উৎসব

2022 বারুণী পুজা এর নির্ঘণ্ট Baruni Puja Date & Time

বারুণী পূজা কবে এবং কেন পালন করা হয়? এই পুজার মাহাত্ম্য

হিন্দু ধর্মের মত অনুসারে বরুণের কন্যা বারুণী। বরুণের পূজা বা গঙ্গাপূজা-সংক্রান্ত উৎসব উৎসবকে বারুণী পুজা (Baruni Puja) বা বারুণী উৎসব। প্রতি বছর চৈত্র মাসে বারুণী তিথিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেই অনুসারে এ বছর ৩০ মার্চ বারুণী পূজা হবে। নিম্নে বারুণী পুজা সময় সূচি ও ক্যালেন্ডার শেয়ার করা হয়েছে।

হিন্দু ধর্মের প্রথা অনুসারে বারুণী তিথিতে গঙ্গা স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কথিত আছে যে এ তিথিতে গঙ্গা স্নান করে এক মনে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা প্রার্থনা করলে ঈশ্বর সব পাপ ক্ষমা করে দেয় এবং সে ঈশ্বরের অপার কৃপা লাভ করে। যদিও এটা হিন্দুদের একটা ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় তবে বর্তমানে হিন্দু-মুসলিমের মিলে সমানে এই উৎসব পালন করে। প্রতিটি বাড়িতে একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। প্রতিটি ঘরে শুরু হয় আত্নীয়-স্বজনদের আনাগনা।

কবে এই উৎসব শুরু হইছে তা সঠিক ভেবে কেউ বলতে পারে না। তবে ধারনা করা হয় এটা শত বছরেরও অধিক সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

2022 বারুণী পুজা এর নির্ঘণ্ট

উৎসবের নাম

তারিখ ও বার

বারুণী পুজা বুধবার, ৩০ মার্চ ২০২২

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে বারুণী পুজা হবে – বুধবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৮

এটিও পড়ুন – 2022 নীলপূজা নির্ঘণ্ট ও ক্যালেন্ডার-Nil Puja Date Time

বারুণী পুজা এর  মাহাত্ম্য

বারুণী স্নান :- স্কন্দ পুরাণ অনুসারে চৈত্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে শতভিষা নক্ষত্র যোগ হলে সেই তিথি বারুণী নামে পরিচিত। এই তিথিতে স্নান করলে বহুশত সূর্যগ্রহনের জন্য গঙ্গাস্নানের যে ফল সেই ফল লাভ করা যায়। হিমালয় কন্যা গঙ্গার অপর নাম হল বারুণী। বারুণী স্নান বলতে এখানে গঙ্গা স্নানেরই প্রতিরুপ।বাঙলা সনের প্রতি চৈত্র মাসের শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে এই স্নান অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্র মতে কোন বছর যদি ঐদিনটি শনিবার হয় তবে ঐ বারুণী স্নান অসাধারণত্ব লাভ করে মহা বারুণী স্নান রুপ লাভ করে।এই স্নান টি বস্তুত্ব হিন্দু ধর্মীয় একটি পূন্য স্নান উৎসব।জীব জগতের পঙ্কের মধ্যে পথ চলতে গিয়ে পাপাচারে পূর্ণ্,ক্লেদাক্ত মুনস্যকুল এই পূণ্য স্নানের মধ্যমে পাপ মুক্ত হয়। দক্ষিণ জনপদের এই কপিলমুনিতে ঠিক কবে থেকে বারুণী মেলার আয়োজন হয়ে আসছে তা হিসেব করা খুব কঠিন।জনস্রুতি এমন পুন্যত্মা কপিল কালের কোন এক সময় সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য কপোতাক্ষের পাড়ে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির স্থাপন করেন এবং তিনি সেখানে ধ্যান মগ্ন অবস্থায় আদ্যা শক্তির সাক্ষৎ পান। গভির ধ্যানের দ্বারা তিনি সেখানে গঙ্গাকে কপতাক্ষের সঙ্গমে একত্রিত করেন।সময়টি ছিল চৈত্র মাসের শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী।আর এখানেই স্থাপন করেছিলেন বারুণী স্নানঘাট।
বারুণী পুজা উপলক্ষে উৎসব ও মেলাঃ

  • নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার বড় চাঁদঘর গ্রামে বারুণী তিথি হইতে ৩ দিন ব্যাপী সাড়ম্বরে হরিঠাকুরের আবির্ভাব উৎসব ও মেলা।
  • দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানার শিবপুর গ্রামে বারুণী স্নান উপলক্ষ্যে বহু প্রাচীন উৎসব ও মেলা।
  • বর্ধমান জেলার রায়না থানার অন্তর্গত মসজিদপুর গ্রামে শ্বেতগঙ্গা দীঘিতে বহুনরনারীর পুণ্যস্নান ও বারুণীর মেলা।
  • জলপাইগুড়ি জেলার জলপাইগুড়ি থানার বোয়ালমারী গ্রামে বারুণী হইতে এক সপ্তাহকাল ব্যাপী ধর্মসভা উৎসব।
  • উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গাইহাটা ঠাকুরনগর গ্রামে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে একযোগে ধর্মগুরু হরিঠাকুরের আবির্ভাব উৎসব ও মেলা এবং বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়।
  • বাঁকুড়া জেলার ছাতনা থানার অন্তর্গত শুশুনিয়া গ্রামে তিনদিন ব্যাপী বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা। এছাড়া বড়জোড়া থানার অন্তর্গত কৃষ্ণনগর গ্রামে ৩ দিন ব্যাপী রঙ্কিণীদেবীর পূজা ও বারুণী স্নান উৎসব ও মেলা।
  • বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার অন্তর্গত জৌঘার গ্রামে যৌগাদ্যা দেবীর পূজা ও বারুণী স্নান উৎসব ও মেলা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button