কর্ম-শিক্ষাটিপসব্যবসা

পােশাক তৈরিতে মাপ নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি

পােশাক তৈরিতে মাপ: শেলাই যারা ভালো বাসেন কিংবা সেলাই নিয়ে কাজ করতে চান তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট। অনেকেই বাড়িতে সেলাই শিখতে চান? কিন্তু সেভাবে শেখা হয় না। এই পোষ্ট টি ভালো ভাবে পড়লে আসা করি সেলাইয়ের মাপ সম্পর্কে একটি ভালো ধারনা চলে আসবে। নিম্নে পােশাক তৈরির সময় মাপ দেওয়া পদ্ধতি শেয়ার করা হল।

পােশাক তৈরিতে মাপ নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি :

পােশাক তৈরি করার সময় বিশেষ করে দুটো বিষয় খুব জানা প্রয়ােজন – ১) একটি হল কাটিং এবং ২) আরেকটি হল সেলাই। পােশাক তৈরির সময় শরীরের মাপ ঠিকমতাে নিয়ে তারপর কাপড় কাটতে হয়।

ফিতের সাহায্যে শরীরের মাপ নেওয়া হয়। মাপ কেমন করে নিতে হবে এবং কোন্ মাপটি শরীরের কোন স্থান থেকে কোন স্থান পর্যন্ত নিতে হবে তা নীচে দেওয়া হল দেওয়া হল-

 ছাতি : বুক ও পিঠের চারদিকে ঠিক বগলের নীচ দিয়ে ফিতে ঘুরিয়ে মেপে যতটা লম্বা হয়, সেটাই ছাতির মাপ। মাপ নেওয়ার সময় এক আঙুল রেখে মাপ নিতে হবে।

ঝুল : জামার ক্ষেত্রে ঠিক গলার পাশে কাঁধের উপর থেকে নীচের দিকে প্রয়ােজন অনুযায়ী নিতে হবে। প্যান্ট বা পায়জামা বা সায়ার ক্ষেত্রে কোমর থেকে নীচের দিকে প্রয়ােজন অনুযায়ী নিতে হবে।

গলা : গলার নীচের অংশের চতুর্দিকের ঘেরের মাপ। মাপ নেওয়ার সময় গলা ও ফিতার মধ্যে একটি আঙুল রেখে মাপ নিতে হবে।

পুট : পিঠের মেরুদণ্ডের ওপরের অংশ যেখানে ঘাড় স্পর্শ করেছে, ঠিক ওই স্থান থেকে কাঁধের শেষ পর্যন্ত যেখানে হাত আরম্ভ হয়েছে ওই পর্যন্ত যতটা মাপ, সেটাই হল পুটের মাপ।

পুটহাতা : পুটের মাপ যেখান থেকে আরম্ভ হয়েছিল সেইখান থেকে কাঁধের ওপর দিয়ে হাতের কবজি পর্যন্ত যতটা মাপ, সেটাই হল পুটহাতা। হাফশার্ট বা ব্লাউজের হাতার মাপ কনুইয়ের ওপর পর্যন্ত নিতে হয়।

জামার মুহুরি : হাতের কবজির চারদিক ঘুরিয়ে যে মাপ নেওয়া হয়, তাকে মুহূরি বলে।

সেন্ত : মেরুদণ্ডের ওপরের অংশ যেখানে ঘাড় স্পর্শ করছে, সেখান থেকে কোমর পর্যন্ত মাপ। ব্লাউজের ক্ষেত্রে সেস্তর মাপ প্রয়ােজন।

কোমর : কোমরের চারদিকে ঘুরিয়ে ফিতার ভেতরে চারটি আঙুল দিয়ে কোমরের মাপ নিতে হবে।

পাছা : পাছার চারদিক ঘুরিয়ে ফিতা ও পাছার মধ্যে একটি আঙুল দিয়ে পাছার মাপ নিতে হয়।

হাই : নাভিতে ফিতা ধরে দুই পায়ের মধ্য দিয়ে পেছন দিকে কোমর পর্যন্ত (মেরুদণ্ডের ওপর) মাপই হল হাই-এর মাপ।

হাঁটু : হাঁটুর চারপাশ ঘুরিয়ে বেশ ঢিলাভাবে এই মাপ নিতে হয়।

প্যান্টের মুহুরি : হাঁটুর মাপ থেকে ২-৩ ইঞ্চি কম নিতে হয়।

এটিও পড়ুন – রােগ নির্ণয় করতে হলে রােগীর এই তথ্যগুলি জানা জরুরী

Underpant বা underwear : সাধারণত কাপড়ের নীচে পরার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এগুলি পায়জামার মতাে কাটতে হয়। কেবল লম্বার মাপ হাঁটুর কিছুটা ওপর পর্যন্ত নিতে হয়। Underpant-এর মাপ নিতে হয়-কোমর, পাছা, এবং ঝুল।

 ব্লাউজ (Blouse) তৈরি :

একটি মাঝারি সাইজের ব্লাউজ বানাতে ১ গজ বা ৮০ সেমি কাপড়ের প্রয়ােজন। ব্লাউজ তৈরি করার জন্য নিম্নলিখিত মাপগুলি প্রয়ােজন –

ছাতি, কোমর, সেস্ত, পুট, পুটহাতা ও মুহুরি। ব্লাউজের সামনের দিক ও পেছনের দিক আলাদা করে কাটতে হবে। প্রথমে কাপড়টি দু’ভাঁজ করে মাপ অনুযায়ী পেছনের পাট কাটা হয়। এরপর সামনের অংশকে দুভাগ করে কাটা হয়। সামনের পাট দুটি পেছনের পাট থেকে একটু বড়াে করে কাটতে হবে। এর পর মাপ অনুযায়ী হাতা, কোমর, পট্টি ও গলার পট্টি কাটতে হবে।

এখন উলটো দিকটা সামনের দিকে এনে রান সেলাই, বখেয়া সেলাই-এর সাহায্যে জোড়া অংশগুলিকে জুড়ে দেওয়া হল। সেলাই এমনভাবে করতে হবে যাতে জোড়া ধারগুলি দেখা না যায়।

সালােয়ার (Salwar) ও কামিজ (Kameeze) তৈরি:

এটি মহিলাদের আধুনিক শৌখিন পােশাক। প্রমাণ সাইজের সালােয়ার তৈরির জন্য 2.5 গজ কাপড়ের প্রয়ােজন। সালােয়ারের মাপগুলাে হল-লম্বা, পাছা, মুহূরি। কামিজ-এর ক্ষেত্রে প্রয়ােজনীয় মাপগুলাে হল লম্বা, ছাতি, সেস্ত, পুট, কোমর, পুটহাতা এবং মুহুরি।

ফুলপ্যান্ট তৈরি :

ফুলপ্যান্টের ক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচটি মাপ নিলেই প্যান্ট কাটা যায়। মাপগুলি হল—-লম্বা, কোমর, পাছা, হাঁটু, এবং মুহরি। সামনের অংশ ও পেছনের অংশ আলাদাভাবে কাটতে হয়। প্রমাণ সাইজের ফুলপ্যান্ট বানাতে ।2 মিটার (ডবল বহর) কাপড় লাগে। প্যান্ট তৈরি করতে সাধারণত যে জিনিসগুলি দরকার, সেগুলি হল- বক্রম, পকেটের কাপড়, কেলিকো কাপড়, বােতাম এবং সেলাই-এর জন্য সুতাে।

পায়জামা (Pyjama) তৈরি :

পায়জামা পুরুষরাই সাধারণত পরে, পায়জামা দুই ধরনের হয়। (১) ঢিলে পায়জামা এবং (২) চুড়িদার পায়জামা। পায়জামার জন্য ২ মি. ৩০ সেমি, কাপড় লাগে। পায়জামার মাপ নিতে হয়—ঝুল, পাছা, কোমর, মুহূরি।

টিলে পায়জামার জন্য মাপ নিতে হয় ঝুল, পাছা, কোমর, মুহুরি । চুড়িদার পায়জামার জন্য অন্যান্য মাপের সাথে হাঁটু, হাঁটুর নীচের এবং উরুর মাপ টাইট করে নিতে হয়। সম্পূর্ণ পায়জামা বখেয়া ফোঁড়ের সাহায্যে সেলাই করতে হবে, তাতে পায়জামা টেকসই হয়।

সায়া বা পেটিকোট (Petticoat) তৈরি :

সায়া বা পেটিকোট দুই কাট থেকে দশ কাট পর্যন্ত হয়। যতগুলাে কাট থাকবে ততগুলাে পিস জোড়া দিয়ে সেলাই করতে হবে। সায়ার প্রধান মাপ ঝুল ও কোমর। তবে প্রতিটি কাট বা পিস-এর মাপও নিতে হবে। সাধারণ কাপড়ের বহর ৩৬ ইঞ্চি হলে দু’গজ কাপড়ে ৩৪ ইঞ্চি ঝুলের সায়া করা যাবে। সায়ার নীচে ফ্রিল দিলে অবশ্য আড়াই গজ কাপড় লাগবে। সায়ার জন্য লয়েন ক্লথ কাপড়ই ভালাে।

এটিও পড়ুন –চিরযৌবন ও দীর্ঘায়ু লাভের সঠিক উপায়

ট্যাগঃ পােশাক তৈরিতে মাপ নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি, জেনে নিন পােশাক তৈরিতে মাপ নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি, স্টেপ বাই স্টেপ পােশাক তৈরিতে মাপ নেওয়ার পদ্ধতি, সহজ উপায়ে পােশাক তৈরিতে মাপ ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button