Others

পণপ্রথা বিষময় পরিণাম সম্বন্ধে মতামত জানিয়ে পত্রিকার সম্পাদকে পত্র লিখ

পণপ্রথা বিষময় পরিণাম সম্বন্ধে তোমার মতামত জানিয়ে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকে একটি পত্র লিখ

পণপ্রথা বিষময় পরিণাম সম্বন্ধে মতামত জানিয়ে পত্রিকার সম্পাদকে পত্র লিখঃ এই পোষ্টে পণপ্রথা বিষময় পরিণাম যে ভয়ংকর দিক তার মতামত জানিয়ে সম্পাদক মহাশয়ের নিকট একটি চিঠির নমুনা শেয়ার করা হল। আশা করি শিক্ষার্থীবন্ধুদের কাজে আসবে। ইংরেজি চিঠি, রচনা, প্যারাগ্রাফ পড়ুন এখানে ক্লিক করে। 

পণপ্রথা বিষময় পরিণাম সম্বন্ধে মতামত জানিয়ে পত্রিকার সম্পাদকে পত্র

মাননীয় সম্পাদক মহাশয় সমীপেষু
আজকাল পত্রিকা
৯৬, রামমােহন সরণি
কলকাতা-৭০০ ০০৯

সবিনয় নিবেদন,

আপনার পত্রিকার চিঠিপত্র বিভাগে সম্প্রতি পণপ্রথা-সংক্রান্ত যেসব চিঠিপত্র প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলি আমি বিশেষ আগ্রহের সঙ্গে পড়ছি। এ বিষয়ে আমারও কিছু বলবার আছে।

খবরের কাগজ খুললেই খুন, ধর্ষণ প্রভৃতির সঙ্গে প্রায়শই চোখে পড়ে গৃহবধূ নির্যাতন, গৃহবধূ-হত্যা কিবা গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর। গৃহবধূ-বিষয়ক এইসব খবরে অনেক ক্ষেত্রেই জড়িয়ে থাকে পণের প্রসঙ্গ। কন্যার পিতা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ দিতে না পারায় নবাগতা বধূটিকে শ্বশুরবাড়িতে নানাভাবে অপমান ও অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়। তারই চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে কখনও হত্যায়, কখনও আত্মহত্যায় । অনেক সময় এরকম কিছু ঘটে না বটে কিন্তু প্রতিমুহূর্তে তিলে তিলে বধূটিকে সহ্য করতে হয় পীড়নয়ন্ত্রণা।

আমাদের সমাজে পণপ্রথার প্রচলন বহুদিনের। বিয়েতে বরপক্ষ কন্যাপক্ষের কাছ থেকে পণ নিয়ে থাকে। এইজন্য একে বরপণ বলা হয়ে থাকে। কোনাে কোনাে নিম্নবর্গীয় সমাজে কন্যাপণের প্রথা থাকলেও সাধারণভাবে বিয়ের পূণ বলতে এই বরপণকেই বােঝায়। পণপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধির মতাে। এই ব্যাধি থেকে একালের অনেক শিক্ষিত যুবকও মুক্ত হতে পারছে না। এরকম একটি প্রথার অবসানের জন্য ১৯৬১ সালে পণপ্রথা নিবারণ আইন প্রবর্তন করা হয়েছিল। সেই আইনকে আরও কঠোর করা হয় ১৯৮৪ সালে তবু পণপ্রথার বিলােপ ঘটেনি। এই প্রথার কারণেই আজও হাজার হাজার কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার জীবনে চরম সংকট ঘনিয়ে ওঠে। অনেক সময় বরপক্ষের দাবি মেটাতে গিয়ে সমগ্র পরিবারটিকেও কঠিন অর্থসংকটের মুখে পড়তে হয়। মেয়ের বিয়েতে পণ দিতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করা তাে খুব সাধারণ ব্যাপার, কখনাে কখনাে বসতবাড়ি পর্যন্ত বন্ধক দিতে হয় অনেক বাবাকে। অনেকে নিজেদের আর্থিক সংগতির কথা না ভেবে মােটা রকম পণের শর্তে রাজি হয়ে যায়। স্বাভাবিক কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা দিতে না পারায় ভেঙে যায় সেই বিয়ে। যেসব ক্ষেত্রে বিয়ের পরেও পণের টাকা পরিশােধ হয় না সেসব ক্ষেত্রে সমস্যা প্রকট এবং জটিল আকার ধারণ করে। উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে।

বিয়ের পণকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দাম্পত্য সম্পর্ক। যেসব যুবক স্বেচ্ছায় কিংবা পরিবারের চাপে বিয়েতে পণ নেয় তারা কখনােই তাদের স্ত্রীদের কাছে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালােবাসার পাত্র হয়ে উঠতে পারে না। ফলে সুস্থ স্বাভাবিক এবং মধুর দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ে ওঠার পরিবর্তে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক দূরত তৈরি হয়ে যায়। দেখা দেয় নানান অশান্তি। বিবাহিত জীবনের সমস্ত মাধুর্য থেকে বঞ্চিত হয় তারা দুজনেই। আর প্রেমহীন দাম্পত্য পরােক্ষভাবে সমাজজীবনকেও কলুষিত করে তােলে।

পণ দেওয়া-নেওয়ার প্রথা অব্যাহত থাকার অর্থ নারীর মূল্য’কে অস্বীকার করা। পুরুষের মতাে নারীও মানুষ, তারও ব্যক্তিত্ব আছে, মর্যাদা আছে—একথা আমরা বর্তমানে যত ফলাও করেই বলি না কেন, কার্যক্ষেত্রে তার স্বীকৃতি নেই বললেই চলে। পণপ্রথার প্রবল উপস্থিতিতে এই নির্মম সত্যটিই প্রমাণিত হয়। বিবাহসম্পর্ক স্থির করার ক্ষেত্রে যেখানে টাকার অঙ্ক প্রাধান্য পায় সেখানে মানুষ হিসেবে নারীর মর্যাদা কোথায়! মেয়েটি যতই গুণবতী হােক না কেন, তার বাবা পণের টাকা জোগাতে না পারলে দেখা দেবে বিয়ের সমস্যা। যদি বা পণের টাকা কিছুটা বাকি রেখে বিয়েটা হয়ে যায়, তারপরেও নিস্তার নেই। শ্বশুরবাড়ি থেকে ক্রমাগত চাপ আসবে তার উপর। এবং তারপর হয়তাে শেষ পর্যন্ত ঘটে যাবে একটা কোনাে অঘটন। এই ধরনের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালােচনা করলে দেখা যায়, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এখনও নারীকে তার প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দিতে পারেনি। বরং পদে পদে তাকে অপমান করে চলেছে। এই অপমান-জ্বালা বুকে নিয়ে ঘরে ঘরে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে অসংখ্য গৃহবধূ।

আমাদের এই দেশ আজ জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। অথচ পণপ্রথার মতাে একটি কুপ্রথাকে সমাজ থেকে বিতাড়ন করতে পারেনি। শুধু আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এর অবসান ঘটানাে সম্ভব নয়। চাই প্রকৃত শিক্ষা, প্রকৃত জ্ঞান। বিবেকের যথার্থ জাগরণ ছাড়া পণপ্রথাকে উচ্ছেদ করা যাবে না। এ ব্যাপারে শিক্ষিত যুবসমাজের দায়িত্বই সর্বাধিক। এই বিষবৃক্ষের মূলােচ্ছেদ করবার জন্য তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

নমস্কারান্তে-

বিনীত
অবনী কুমার দাস
কুশমণ্ডি, দক্ষিন দিনাজপুর

সোর্স – রাধিকা দাস (ঢাক ঢোক উচ্চ বিদ্যালয়)

ট্যাগঃ পণপ্রথা বিষময় পরিণাম, পণপ্রথা বিষময় পরিণাম সম্পর্কে চিঠি, পণপ্রথা বিষময় পরিণাম সম্পর্কে পত্র নমুনা, জেনে নিন পণপ্রথা বিষময় পরিণাম।

এটিও পড়ুন – খারাপ ও কম সারাঞ্জম দেওয়ার জন্য বিডিও সাহেবকে অভিযোগ পত্র

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button