ভাবসম্প্রসারণ

জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর ভাবস্মপ্রসারণ

জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বরঃ জীবে প্রেম করা আমাদের সকলের উচিৎ। সকলকে সমান ভাবে ভালোবেসে সম্মান দিয়ে বসবাস করলে সুন্দর হবে পৃথিবী দুরহবে হিংসা অহংকার। এই পোষ্টে জীবে প্রেম করে যেই জন এর উপর একটি ভাবস্মপ্রসারণ শেয়ার করা হল। সকল ছাত্রছাত্রীদের এটি কাজে আসবে। 10+ গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ নিয়ে এর আগের পোষ্টে শেয়ার করা হয়েছে চাইলে দেখে নিতে পারেন।

জীবে প্রেম করে যেইজন,

সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।

ভাবসম্প্রসারণঃ

ভারতীয় অধ্যায়মসাধনার মর্মবাণী হল সৃষ্টিতে স্রষ্টার উপলব্ধি, বিশ্বরূপে বিশ্বনাথের অবস্থিতিদর্শন। ঈশােপনিষদের প্রথম শ্লোকেই বলা হয়েছে, এই পরিদৃশ্যমান জগতের। সব কিছু ঈশ্বরের দ্বারা আচ্ছাদিত। শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ এই বিশ্বের মানুষকে অমৃতের পুত্র বলে সম্বোধন করেছে। মহাভারত ঘােষণা করেছে মানুষের চেয়ে মহত্তর কিছু নেই। কিন্তু এই সমস্ত ঘােষণার মর্মমূলে যে সত্যটি নিহিত আছে, তা হল সর্বভূতে ঈশ্বরসত্তার অনুভব। সর্বজীবে, সর্বমানবে ঈশ্বরের প্রকাশ দেখলে, কাউকে ঘৃণা অবহেলার প্রশ্নই আসে না। যিনি সর্বভূতকে আত্ম্বরূপ দেখেন এবং আত্মাকে সর্বভূতে বিদ্যমান দেখেন, তিনি কখনাে বিজুগুপ্সার বশবর্তী হন না। এই অনুভবে অন্তর পরিশুদ্ধ হলে মঠে-মন্দিরে বহুবিধ আচার আর উপাচার সহযােগে ঈশ্বরের আরাধনা করার প্রয়ােজন হয় না। একটি দরিদ্র, ক্ষুধার্ত মানুষকে সেবা করলে মনে হবে ঈশ্বরেরই সেবা করা হল। একটি বিপন্ন জীবকে সহায়তা করে দেবার্চনার আনন্দ লাভ করা সম্ভব। ঈশ্বর দরিদ্ররূপে জগতের দ্বারে দ্বারে পরিভ্রমণরত। একজন গৃহহীনকে গৃহ দিলে তিনি সেই ঘরে আপনার আসন পেতে নেন। সর্বভূতে ঈশ্বরবুদ্ধি জাগ্রত হলে মানুষের হৃদয় সীমাহীন প্রেমে পরিপূর্ণ হয়। সেই প্রেমের প্রেরণাতেই মানুষ আর্তের সেবাকে ঈশ্বরপূজার অন্যতর রূপ বলে মনে কবে। প্রাচীন ভারতীয় ঋষিরা যে ব্রহ্মানুভূতির ঐশ্বর্যে এদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন, তার মঙ্গলপ্রভাব একসময় আমরা বিস্মৃত হয়েছিলাম। উনবিংশ শতাব্দীর ধর্মকেন্দ্রিক নবজাগরণে আবার সেই প্রাচীন উপলব্ধির পুনরুজ্জীবন ঘটলাে। প্রাণহীন প্রস্তর বা মৃত প্রতিমার স্থলে জীবন্ত ঈশ্বর প্রতিমা রূপে মানুষ এবং জীবের প্রতিষ্ঠা হল। জীবসেবাই নবযুগের ঈশ্বর-আরাধনার সর্বোত্তম পন্থারূপে স্বীকৃত এবং অনুশীলিত হল। আজকের যুগে অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জনসেবামূলক কর্মপ্রকল্পের অন্তর্নিহিত প্রেরণা ভারতীয় বেদান্তের ব্রহ্মবাদ। সেই ব্রহ্মনিষ্ঠ কর্মপ্রয়াসই যথার্থ মানবসেবার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। অন্যথায় কর্মীর ফললাভের আকাঙক্ষা এবং কর্তৃত্বের অহমিকা সমস্ত সেবাকর্মকে স্বার্থের পঙ্ধকুণ্ডে নিমজ্জিত করে কলুষিত করবে।

এটিও পড়ুন – গাইসাল রেল দুর্ঘটনা প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button