ভাবসম্প্রসারণ

চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী …. ভাবস্প্রসারন

চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী …. ভাবস্প্রসারন

চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী. ..: সুপ্রিয় ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ” চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী। চোরের দণ্ড হয়, চুরির মূল যে কৃপণ, তাহার দণ্ড হয় না কেন? ” শেয়ার করা হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় এই ভাবসম্প্রসারণটি কাজে আসবে। ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা তােমার দেশে ভাবস্প্রসারনটি শেয়ার করা হয়েছে চাইলে দেখে নিত পারো।

চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী।
চোরের দণ্ড হয়, চুরির মূল যে কৃপণ, তাহার দণ্ড হয় না কেন?

ভাবসম্প্রসারণঃ

চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন যে গহিত অপরাধ, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। অপরের ধন অপহরণ, অন্যের সম্পদে লােভ করা ইত্যাদি পাপ বলে চিহ্নিত। পাপ-পুণ্যের নিরিখে বিচার করলে তস্করমাত্রই শাস্তিযােগ্য। কারণ দোষীর শাস্তি না হলে সমাজে ন্যায়-নীতি বলে কিছু থাকে না। কিন্তু এটুকু বলেই যদি নিশ্চিত থাকা যেত, তাহলে জগতে এত অপরাধ সংঘটিত হাত না। একটি কথা সর্বাগ্রে বিবেচনার যােগ্য। জন্মমুহূর্তে একটি ক্ষুদ্র মানবশিশু নিশ্চয়ই চোর বা অপরাধী হয়ে আসে না। জন্মসূত্রে অপরাধী বলে কাউকে ধরে নেওয়া সমাজবিজ্ঞান এবং নীতিশাস্ত্রের পরিপন্থী। মানবসমাজের ললাটে আদিপাপ বা original sin এর কলঙ্ককালিমা লেপন করে দেওয়াটাই তাে একটা পাপ। যে শিশু সরল হাসি এবং স্বর্গীয় সুষমা নিয়ে এ পৃথিবীতে চোখ মেললাে, কৈশােরে বা যৌবনে হঠাৎ সে একদিন চোর, ডাকাত বা অন্যতর হানিকর দস্যুতে পরিণত হয় না। অবস্থার চাপে পড়ে, জীবনধারণের কঠোরতম প্রয়ােজনের প্রবর্তনায় মানুষ অপরাধ জগতের সঙ্গে প্রথম পরিচিত হয়। ধীরে ধীরে ঐ দুষ্টচক্র তাকে গ্রাস করে ফেলে। তখন সে দুর্ধর্ষ দস্যুতে পরিণত হয়।

এটিও পড়ুন – 500 সমার্থক শব্দ তালিকা PDF সহ, প্রতিশব্দ কি এবং প্রয়োজনীয়তা

অপ্রিয় হলেও একথা নিদারুণ সত্য যে, দারিদ্র্যের জ্বালায় মানুষ চুরি করতে বাধ্য হয়। ধরা পড়লে আইনের ধারানুসারে তার শাস্তিও হয়। কিন্তু এই দারিদ্র্যের মূলে যে কৃপণ ধনিক গােষ্ঠীর নিষ্ঠুরতা, তা অনেক সময় আমরা ভেবে দেখি না। শুধু ধনী হলেই কেউ নিষ্ঠুর হবে—একথাও সমর্থনযােগ্য নয়। নিষ্ঠুর হচ্ছে স্বার্থপর ‘কৃপণ ধনী। অর্থশাস্ত্র একটা মুল তত্ত্বই হচ্ছে অর্থের ব্যবহারজনিত চলনশীলতা (circulation of money) । অর্থ যদি কোন সম্পদ সৃষ্টিতে সহায়তা না করে যখের ধনের মতাে মাটির নিচে গুপ্ত থাকে, তবে তার আর কোন অর্থ নেই। কৃপণ ধনিক সমাজ অত্যন্ত সংকীর্ণ স্বার্থপরতার বশবর্তী হয়ে অপরকে প্রবঞ্চিত করে নিজের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করে এবং তা দেশ বা জাতির কোন কল্যাণকর কাজে বিনিয়ােগ করে না। অপরকে বঞ্চিত করে তারাই সমাজের অপরাধ প্রবণতার বীজ বপন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, চোরের অপরাধ প্রত্যক্ষাগােচর বলে শাস্তির আওতাভুক্ত; কিন্তু যে অপ্রত্যক্ষ এবং অধিকতর হানিকর পরস্বাপহারী ধনের গৌরবে সমাজের মাথায় চড়ে বসে রয়েছে, তার কোনাে শাস্তি হয় না। ধনবৈষম্যের এই নিদারুণ চক্রতলে পিষ্ট হয়ে সমাজের কাঠামােতে যে অবক্ষয়ের বিষাক্ত বীজাণু দৃঢ়মূল হয়ে চলেছে, সে সম্পর্কে সকলের সচেতন হওয়া আশু-প্রয়ােজন। সোর্স – ইন্টারনেট

এটিও পড়ুনঃ  দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ – ভাব সম্প্রসারণ

চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী।
চোরের দণ্ড হয়, চুরির মূল যে কৃপণ, তাহার দণ্ড হয় না কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *