বাংলা ব্যাকরণ

পদ পরিবর্তন কী? 500+ পদ পরিবর্তন

পদ পরিবর্তনঃ ব্যাকরণে, পদ হচ্ছে একটি ভাষার ভাষাগত বিভাগ যা সেই ভাষার বাক্যের নির্মাণ পদ্ধতি এবং শব্দের সনাক্তকরণ, বিশ্লেষণ, এবং অন্যান্য ভাষাগত গঠনের বর্ণনা করে। বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকেই এমন ভাবে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়, যার জন্য প্রতিটি শব্দের মধ্যে সম্পর্ক এবং তাদের অর্থ সৃষ্টি করে।

বাংলা ব্যাকরণে পদ মূলত ২ প্রকার হলেও সাধারণ ভাবে পদ ৫ প্রকার। যথা: ১.বিশেষ্য ২.বিশেষণ ৩.সর্বনাম ৪.ক্রিয়া ও ৫.অব্যয়।

পদ পরিবর্তন কী? 500+ পদ পরিবর্তন

পদ পরিবর্তন কাকে বলে বা পদান্তর কাকে বলে

 সমধিক প্রচলিত অর্থের ভিত্তিতে একটি শব্দকে বিশেষ‍্য রূপ থেকে বিশেষণ রূপে এবং বিশেষণ থেকে বিশেষ‍্য রূপে পরিবর্তিত করাকে পদ পরিবর্তন বা পদান্তর বলে।
এই ব‍্যাপারটিকে কেউ পদান্তর না বলে ‘শব্দান্তর’ বললেও আপত্তি করার কিছু নেই।

পদ পরিবর্তন করার নিয়ম

পদ পরিবর্তন করার বেশ কয়েকটি নিয়ম আছে। আসুন দেখে নিই কোন কোন প্রত্যয় যোগ করে বিশেষ্য থেকে বিশেষণ এবং বিশেষণ থেকে বিশেষ্যে পদ পরিবর্তন করা যায়। যেমন:
  1. বিশেষণের সঙ্গে ত্ব/তা যোগ করলে বিশেষ্য পাওয়া যায়। যেমন: সৎ > সততা, ঘন > ঘনত্ব।
  2. অন প্রত্যয়যুক্ত বিশেষ্যে অন প্রত্যয়ের বদলে ত(ক্ত) /ইত প্রত্যয় যোগ করলে বিশেষণ পদ পাওয়া যায়। যেমন: গমন > গত, গ্রহণ > গৃহীত।
  3. কিছু বিশেষ্যের সাথে উয়া প্রত্যয় যোগ করলে বিশেষণ পদ পাওয়া যায়। গাছ+উয়া = গাছুয়া>গেছো।
  4. ষ্ণ্য প্রত্যয় যোগে বিশেষণ থেকে বিশেষ্য পদ পাওয়া যায়। যেমন: অধিক+ষ্ণ্য = আধিক্য।
  5. ষ্ণিক/ইক প্রত্যয় যোগ করে বিশেষ্য থেকে বিশেষণ পাওয়া যায়। যেমন: দর্শন+ষ্ণিক(ইক) = দার্শনিক। এক্ষেত্রে প্রথম স্বরটির বৃদ্ধি হয়। যেমন: উপনিবেশ>ঔপনিবেশিক, নিমিত্ত>নৈমিত্তিক। উ>ঔ এবং ই>ঐ হয়েছে।
  6. বিশেষ্যের শেষে ‘অন’ প্রত্যয় থাকলে ‘অন’-এর বদলে ‘অনীয়’ দিলে বিশেষণ হয়। যেমন: গ্রহণ>গ্রহণীয়, বর্জন>বর্জনীয়।
  7. অন প্রত্যয়ের পরিবর্তে তব্য বা য (ণ্যৎ, যৎ, ক্যপ্) প্রত্যয় দিলেও বিশেষ্য থেকে বিশেষণ হয়। তবে এই শব্দগুলির মধ্যে কয়েকটি শব্দ বিশেষ্য রূপেও ব্যবহৃত হয়। যেমন কর্তব্য, বাক্য, বাচ্য প্রভৃতি শব্দ মূলগত ভাবে বিশেষণ হলেও বর্তমানে বিশেষ্য অর্থে ব্যবহার করা হয়।
  8. তদ্ভব ও দেশি শব্দে উয়া প্রত্যয় যোগ করে বিশেষণ পাওয়া যায়। তবে উয়া প্রত্যয়টি মান্য চলিত ভাষায় অভিশ্রুতির ফলে নতুন রূপ লাভ করে। যেমন: মাঠ+উয়া=মাঠুয়া>মেঠো, ঘাট+উয়া=ঘাটুয়া>ঘেটো।
  9. √ধা ধাতু থেকে সৃষ্ট বিশেষ্য থেকে বিশেষণ পদ তৈরি করা হলে ধ ব্যঞ্জনটি হ-তে পরিণত হয়। যেমন: বিধান>বিহিত, আধানা>আহিত।
  10. ষ্ণ্য প্রত্যয় যোগে বিশেষণ থেকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করা যায়। যেমন: সুজন+ষ্ণ্য = সৌজন্য। এই ক্ষেত্রেও স্বরের বৃদ্ধি হয়।

পদ পরিবর্তন কী? 500+ পদ পরিবর্তন

বিশেষ্যবিশেষণ
ঘরঘরােয়া
ব্যবধানব্যবহৃত
ভূগােলভৌগােলিক
অণুআণবিক
মরসুমমরসুমী
অনাদরঅনাদৃত
অর্থতাআর্থ
বিনাশবিনিষ্ট
ঋষিআর্য
কাগুজেকাগজ
গাঁ।গেঁয়াে।
কাঠকেঠো
 কাজকেজো
ঢাকঢাকাই
দরদদরদি
দুঃখদুঃখিত
কায়াকায়িক
অর্থআর্থিক
হৃদয়হৃদ্য
ছুঁচছুঁচালাে
ভাবভাবুক
সর্বনাশসর্বনাশা
ফেনফেনিল
হিমহিমেল
ক্ষয়ক্ষীণ
দাঁতদাঁতাল
আঘাতআহত
সূর্যসৌর
ব্যবহারব্যবহৃত
বিজয়বিজিত
ভােগভুক্ত
আদিষ্টআদেশ
ক্ষমাক্ষোভ
ঘাঘেয়াে
গাছ।গেছাে
খেয়ালখেয়ালি
ভােরভােরাই
কোণকোণে।
জটাজটিল
ইহঐহিক
গিরিগৈরিক
বাণিজ্যবাণিজ্যিক
পেটপেটুক
গঙ্গাভূতুরে
গঙ্গাগাঙ্গেয়
বায়ুবায়বীয়

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button