প্রবন্ধ রচনা

মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

শিক্ষায় মাতৃভাষার প্রাধান্য

মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাঃ মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রবন্ধ রচনা সকল শিক্ষার্থী বন্ধুদের জন্য শেয়ার করা হল। আশা করি মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব এবং কেন মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রয়োজন তার পরিষ্কার ধারনা অর্জন করতে পারবে।

উকিপিডিয়া অনুসারে – মাতৃভাষাপ্রথম ভাষা পরিভাষাটির সংজ্ঞা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। মানুষ যে ভাষায় কথা বলতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, যে ভাষাটি সে তার পিতামাতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে ছোটবেলায় শিখেছে ও ভাষাটি যে অঞ্চলে বহুল প্রচলিত, সে অঞ্চলের মানুষের মতই ভাষাটিতে কথা বলতে সক্ষম, তাকে সাধারণভাবে মাতৃভাষা বলা হয়।

এই প্রবন্ধ অমুসারে অনুরূপ প্রবন্ধ রচনা লেখা যাবে- মাতৃভাষা বনাম বিদেশী ভাষা, শিক্ষায় মাতৃভাষার প্রাধান্য, শিক্ষার প্রাথমিক শর্ত মাতৃভাষা, মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা ইত্যাদি।

মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা

প্রেসঙ্গসূত্র: ভূমিকা; ইংরেজী ভাষার প্রচলন; ইংরেজীর পক্ষে যুক্তি; মাতৃভাষার পক্ষে যুক্তি: বিদেশী ভাষার পরিণাম মাতৃভাষার সুবিধা ; মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন; উপসংহার ।

মাতৃভাষার অপমান দূর হােক, যুগশিক্ষার উদ্বেল
ধারা বাঙালী চিত্তের শুষ্ক নদীর রিক্ত পথে
বান ডাকিয়ে বয়ে যাক, দুই কুল জাগুক
পূর্ণ চেতনায়, ঘাটে ঘাটে উঠুক আনন্দধ্বনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা

“শিক্ষায় মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ। মাতৃদুগ্ধস্বরূপ মাতৃভাষার অভাবে শিক্ষা ব্যর্থ, জাতির ক্রমােন্নতির পথ রুদ্ধ। আরোপিত কষ্টল অস্বাভাবিক বিজাতীয় ভাষায় লন্স জ্ঞানবুদ্ধি হৃদয়ের কাছে আবেদনে অসমর্থ। মাতৃক্রোড়ে লন্ধ ভাষা হৃদয়ের ধন, স্বাভাবিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যম।

১৮৩৫ খ্রীস্টাব্দে মেকলে, বেন্টিঙ্ক-এর সিদ্ধান্ত এবং কতিপয় রায়বাহাদুর খেতাবগ্রস্ত ইংরেজী ভাষার তােযামােদকারীর সমর্থনে ভারতবাসীর উপর মাতৃভাষার স্থানে ইংরেজী প্রচলন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়।

ইংরেজী ভাষার পক্ষে যুক্তি

বিধি-বিধান ও আচার-সর্বস্ব অজ্ঞানতার অন্ধকারে সমাচ্ছন্ন জাতীয় জীবনে অন্ধকার অপসারণ, মৃঢতা-মুক্তি ও বিপ্লবের জন্য জঙ্গম পাশ্চাত্য শিক্ষার স্বারােদঘাটনে ইংরেজী শিক্ষার প্রয়ােজন ছিল। বিশ্ববিদ্যা অর্জন ও বিশ্ববাসীর সঙ্গে যােগাযােগ স্থাপনে আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজীর প্রয়ােজন অনস্বীকার্য। তবে বিদেশী ভাষা-সর্বস্বতা নিশ্চয়ই গৌরবের নয়। পরমুখাপেক্ষী জ্ঞান-মাধ্যমের পরিবর্তে স্বনির্ভরতা নিশ্চয়ই শােভন। সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের তােষামােদকারী পরমুখাপেক্ষী মেকী ইংরেজী প্রেমিকদের বক্তব্য আধুনিক বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, কারিগরি বিদ্যা, চিকিৎসা শাস্ত্র প্রভৃতি সব কিছুই ইংরেজীতে লেখা, বাংলা ভাষা তা প্রকাশে অক্ষম। আন্তর্জাতিক যােগাযােগের জন্য ইংরেজী অপরিহার্য।

মাতৃভাষার পক্ষে যুক্তি

একদা বাংলা ভাষার শৈশবাবস্থায় বিজ্ঞান, কারিগরি বিদ্যা, চিকিৎসা বিদ্যা প্রভৃতি প্রকাশে অন্তরায়ের সৃষ্টি হয়েছিল সন্দেহ নেই; কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, রামেন্দ্রসুন্দর, জগদীশচন্দ্র বসু ও চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য প্রমুখ ভাবুক ও চিন্তাশীল বাঙালী বিজ্ঞান বিষয়ক নানা প্রবন্ধ লিখে প্রমাণ করেন বাংলা ভাষা তা কাটিয়ে উঠেছে, সমৃদ্ধ হয়েছে এর শব্দভাণ্ডার। পরিভাষা ব্যবহার করে সমস্ত ভাব প্রকাশ সম্ভব হয়। দোভাষীর মাধ্যমে ভিন্নবাসীদের সঙ্গে ভাব বিনিময় সম্ভব। স্বভাষায় শিক্ষিত জাপানীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত। সুতরাং ইংরেজী বাধ্যতামূলক না হলেও চলতে পারে।

এটিও পড়ুন – ইংরেজি রিপাের্ট লেখার সঠিক নিয়মাবলী

বিদেশী ভাষার পরিণাম

মাতৃভাষার সঙ্গে ইংরেজীর কোন বিরােধ নেই। ইংরেজী ভাষা শিখতে কে নিষেধ করেছে? স্বতন্ত্র ভাষা হিসাবে ইংরেজী শিক্ষা প্রশংসনীয়। তবে তা শিক্ষার বাহন হবে কেন? ভারতবাসীর শিক্ষায় অনগ্রসরতার কারণ ‘বাহনটা ইংরেজী। ইংরেজ তাদের কায়েমী স্বার্থ দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ও বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ইংরেজী জানা কিছু কেরানী তৈরি করতে চেয়েছিল। এই লক্ষ্যচ্যুত শিক্ষা আমাদের প্রকৃত মানুষ করতে অসমর্থ। না বুঝে মুখস্থ করা-না চিবাইয়া গিলিয়া খাইবার ফল হয়।” বিদেশী ভাষায় আহরিত বিষয় হৃদয়ঙ্গম করতে পারি না—তা মূর্তির পরিপন্থী।

মাতৃভাষার সুবিধা 

সত্যম শিবম সুন্দরম অনুভব করাই শিক্ষার সার্থকতা। তার জন্য দরকার ‘হৃদয়ের শিক্ষা’—আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রত্যয়। মাতৃভাষায় আহরিত জ্ঞান তার একান্ত সহায়ক। চিত্তের গতি অনুসারেই শিক্ষার পথ নির্দেশ করতে হয়। মা দেশমাতৃকা ও মাতৃভাষা সমগােত্রীয়। অনগ্রসরতার জন্য মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা বা পরিহার বিধেয় নয়, মাতৃভাষার উন্নতি বিধানে এগিয়ে আসা উচিত।

মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন

জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বিজাতীয় ভাষার বিরুদ্ধে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষার পক্ষে বাংলাদেশের বহু তরুণ আত্মবলি দিয়েছে। তামিলনাড়ুও মাতৃভাষার অনুকূলে দীর্ঘ আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।

উপসংহার

বাঙালী মনীষীদের মাতৃভাষা আন্দোলন আজ সার্থকতার পথে। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে মাতৃভাষায় আজ পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। গবেষণাপত্রও এখন মাতৃভাষায় দাখিল করা যায়। অফিস-কাছারির সমস্ত কাজ মাতৃভাষার মাধ্যমে স্বীকৃত। আঞ্চলিক ভাষায় গ্রন্থ প্রকাশনার জনা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার অর্থ সাহায্য ও উৎসাহ দেন। শুধু সরকারী সাহায্য নয়, মাতৃভাষার প্রসার ও উন্নতির জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button