প্রবন্ধ রচনা

সময়ানুবর্তিতা বা সময়ের মূল্য রচনা 600 শব্দের মধ্যে

Value of time, সময়ের মূল্য,  সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়

সময়ানুবর্তিতা অর্থাৎ সময়কে ঠিক মত মূল্যায়ন করা।  ইংরেজিতে Value of time বলা হয়। কথায় আছে সময়ের মূল্য না বুঝলে কোনও কোনদিন কোন কিছুতেই সাফল্য পাওয়া যায় না। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত সফল মানুষ জন্মেছেন, তাঁরা সবাই সময়ের মূল্য দেয়ার ব্যাপারে অন্যদের চেয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কোন সময়ে কোন কাজটি করবেন – তা তাঁরা আগেই থেকেই ঠিক করে রাখেন, এবং ঠিক সময়মতই কাজ করেন।

সময়ানুবর্তিতা প্রবন্ধ অনুসরণে লেখা যায় -সময়ের মূল্য,  সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়, Value of time এবং জীবনে সময়ের মূল্য ইত্যাদি।

সময়ানুবর্তিতা

রচনা-সংকেত: ভূমিকা—সময়ের অপচয়—সময়ের সদ্ব্যবহার ছাত্রজীবনে সময়-নিষ্ঠার মূল্য উপসংহার।

ভূমিকা

নদীর স্রোতের মতো সময়ও নিত্য প্রবহমান। সময় কখনও কারও জন্য থেমে থাকে না। তার ‘অকারণ অবারণ চলা’ বিঘ্নিত হয় না কখনও। অনন্ত এই সময় প্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে মানবজীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। তবু তার এই ক্ষণিক জীবনের সীমানাটিকে ঘিরেই সে গড়ে তোলে সাধ ও স্বপ্নের সৌধ। জীবনের অমৃত পান করবার জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষায় সে ছটফট করে। তারাশঙ্করের সেই গ্রাম্য কবিয়ালের গানের ভাষায় বারবার তার বলতে ইচ্ছে করে, ‘জীবন এত ছোট কেনে।’ সংক্ষিপ্ত জীবনে মানুষের জীবন-পিপাসা বড় প্রবল। কিন্তু কেবল জীবন-পিপাসা থাকলেই চলে না, জীবনকে উপভোগ করতে হলে, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কাজে লাগাতে হয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে। জীবনে চলার পথে সময়ের অপচয় মানে জীবনের অপচয়।

তবু মানুষ জেনে বা না জেনে অহরহ সময়ের অপচয় করে। মানুষের জীবনে সময়ের এই অপচয়ের কথা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। কবি বিদ্যাপতি আক্ষেপ করে বলেছিলেন—

‘আধ জনম হম নিন্দে গোঙায়লু
জরা শিশু কতদিন গেলা।
নিধুবনে রমণী রঙ্গরসে মাতলু
তোহে ভজব কোন বেলা।।’

সময়ের অপচয়

ভালো করে ভেবে দেখলে বেশির ভাগ মানুষের জীবনই তো তাই। জীবনের অর্ধেক কেটে যায় ঘুমিয়ে। তারপর আরও কতভাবে যে কত সময় নষ্ট হয় তার আর ইয়ত্তা নেই। সময় সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে জীবনে সফল হতে পারে না। দীর্ঘসূত্রী মানুষ সময়ের কাজ সময়ে না করে কেবল কালহরণ করে মাত্র। আর সময়ও তার প্রতিশোধ নিতে ছাড়ে না। কর্মবিমুখ কালহরণকারীর জীবনে সম্বল বলতে থাকে শুধু হতাশা।

সময়ের সদ্ব্যবহার

সময়কে ঠিকমতো ব্যবহার করার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের সার্থকতার চাবিকাঠি। সময়ের হাতে নিজেকে সঁপে না দিয়ে সময়কে যাঁরা পুরোপুরি নিজের কাজে লাগাতে পারেন, জীবনে তারাই প্রতিষ্ঠিত হন। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারাই হল সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার। ফসল কাটার মরশুমে ফসল ঘরে তুলতে হলে সময়মতো বীজ বপন করা চাই। সময়-নিষ্ঠা জীবনের এক মহৎ গুণ। আলস্যে কিংবা অবহেলায় সময় অতিবাহিত না করে সময়কে তার পূর্ণ মূল্য দেওয়া দরকার। যে-কোনো সফল ব্যক্তিদের জীবনচরিত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সময়কে তাঁরা কোনোভাবেই উপেক্ষা করেননি। বঙ্কিমচন্দ্র সরকারি উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থেকেও উদ্বৃত্ত সময়ে সাহিত্যচর্চা করেছেন, সম্পাদনা করেছেন ‘বঙ্গদর্শন’-এর মতো পত্রিকা। সময়কে যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন বলেই স্বল্পায়ু জীবনেও অনেকে অনেক মহৎ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ মাত্র ঊনচল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন, কালীপ্রসন্ন সিংহের জীবৎকাল মাত্র ত্রিশ বছর। এই স্বল্প জীবনসীমার মধ্যে তাঁরা যে কীর্তি স্থাপন করে গেছেন তা সম্ভব হয়েছে সময়ের সব্যবহারের জন্যই।

ছাত্রজীবনে সময়নিষ্ঠার মূল্য

ছাত্রজীবনে সময়নিষ্ঠার মূল্য অপরিসীম। ছাত্রজীবন হল মানুষের জীবনের প্রস্তুতিপর্ব। এই পর্বে অন্যান্য শৃঙ্খলা পালনের সঙ্গে সময়কে যথার্থভাবে ব্যবহার করার শিক্ষা একাস্ত ছাত্রজীবনে সময়-নিষ্ঠার প্রয়োজন। সময়নিষ্ঠা ব্যতীত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিদ্যাচর্চায় সফল হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তারা যদি সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সময়ানুবর্তিতাকে তাদের জীবনের অঙ্গ করে তোলে তাহলে নবীন ছাত্রছাত্রীরা নিঃসন্দেহে বিদ্যাচর্চায় প্রভূত সাফল্য পাবে। শুধু বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্রেই নয়, সময়নিষ্ঠা তাদেরকে বৃহত্তর জীবনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবে। এতে কেবল ব্যক্তিগত মঙ্গল নয়, সমগ্র দেশের মঙ্গল। কেননা আজকে যদি নবীন শিক্ষার্থীর দল সময়নিষ্ঠ হয় তাহলে ভবিষ্যতে একদিন তারাই হয়ে উঠবে সময়নিষ্ঠ দায়িত্বশীল নাগরিক।

উপসংহার

কাল নিরবধি হলেও জীবন বড় সংক্ষিপ্ত। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বড় মূল্যবান। সচেতন হওয়া কর্তব্য। মনে রাখা দরকার, বিগত সময় আর কখনোই ফিরে আসে না। সুতরাং সময়ের অপচয় রোধ করে সময়কে করে তুলতে হবে জীবনের উন্নতির সহায়ক। কর্ম-পরিকল্পনার সঙ্গে সময়ানুবর্তিতা যুক্ত হলে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনায়াসেই সাফল্য অর্জন করা যায়। ব্যক্তি ও দেশের অগ্রগতির স্বার্থে সময়ানুবর্তিতার কোনো বিকল্প নেই।

ট্যাগঃ সময়ানুবর্তিতা অর্থ, রচনা সময়ানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা কাকে বলে, সময়ানুবর্তিতা ইংরেজি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button