বাংলা ব্যাকরণ

কারক কী? কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করার পদ্ধতি

বিভক্তি ও অনুসর্গসহ কারক, অকারকপদ নির্ণয় পদ্ধতি

কারকঃ বাক্যের অন্তর্গত ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনামপদের অর্থাৎ, নামপদের যে সম্পর্ক বা অন্বয়, তাকে কারক বলে। [ তবে বিশেষণ পদ যদি বাক্যে বিশেষ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তার কারক হয়। যেমনপাপীকে (কর্মকারকে কে বিভক্তি) সকলে ঘৃণা করে।]

বাক্যের মধ্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনামপদের ছয় প্রকার সম্পর্ক হতে পারে যথা1. কর্তৃকারক, 2. কর্মকারক, 3. করণ কারক, 4. নিমিত্ত কারক, 5. অপাদান কারক, 6. অধিকরণ কারক।

এছাড়া, আরও দুটি পদ আছে। যাদের অকারক বলে। কারণ, তাদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের সম্পর্ক থাকে না, থাকে বাক্যস্থিত অন্য কোনােপদের সঙ্গে। যেমন-1. সম্বন্ধপদ, 2. সম্বােধনপদ। একটি আদর্শ কারক বাক্য

কারক কী? কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করার পদ্ধতি

সম্রাট হর্ষবর্ধন প্রয়াগে দীনদুঃখীদিগকে রাজকোষ হইতে স্বহস্তে ধনরত্ন দান করিতেন।

ক্রিয়াপদ প্রশ্ন পদ সম্পর্ক
দান করিতেন কে হর্ষবর্ধন কর্তৃ কারক
কী ধনরত্ন কর্ম কারক
কিসের দ্বারা দীনদুঃখী করণ কারক
কাদের জন্য   নিমিত্ত কারক
কোথা থেকে রাজকোষ অপদান কারক
কোথায় প্রয়াগে অধিকরণ কারক

কর্তৃকারক-  বাক্যের মধ্যে যে পদের দ্বারা ক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে কর্তৃকারক বলে। যেমনবালিকা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে কে এবং বস্তুর ক্ষেত্রে কী প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি কর্তৃকারক।

কর্মকারক – বাক্যের মধ্যে যে পদকে আশ্রয় করে ক্রিয়ার কাজ সম্পাদিত হয়, তাকে কর্মকারক বলে। যেমন—বিমল জল পান করে। সুতরাং, ক্রিয়ার কাছে কি, কাকে, কাদের ইত্যাদি প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি কর্মকারক।

করণ কারক – কর্তা যার দ্বারা বা যার সাহায্যে কোন ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। যেমননির্মলি কলম দিয়ে লেখে। অর্থাৎ, ক্রিয়ার কাছে কি দিয়ে বা কিসের সাহায্যে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি করণকারক।

নিমিত্ত কারক – যখন কোন ব্যক্তি, প্রাণি বা বস্তুর নিমিত্ত বা জন্য কোন ক্রিয়া সম্পাদন করে, তখন যার জন্য করা হয় তাকে নিমিত্ত কারক বলে। যেমন—অন্ধজনে দেহ আলাে। অর্থাৎ, ক্রিয়ার কাছে কাকে, কাদেরকে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি নিমিত্ত কারক।

অপাদান কারক —কোন কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন, উৎপন্ন, ভীত, চলিত, পতিত, চ্যুত, রক্ষিত, গৃহীত হওয়া ইত্যাদি বােঝালে তাকে অপাদান কারক বলে। আর বাক্যস্থিত যে পদে এই অপাদানের অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অপাদান কারক বলে। যেমন বাড়ি থেকে আমাদের স্কুল 1 কিমি. দূরে অবস্থিত। সুতরাং, ক্রিয়ার কাছে কি থেকে, কার থেকে, কোথা থেকে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি অপাদান কারক।

অধিকরণ কারকঃ বাক্যের মধ্যে যে পদের দ্বারা ক্রিয়ার স্থান, কাল, আধার ইত্যাদি বােঝায় তাকে অধিকরণ কারক বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কোনাে বাক্য ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে।যেমন – সুন্দরবনে বাঘ থাকে। 10-টায় বিদ্যালয় বসে। রবীন অংকে ভালাে। অর্থাৎ, ক্রিয়ার কাছে কোথায়, কখন, কোন্ বিষয়ে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি অধিকরণ কারক ।

সম্বন্ধপদ —বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের অর্থাৎ, নামপদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের সম্বন্ধ থাকে না, সম্বন্ধ থাকে কোন বিশেষ্য বা নামপদের সঙ্গে, তাকে সম্বন্ধপদ বলে। যেমন—রবির ভাই উদার। কার বা কিসের প্রশ্ন করে যে উত্তর অন্য পাওয়া যায়, সেটি সম্বন্ধপদ।

সম্বােধনপদ– বাক্যে যে পদের দ্বারা কাউকে আহ্বান করা হয় বা সম্বাধনের পাত্রকে বোঝানা হয় বা কাউকে উদ্দেশ্য করে অর্থপূর্ণ কিছু বলা হয়, তাকে সম্বােধনপদ বলে। সম্বোধন পদের পরে কমা (,) বা বিস্ময় (!) চিহ্ন থাকে। যেমন -মহম্মদ! আমার পেনটা দাও।

বিভক্তি– দুই প্রকার—1.শব্দ বিভক্তি 2. ক্রিয়া বিভক্তি। শব্দের সঙ্গে যে সকল চিহ্ন যুক্ত হয়ে সংখ্যা (একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন) ও কারকের ধারণা জন্মায়, তাকে শব্দবিভক্তি বলে। যেমন—অ (শূন্য বিভক্তি), এ, এতে, এর, কে, র, তে, রা, রে প্রভৃতি। (এখানে ক্রিয়া বিভক্তি আলােচনার প্রয়ােজন নেই)।

অনুসর্গ—যে অব্যয়গুলাে বিশেষ্যপদ বা সর্বনামপদের পরে বসে বিভক্তির কাজ করে, সেই অব্যয়গুলােকে অনুসর্গ বলে। যেমন-দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক, সাহায্যে, হতে, থেকে, চেয়ে, অপেক্ষা, জন্যে, তরে, লাগি, নিমিত্ত, করে, মাঝে, মধ্যে, উপরে, পরে, ভিতরে, নিকটে কাছে, বলে, অবধি, বিনা ইত্যাদি। সাধারণত, অনুসর্গ পদের পরে বসে। যেমন – সীমার মাঝে অসীম তুমি। বিনা কাজে এখানে আসিনি।

বিভক্তি একবচন বহুবচন
প্রথমা ০, অ, এ (য়), তে, এতে। রা, এরা, গুলি (গুলো), গণ।
দ্বিতীয়া ০, অ, কে, রে (এরে), এ, য়, তে। দিগে, দিগকে, দিগেরে, *দের।
তৃতীয়া ০, অ, এ, তে, দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক। দিগের দিয়া, দের দিয়া, দিগকে দ্বারা, দিগ কর্তৃক, গুলির দ্বারা, গুলিকে দিয়ে, *গুলো দিয়ে, গুলি কর্তৃক, *দের দিয়ে।
চতুর্থী দ্বিতীয়ার মতো দ্বিতীয়ার মতো
পঞ্চমী এ (য়ে, য়), হইতে, *থেকে, *চেয়ে, *হতে। দিগ হইতে, দের হইতে, দিগের চেয়ে, গুলি হইতে, গুলির চেয়ে, *দের হতে, *দের থেকে, *দের চেয়ে।
ষষ্ঠী র, এর। *দিগের, দের, গুলির, গণের, গুলোর
সপ্তমী এ (য়), তে, এতে। দিগে, দিগেতে, গুলিতে, গণে, গুলির মধ্যে, গুলোতে, গুলোর মধ্যে।

এটিও পড়ুন – বাগধারা – বাংলা ব্যাকরণ থেকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button