উৎসব

2022 ফলহারিণী কালী পূজা সময় নির্ঘণ্ট

Phalaharini Kali Puja Date & Time in India, দেবী ফলহারিণী কালিকাপূজা সময় সূচি

জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে মা কালীকে ফলদান করলে ফল প্রাপ্তি হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা ফলহারিণী অমাবস্যা। শ্রী শ্রী ফলহারিণী কালী পূজা (Phalaharini Kali Puja) জৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে অনুষ্ঠিত হয়। দেবী ফলহারিণী কালীর বিভিন্ন নাম রয়েছে। কোথাও নিত্যকালী, কোথাও মহাকালী, কোথাও ভদ্রকালী, কোথাও শ্যামাকালী, কোথাও রক্ষাকালী, কোথাও সিদ্ধেশ্বরী কালী, কোথাও শ্মশানকালী, কোথাও রটন্তীকালী, আবার কোথাও ফলহারিনী কালী নামে পূজিত হন। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ফলহারিণী কালী পুজোর দিন শ্রীমা সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন বলে আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজো নামে পরিচিত।

ফলহারিণী কালী পুজার তাৎপর্য

শ্রী ফলহারিণী কালী কথাটি কথাটি এসেছে যিনি আমাদের কর্মফল হরণ করেন এবং মোক্ষ দান করেন। দেবি আমাদের কর্মফল হরণ করে আমাদের মুক্তি দেন। জীবনের সমস্ত বিপদ – আপদ, দুঃখ – দুর্দশা, দৈন্য, ব্যাধি ও সব অশুভ শক্তির বিনাশ করেন। ফলস্বরূপ – আমাদের ঐশ্বর্য্য, আরোগ্য, বল, পুষ্টি, কীর্তি, বংশগৌরব মুখ্য সবই প্রদান করেন। এক কথায় পরম প্রাপ্তি ও পরমাত্মা দুটোই লাভ করা যায়। এই ফলহারিণী কালী পুজোয় সাধকের মনে আধ্যাত্ম্য চেতনার দ্রুত বিকাশ ঘটে।

দশমহাবিদ্যার দেবী কালীর যে দশটি রূপ- তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, বগলা, ধূমাবতী, মাতঙ্গী, কমলা – ষোড়শীর রূপটি সেই আদিশক্তি মহামায়ার রূপ। এই দিন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেব মা সারদাদেবীকে বিদ্যা এবং শ্রীবিদ্যাদাতৃরূপে পূজা করেন।

2021 ফলহারিণী কালী পূজা সময় নির্ঘণ্ট

উৎসবের নাম উৎসবের দিন উৎসবের তারিখ
ফলহারিণীকালী পূজা রবিবার ২৯ মে, ২০২২

বাংলা পঞ্জিকাঃ Joishtho 14, 1429

2021 ফলহারিণী কালী পূজা সময় নির্ঘণ্ট

উৎসবের নাম উৎসবের দিন উৎসবের তারিখ
ফলহারিণীকালী পূজা বুধবার ৯ জুন, ২০২১

বাংলা পঞ্জিকাঃ  ২৫ শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

ফলহারিণী কালী পুজোর নির্ঘণ্ট

৯ জুন ২০২১ , জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণীকালী পুজোর দিন পড়েছে। ৯ জুন, বুধবার দুপুরে ১.৩২ মিনিটে অমাবস্যা শুরু এবং ১০ জুন বৃহস্পতিবার দিবা ৩টে ২৯ মিনিট পর্যন্ত।

এটিও পড়ুন – 2022 ফলহারিণী কালী পূজা সময় নির্ঘণ্ট

পুজার সময় ১৬টি কলা ও ৫টি ফল, ফুল, ক্ষীরের মিষ্টি, বস্ত্র, দক্ষিণা-সহ সহ কোনও কালী মন্দিরে পুজো দেওয়া উচিত। মনের যে কোনও একটি ইচ্ছা পূরণ করতে মা কালীর চরণে একটি ফল দিন আর সারা বছর ওই ফলটি খাবেন না। এছাড়াও মা কালীর মন্দিরে পাঁচটি ফল দিন। মাতৃস্থানীয়া কোনও মহিলাকে পাঁচটি ফল দিন আর প্রণাম করে আশীর্বাদ নিন। আর্থিক কষ্ট দূর করার জন্য মা কালীর মন্দিরে ক্ষীর দিয়ে পুজো দিন। ক্ষীরের অভাবে ক্ষীরের প্যারা দিয়েও পুজো দিতে পারেন।

মনে রাখতে হবে, কালী নারীশক্তির প্রতীক। তাই নারী জাতির প্রতি কুদৃষ্টি রাখে যারা বা নারী জাতিকে অবজ্ঞার চোখে দেখে যারা, তারা কালীর পুজো করলেও কোনও ফল পাবে না।পাশাপাশি একটি সরষের তেলের প্রদীপ জ্বেলে দিতে ভুলবেন না কিন্তু।

কালী পূজা করলে কী হয়?

এক কথায় বলতে গেলে কালীপুজো করলে আমাদের প্রত্যেকের বিদ্যা, কর্ম ও অর্থভাগ্যের উন্নতি ঘটে। প্রেম-প্রণয়ে বাধা দূর হয়। দাম্পত্য সাংসারিক জীবনেও সুখশান্তি লাভ হয়।

ফলহারিণী কালিকাপূজা উপলক্ষে মেলা

  • হাওড়া জেলার অন্তর্গত পাঁতিহাল (মগুলা) মহেশতলার বিখ্যাত প্রাচীন বারোয়ারী শ্রীশ্রী ফলহারিণীকালিকা পূজা, বলিদান, অন্নকূট উৎসব ও মেলা।
  • বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত ছাতনা থানার ঝান্টিপাহাড়ী গ্রামে দুইদিন ব্যাপী ‘হুচুক গাজন’ উৎসব ও মেলা।
  • মালদহ জেলা অন্তর্গত কালিয়াচক থানার রসিলাদহ গ্রামে সর্ব্বমঙ্গলা দেবীর বেদীতে ফলহারিণীকালীপূজা।
  • পূর্ব মেদিনীপুর জেলা অন্তর্গত পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত বেগুনবাড়ী গ্রামে শ্রীশ্রীফলহারিণী কালীপূজা উৎসব ও দশ দিন ব্যাপী মেলা।
  • বর্ধমান জেলার অন্তর্গত মায়াপুরে শ্রীশ্রীফলহারিণী কালিকামাতার পূজা ও উৎসব।
  • পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত দাসপুরে কণিষ্ক মহারাজের অমরাবতী আশ্রমে জগদ্বিশ্বরী মহাকালীকার (শ্রীশ্রীফলহারিণী কালীকামাতার) বৈষ্ণবী মতে পূজাপাঠ ও অন্নসেবা।
  • হুগলী জেলার অন্তর্গত হরিপাল থানার ধান্যহানা গ্রামে শ্রীশ্রীফলহারিণী-কালীকাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
  • বীরভূম জেলার অন্তর্গত মুরারই থানার অন্তর্গত বাহাদুরপুর গ্রামে ফলহারিণী কালী ও ষষ্ঠী পূজা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button