণঃ- এই জ্বর সাধারণতঃ ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রথমে শীতবােধ, দুর্বলতা, পেটফাপা, সামান্য চাপ দিলে পেটে ব্যথা, বমি, মাথা যন্ত্রণা, অস্থিরতা, চমকে ওঠা, মুত্র লাল ও অল্প, বুক ও পেটের ওপর এবং পিঠে লাল দাগ বা ফুস্কুরি দেখা দেয়। রােগের প্রথম ৫/৬ দিন বিকাল বেলা শরীরের তাপ ১০০ থেকে ১০২° পর্যন্ত এবং সকালে কম থাকে। ৭/৮ দিন পরে শরীরের তাপ ১০৩° থেকে ১০৪° পর্যন্ত। জিভ প্রথমে সরস পরে অপরিষ্কার ও লালচে। রক্তস্রাব, বাকশক্তিহীনতা, প্রলাপ প্রভৃতি এই রােগের লক্ষণ।

চিকিৎসা – শিউলী পাতার রস ২ চামচ, কালমেঘ পাতার রস ১ চামচ, নিম পাতার রস ১ চামচ, সামান্য বিটলবন এবং মকরধ্বজ একত্রে মিশিয়ে দিনে দু’বার করে খেতে হবে ৭ দিন। (মকরধ্বজ যে কোন কবিরাজীদোকানে পাওয়া যায়)।

পথ্যঃ- আটার রুটি, দুধ, বিভিন্ন ফল খাওয়া উচিত। টক জাতীয় খাবার খাওয়া নিষেধ।

 হামজ্বর 

লক্ষণ :- এই রােগে শিশুরাই বেশী আক্রান্ত হয়। প্রথমে সর্দি, কাশি, হাঁচি, মাথা যন্ত্রনা, জ্বর, বেদনা প্রকাশ পায়। পরে অরুচি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা উদরাময়, শ্বাসকষ্ট, বমি বা বমিভাবসহ লাল লাল চাকা চাকা দাগ অথবা ফুস্কুরি মতাে হাম বের হয়। রােগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে মেথি ভিজানাে জল ১ চামচ করে কয়েক ঘন্টা পর পর খাওয়ানাে উচিত।

চিকিৎসা – ৫০০ গ্রাম জলে ১০ গ্রাম জোয়ান, ৫ গ্রাম বাবুই, ৫ গ্রাম কুড়, ৫ গ্রাম মেথি সিদ্ধকরে জল ২০০ গ্রাম হলে নামিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে রাখতে হবে। সকালে দুচামচ সন্ধ্যায় দুচামচ করে কয়েকদিন খাওয়াতে হবে। (দ্রব্যগুলাে যে কোন দশকমা ভান্ডারে পাওয়া যায়)।

পথ্যঃ লঘুপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানাে উচিত। মিছরীর জল, দুধ খাওয়ানাে প্রয়ােজন। তেল, ঘি জাতীয় খাদ্য খাওয়ানাে নিষেধ।

Pox বা বসন্ত

লক্ষণঃ-বর্তমানে ক্ষতিকারক বসন্তরােগ ভারতে নেই। যা আছে তা খুব সাধারণ বসন্তরােগ। সর্বাঙ্গে বেদনা, শীত, কাপুনিসহ জ্বর হয়। দু’তিন দিন পরে সারা গায়ে গুটি বাহির হয়। ৫/৬ দিনের মধ্যে ঐ গুটিতে জল জমে এবং পুঁজ হয় ও শরীরের তাপ ১০৩° থেকে ১০৭ পর্যন্ত হয়। ৯/১০ দিনের মধ্যে গুটিগুলাে শুকোতে শুরু করে।

চিকিৎসাঃ – গুটি দেখা দেওয়া মাত্র মেথি ভিজানাে জল ২ চামচ করে দিনে ২ বার খেতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত গুটি পুরাে প্রকাশ না পায়। এ ছাড়া হামজ্বরের মতাে ঔষধ তৈরী করে খেতে হবে। সকালে ৪ চামচ সন্ধ্যায় ৪ চামচ করে যতদিন না রােগ ভালাে হয়।

পথ্যঃ- মিছরী ভিজানাে জল, আখের রস সহ বিভিন্ন ঠান্ডা খাবার, দুধ খাওয়াতে হবে। ভালাে না হওয়া পর্যন্ত তেল, ঘি খাওয়া নিষেধ।

কালাজ্বর

লক্ষণঃ- বর্ধিত প্লীহা, অনিয়মিত জ্বর, রক্ত স্বল্পতা এই রােগের বিশেষ লক্ষণ।

চিকিৎসাঃ – জোয়ান, মৌরী, শুঠ, শুকনাে পুদিনা পাতা, গােলমরিচ, বিট লবণ, হরিতকি, শিউলিপাতা, কালমেঘ পাতা, নিমপাতা এবং তুলসী পাতা প্রতিটি জিনিষ ১০ গ্রাম করে নিয়ে ১ কেজি জলে ভালাে করে সিদ্ধ করে ৩০০ গ্রাম হলে নামিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে রাখতে হবে। এই ঔষধ সকালে ১ চামচ এবং সন্ধ্যায় ১ চামচ করে খেতে হবে যতদিন না রােগ ভালাে হয়। প্রয়ােজন হলে ভালাে ডাক্তার দেখানাে আবশ্যক।

পথ্যঃ-লঘু অথচ পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়াতে হবে। টজাতীয় খাদ্য খাওয়া নিষেধ।

তথ্য সুত্রঃ BanglarBhumi

ট্যাগঃ  জ্বর সর্দি কাশি রোগ, জেনে নিন জ্বর সর্দি কাশি রোগ এর লক্ষণ, জ্বর সর্দি কাশি রোগ রোগের চিকিৎসা, জ্বর সর্দি কাশি রোগ কিভাবে সারিয়ে তুলবেন, জ্বর সর্দি কাশি রোগ কেন হয়? জ্বর সর্দি কাশি রোগ হলে কি করবেন? জ্বর সর্দি কাশি রোগ প্রতিরোধের উপায়, ঠান্ডায় জ্বর সর্দি কাশি রোগ রোগের প্রকোপ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button