Sunday, October 25, 2020
টিপসকর্ম-শিক্ষাকৃষিজানা অজানারান্নাঘররিসেপি

বাড়ির প্রত্যক দিনের কিছু টুকিটাকি টোটকা

টুকিটাকি টোটকা

বাড়ির প্রত্যক দিনের কিছু টুকিটাকি টোটকাঃ গার্হস্থ্য জীবনে সংসার ধর্ম পালন করতে গেলে আমাদের অনেক টুকিটাকি প্রয়োজন পরে। টোটকাগুলি প্রয়োগ করলে অনেক সুফল পাওয়া যায়। লজ্জাবতী গাছের গুণাগুণ জেনে নিন এর আগের পোষ্টে আলোচনা করা হয়েছিল, চাইলে পড়ে নিতে পারেন।

টুকিটাকি টোটকা

  • গোঁড়া লেবুর চোকলা কাপড়ের ভাজে ভাজে রেখে দিলে পােকা ধরবে না।
  • শীতকালে মাখন শক্ত হয়ে যায়। সেটা নরম করতে হলে একটা থালায় জল ঢেলে জল ফুটিয়ে ফেলে দিয়ে তৎক্ষণাৎ মাখনের উপর বাটি উপুড় করে দিলে মাখন নরম হবে, কিন্তু একেবারে গলে যাবে না।
  • প্রত্যেকদিন সকালে খালি পেটে ঈষদুষ্ণ গরম জলে অর্ধেক পাতিলেবু নিংড়ে সেই জল খেলে শরীরটা সতেজ থাকে এবং সারাদিন কাজকর্ম উৎসাহ পাওয়া যায়।
  • পাতিলেবুর রস দাঁতের গােড়া শক্ত করে। এতে ভিটামিন-সি থাকায় শরীরে ভিটামিন-সি-এর অভাব পূরণ করে। নখ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • পাতিলেবুর রস মেশানাে জলে মুখমণ্ডল ধুলে মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
  • কাপড়ের লােহার দাগ ওঠাতে হলে কিছু লেবুর রস ও লবণ এক সঙ্গে মিশিয়ে দাগের ওপর ঘষলে দাগ উঠে যায়।
  • ঘরে বেশি পিপড়া হলে এক গ্লাস জলে দোক্তা পাতা ভিজিয়ে সেই জল পিঁপড়ের গর্তে ঢেলে দিলে পিপড়া আসে না।
  • অনেক সময় নুন ডেলা ডেলা হয়ে যায়। ডাল ভেঙে গুঁড়াে করে কড়ায় গরম করে শিশিতে রাখলে ভালাে থাকে।
  •  বেঁচে যাওয়া কাঁচা ডিমের কুসুম ঠাণ্ডা জলে ডুবিয়ে রাখলে ক’দিন ভালাে থাকে। ফ্রিজে রাখলে অন্ততঃ ৭ দিন ঠিক থাকবে।
  • আদার রসে হিং ভিজিয়ে ফোড়ন দিন। এতে তরকারিতে অনেকটা পেঁয়াজের গন্ধ ও আস্বাদ হয়। যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁদের পক্ষে খুব ভাল।
  • দুধ ফোটার সময় পাত্রে ভেতরের দিকের কানায় একটু মাখন লাগিয়ে নিলে দুধ উথলে উঠবে না।
  • বিস্কুট তাজা ও মুচমুচে রাখতে হলে টিনের ভেতর ব্লটিং পেপার রেখে দিন। বর্ষাকালেও বিস্কুট মিইয়ে যাবে না।
  • বাটা মশলার পরিমাণ যদি বেশি হয়ে যায়, তাহলে তার সঙ্গে অল্প নুন মিশিয়ে ফ্রিজে রাখলে ভালাে থাকবে অনেক দিন।
  • তেল ঢালার আগে খালি কড়াই যদি ভালাে করে গরম করে নেওয়া হয়, তাহলে পোড়া দাগ ধরে না সহজে।
  • মসলা রাখার তাকে, ছােট কাপড়ের পুঁটলি কালো জিরে আর শুকনাে লঙ্কা বেঁধে রেখে দিলে সহজে আরশােলা হবে না।
  • ফ্রিজের মধ্যে খাবার সােডা এক প্যাকেট রেখে দিলে ফ্রিজের ভেতর আর কোনাে গন্ধ হবে না।
  •  

    মাছ-মাংস যদি ফ্রিজে বেশি দিন রাখতে হয়, তাহলে ভালাে করে চেপে জল বার করে নিয়ে তারপর প্যাকেটে ভরে রাখলে অনেকদিন ভালাে থাকবে।

  •  

    বাসনপত্র যদি মাছের গন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কয়েক ফোঁটা ভিনিগার ছিটিয়ে ধুয়ে নিলেই আর গন্ধ থাকবে না।

  • রান্নাঘরের সিঙ্কের গর্তে একটি পাতলা কাপড় দিয়ে রাখুন। আবর্জনা আটকে যাবে কাপড়ে। পরে তুলে ফেলে দিলেই, সিঙ্কের পাইপ পরিষ্কার থাকবে।
  •  বর্ষাকালে নুন গলে যায় প্রায়ই। নুনের মধ্যে কয়েকদানা চাল রেখে দিলে নুন সহজে গলবে না।
  • পোড়া দাগ তুলতে হলে, বেকিং সােডার সঙ্গে খুব অল্প জল মিশিয়ে পাত্রের গায়ে মাখিয়ে রেখে দিন বেশ কয়েক ঘণ্টা। এরপর ধুয়ে নিলেই দাগ উঠে যাবে।
  • রান্নাঘরের নালী যদি তেল-কালিতে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ১ কাপ নুন আর ১ কাপ বেকিং সােডা নালীতে ঢেলে এক কেটলি ফুটন্ত গরম জল ঢালুন। ময়লা গলে যাবে।
  •  

    দুধ বা ভাতের ফেন উথলে গ্যাস বার্নারে পড়লে, তক্ষুনি নুন ছিটিয়ে দিন। পরে ঠাণ্ডা হলে শক্ত ব্রাশ দিয়ে ঘষে, ভিজে স্পঞ্জ দিয়ে মুছে নিন।

  • মাসের মধ্যে অন্তত দু’বার গ্যাসের বার্নার কিছুক্ষণ কেরােসিন তেলে ডুবিয়ে রাখলে বার্নারের ফুটোয় ময়লা জমবে না।
  •  

    দুটো কাচের গ্লাস যদি একটার ভেতরে আরেকটা আটকে যায়, তাহলে কখনও জোর করে টেনে খােলার চেষ্টা করবেন না। ভেঙে যেতে পারে। ওপরের গ্লাসে ঠাণ্ডা জলে ভর্তি করে, নিচের গ্লাসটি গরম জলে বসিয়ে রাখুন। আপনা আপনিই খুলে আসবে।

  •  

    মাছ কুটতে গেলে অনেক সময় কাঁটা বিধে যায়। প্রথমে কাটা বেঁধা জায়গায় নুন দিন। ব্যথা কমবে। যদি মনে হয়ে কাঁটা বের হয়নি, তাহলে একটু হলুদ কিংবা হিং গরম করে লাগান। কাটা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসবে।

  • কাঁচা লঙ্কার বোঁটা ছাড়িয়ে রাখলে লঙ্কা তাজা থাকে বেশিদিন।
  •  

    পাতলা কাচের বাসন পরিষ্কার করার জন্যে কখনও গরম জলে ডোবে না। ফেটে যেতে পারে। ভিনিগার দিয়ে পরিষ্কার করলে বাসন ঝকঝকে থাকবে।

  •  

    সরষে বাটলে অনেক সময় তেতাে হয়ে যায়। কিন্তু সরষের সঙ্গে কাঁচালঙ্কা আর নুন পরিমাণ মতাে মিশিয়ে বাটলে এ ব্যাপারটা এড়ানাে যাবে।

  • ফ্রিজে একটা পাতিলেবু টুকরাে টুকরো করে কেটে রেখে দিন। ভেতরের যাবতীয় গন্ধ লেবু শুষে নেবে। ফ্রিজ থাকবে পরিষ্কার।

এটিও পপড়ুন – রাগ মুক্ত করুন সুস্থ জীবন লাভ করুন

  •  

    কিছুটা ডাঁটা সহ ফুল গাছ থেকে কেটে নিয়ে সেই ডাটাসহ ফুলকে অন্ধকার ঘরে রেখে দিলে ফুলগুলাে বেশ তাজা থাকবে।

  •  

    রূপাের বাসনের আলমারি এক টুকরো কপূর রেখে দিলে রূপাের ঔজ্জ্বল্য ও পালিশ-এর কোনােরকম নষ্ট বা বিকৃতি হয় না।

  •  

    মাথায় মরা মাস এবং খুশকি হলে, মাথাতে কয়েকবার কর্পূরের জল লাগালে এই সমস্ত রোগ ভালাে হয়ে যায়।

  •  

    কাচের বাসন ভেঙে গেলে ঝিনুক গুঁড়াে করে তার সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে ভালাে করে ফেটাবেন। তারপর সেই ফেটানােটা বেশ পুরু করে ভাঙ্গা জায়গায় লাগিয়ে টুকরােটা বসাবেন। দেখবেন তারপর ঠিক আগের মতােই কাচের বাসনটি ব্যবহার করতে পারবেন।

  • জলে কিছু পরিমাণ কেরােসিন তেল মিশিয়ে যদি ঘর মােছা যায়, তাহলে পিপড়ে ও মশার উপদ্রব কম হয় এবং মেঝে মসৃণ থাকে।
  •  

    বাড়িতে জুতা পালিশ যদি ফুরিয়ে যায় বা না থাকে, তাহলে জবা ফুল হাতে ঘষে তার রস জুতােয় লাগিয়ে তা শুকনো হওয়ার পরে ব্রাশ দিয়ে ঘষলে জুতা চক্চকে হয়।

  •  

    মাংস তাড়াতাড়ি সেদ্ধ করতে হলে, সেই হাঁড়িতে গােটা দুয়েক সুপারি ফেলে রাখলে তাড়াতাড়ি মাংস সেদ্ধ হবে।

  •  যে কোনাে কাপড়ে চায়ের দাগ লাগলে দাগের ওপর গ্লিসারিন ভালাে করে ভিজিয়ে পরের দিন ডিটারজেন্ট সাবান দিয়ে ধুলে দাগ আর থাকে না।
  • শরীরের কোন জায়গায় আঁচিল হলে, দুঃখের কোনাে কারণ নেই। লরি-বিশাখার পাতা নুন দিয়ে ঘষে আঁচিলে লাগালে, তা নষ্ট হয়ে যায়।
  • উইয়ের মাটি ভেঙে হিং-এর জল যদি ঐ জায়গায় দেওয়া যায় তাহলে উই আর ধরবে না।
  • বােল্তা বা বিছা কামড়ালে যদি সেই। ক্ষতস্থানের ওপর পেঁয়াজের রস লাগানাে যায়, তাহলে জ্বালা কমে যাবে।
  •  বাদামের খােসা ছাড়তে গেলে প্রথমে বাদামগুলো ৫ মিনিট ফুটন্ত জল দিয়ে রাখুন। এরপর জল ঝরিয়ে নিয়ে দেখুন সহজেই খােসা উঠে আসবে।
  • যদি কখনও মাথার সামনের চুলগুলো উঠে টাকের সৃষ্টি হয়, তাহলে কিছু কেশুত পাতার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ নারকেল তেল মিশিয়ে মাখলে টাকে চুল গজায়।
  •  

    যদি মুখে বা অন্য কোথাও কাটা বা ফোড়ার দাগ হয়ে যায়, তাহলে জিঙ্ক এবং ইউক্যালিপটাস এক সঙ্গে মিশিয়ে প্রলেপ তৈরি করে ঐ দাগের ওপর প্রতিদিন দুবার করে লাগালে দাগ ভালাে হয়ে যায়।

  • নখকুনি হলে কাঁচা হলুদের সঙ্গে তুতে পােড়া তিন রতি এবং সামান্য সােহাগার খই একসঙ্গে মিশিয়ে লাগালে নখকুনি ভালাে হয়ে যায়।
  •  দেহে কোথাও আঁচিল হলে কিছু পরিমাণ হিংচে শাক এবং চন্দন বেটে প্রলেপ তৈরি করে আঁচিলের ওপর বার বার লাগালে আঁচিল ভালাে হয়ে যায়।
  • কখনাে যদি জিভে ঘা হয়, তাহলে কিছু কপূর জলের সঙ্গে ভালাে করে গুলে জিভকে ভালাে করে ধুলে জিভের ঘা ভালাে হয়ে যাবে।
  •  

    চোখের চারিদিকে অনেক সময় কালো কালো দাগ পড়ে যায়। ছােট্ট পাত্রে কাঁচা দুধ নিয়ে সেই জায়গায় তুলাে দিয়ে লাগিয়ে দিতে হয়। চোখ জোরে রগড়ানাে উচিত নয়। কিছুদিন লাগালে ঐ কালো দাগ থাকে না।

  •  

    হিঞ্চে শাক চোখের পক্ষে খুব ভালাে। মাঝে মাঝে ঐ শাক খাওয়া উচিত। পেঁয়াজ মিশিয়ে ঐ শাক সুপ করে খেলে টনিকের মতাে কাজ করবে।

  •  

    ছাড়ানাে নারকেল বেশিদিন রাখতে হলে ঝুঁটিটা ওপরের দিকে ঘুরিয়ে রাখবেন।

  • ফার্নিচার দাগ পড়া জায়গায় পরিষ্কার ছােট ন্যাকড়া দিয়ে স্পিরিট লাগিয়ে শুকনো ন্যাকড়া দিয়ে মুছে দিলে দাগ উঠে যাবে।
  • মাথায় উকুন থাকলে ঘুমােবার আগে বালিশের ওপর চার-ছটা তুলসীপাতা ছড়িয়ে দিলে উকুনের জ্বালা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • গ্রীষ্মকালে দুধ যখন তখন কেটে যায়। দুধ ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে যে কোনাে পাত্রে জল দিয়ে তার ওপর দুধের পাত্রটি রাখলে দুধ কাটবে না।

Leave a Response