Tuesday, October 27, 2020
প্রবন্ধ রচনা

ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

ভারতের দর্শনীয় স্থান

ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তাঃ এই পোষ্টে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা প্রবন্ধ রচনা শেয়ার করা হল। সকল শিক্ষার্থী বন্ধুদের ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা প্রবন্ধ রচনাটি বিভিন্ন পরীক্ষায় কাজে আসবে। গ্রন্থাগার প্রবন্ধ রচনা 1000 শব্দের মধ্যে, এর আগের পোষ্টে শেয়ার করা হয়েছে চাইলে দেখে নিতে পারেন। [ ১০০০+ ইংরেজি প্রবন্ধ রচনা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ]

ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা প্রবন্ধ রচনা অনুকরণে অনুরূপ প্রবন্ধঃ ভ্রমণের শিক্ষাগত দিক; ভ্রমণের আনন্দ ; শিক্ষার অঙ্গ ভ্ৰমণ

ভারতের দর্শনীয় স্থান

ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা

[ প্রসঙ্গসূত্র: ভূমিকা ; ত্রূটিমুক্তির জন্য ভ্রমণ ; ভ্রমণের শিক্ষাগত দিক; বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয় ; ভ্রমণ মনের প্রসারতা বাড়ায় ; ভ্রমণে দেশের প্রগতি; উপসংহার।]

“ভ্রমণ হলাে সেই নতুন জলের জোয়ার, যেটা বদ্ধজলায় ঢুকে জলকে নির্মল করে, চলতি জীবনের মধ্যেই এক প্রকার নবীনতা আনে। ভ্রমণের সেটি মস্ত সার্থকতা।” –প্রবোধকুমার সান্যাল

ভূমিকা

চরৈবেতি চটরেবেতি-চলাে চলাে, অগ্রসর হও। ঐতরেয় ব্রাহ্মণের এই মন্ত্রে মানুষের হৃদয়তন্ত্রী গ্রথিত। সে নিরন্তর চলতে চায়, চলাই তার প্রধান ধর্ম; তা ছাড়া যাযাবরী বৃত্তির জন্য মানুষকে এক স্থান থেকে অন্যত্র পাড়ি জমাতে হয়, ঘাটি গাড়তে হয় অন্য এলাকায়।

ত্রূটিমুক্তির জন্য ভ্রমণ

ভ্রমসংশােধনের জন্য মন-ভ্রমণ। ভ্রমণ অজানাকে জানতে, অচেনাকে চিনতে, অপূর্ণতাকে পূর্ণ করতে সাহায্য করে। অজ্ঞতার পরিবর্তে নতুন জ্ঞানের সন্ধান, কুসংস্কার রূপ অন্ধকার থেকে আলাের জগতে উত্তরণের নিশানা দেয় ভ্রমণ। মনের উদারতা, হৃদয়ের প্রসার ও বিস্তৃতির জন্য ভ্রমণ একান্ত প্রয়ােজন। কোন এক সীমার মধ্যে একনাগাড়ে বসবাসের ফলে মানুষের চিত্তে আসে অবসাদ, মনে আসে একঘেয়েমি। মন তখন ছুটে বেড়াতে চায় ; আবহাওয়া পরিবর্তন করে তখন সেই মনের ক্লান্তি দূর করে নিতে চায়। ছকে বাধা গতানুগতিক দৈনন্দিন জীবনের পরিবর্তে ভ্রমণ দেয় মুক্তির স্বাদ। অজানার রুদ্ধ দুয়ার হয় উন্মােচিত। নতুনের ছোঁয়ায় আমরা আমাদের ঈর্ষা, লোভ, স্বার্থ প্রভৃতি ক্ষুদ্র বৃত্তিকে পরিহার করে উদার হই, বিরাটের সম্মুখীন হই। গতানুগতিকতার একঘেয়েমি ও দৈনন্দিন জীবনের বন্ধন থেকে ভ্রমণ আনে মুক্তি।

ভ্রমণের শিক্ষাগত দিক

ভ্রমণের একটা শিক্ষাগত দিক আছে। স্কুল-কলেজের পঠন-পাঠন, পত্র-পত্রিকা পাঠ, বক্তৃতা ও সভাসমিতি থেকে মানুষ জ্ঞানার্জন করে সন্দেহ নেই। তবে এ জ্ঞান পরােক্ষ জ্ঞান। একটা স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ধর্মীয় মহিমা, সাহিত্যিক প্রেরণা, আপ্তবাক্য থেকে আহৃত জ্ঞানে কোথায় যেন অপূর্ণতা থেকে যায়। প্রত্যক্ষ করলে সেই শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়। সেইজন্য পাশ্চাত্য দেশে প্রত্যক্ষ বস্তুর সংস্রবের জন্য ছাত্রছাত্রীদের ভ্রমণ আবশ্যিক। শিক্ষার অপূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করার জন্য ভ্রমণরূপ গবেষণাগার প্রয়ােজন।

বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয়

দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা বিচিত্র মানবের সংস্রবে আসতে সমর্থ হই। তাদের রীতি-নীতি, আচার-আচরণ, জীবনযাত্রা, শিক্ষাদীক্ষা, পোশাক-পরিচ্ছদ, সেখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হই। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তারা যে জীবনমান নির্ণয় করেছে, অতি সহজে কেবল ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় তা আমরা আয়ত্ত করতে পারি। তাদের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যায়নে আমাদের দোষ ত্রুটি পরিহার করে তাদের সেই ভাল দিক গ্রহণ করতে পারি।

ভ্রমণ মনের প্রসারতা বাড়ায়

দেশ ভ্রমণ মানুষের মনকে প্রসারিত করে, ক্ষুদ্র ও খণ্ড দৃষ্টির পরিবর্তে বিশ্ব-মানবতার সঙ্গে একসূত্রে গেঁথে দেয়। এদেশ আমার, ওদেশ তোমার এই ক্ষুদ্র সীমার বাইরে বিশ্বজগতের মানব গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্তরের যােগ উপলব্ধি করতে শেখায়। দেশাচার, বিভিন্ন কুসংস্কার এই উপলব্ধির অন্তরায়। দেশ ভ্রমণের ফলে মানুষ সেই বাধাকে অতিক্রম করতে পারে অন্তর পারে মুক্ত করতে। বৃহত্তর মানব সমাজের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আলাপ-আলােচনায় আহরিত জ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের অধীত জ্ঞানের তুলনা শতগুণে শ্রেয়ঃ।

ভ্রমণে দেশের প্রগতি

দেশবিদেশ ভ্রমণ শুধু মনের আনন্দ, নয়নের তৃপ্তি, ব্যক্তিজীবনের পুষ্টি নয়, জাতির মঙ্গলসাধনে এর সার্থকতা। স্বীয় জাতির ত্রুটি-বিচ্যুতি, গলদ সংশােধনের উপায় ভ্রমণের মধ্যে নিহিত। ভিন-দেশের শিল্পকলা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রভৃতির পর্যালোচনা এবং নিজ দেশে তার প্রয়ােগ করে উন্নতিসাধন ভ্রমণের পরােক্ষ ফল।

উপসংহার

ইউরােপ আমেরিকার ধনতান্ত্রিক দেশের ছাত্র ছাত্রীর মতে আমাদের গরীব দেশের ছাত্রছাত্রীর ভ্রমণ বাধ্যতামূলক না হলেও তাদের বিশেষ সুযােগ-সুবিধা আছে। এই সুযােগ-সুবিধা বাড়তে থাকবে। বাঙালীর মধ্যে ভ্রমণ আজ বেশ জনপ্রিয়। উত্তরােত্তর ভ্রমণ আরাে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা রাখি।

এগুলিও পড়ুন

Leave a Response