গম চাষের সঠিক পদ্ধতিঃ  গম (Wheat) বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত এক প্রকার ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। যার আদি উৎপত্তি মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্ট অঞ্চলে, কিন্তু বর্তমানে গম সারাবিশ্বে চাষ করা হয়। ২০০৭ সালে সারা বিশ্বে গমের উৎপাদন ছিল ৬০৭ মিলিয়ন টন, যা ছিল বিশ্বের ৩য় সর্বাধিক উৎপাদিত শস্য। ১ম ও ২য় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ধান ও ভুট্টা।

গম চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা, নেপাল ও ভূটানসহ বেশ কিছু দেশ উৎপাদন করে থাকে। তবে গম উৎপাদনে শীর্ষ দেশ রয়েছে গণচীন তারপর ভারতবর্ষ। বিশ্বব্যাপী গম এখন প্রোটিনের নিরামিষ উৎস হিসেবে জন্যে অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ যা মানুষের খাদ্যে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, গমে অধিক পরিমানে প্রোটিন থাকে, এছাড়াও ধান ও ভূট্টাতেও এই প্রোটিন পাওয়া যায়। এটিও পড়ুন – দুগ্ধ সংরক্ষণ পদ্ধতি, বাড়ীতেই দুধ সংরক্ষণ করুন

গম চাষের সঠিক পদ্ধতি

গমচাষে অল্প বৃষ্টিপাত ও শীতল আবহাওয়া উপযােগী।

চাষের মাটি : জমিতে যাতে জল না-জমে এইরকম অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি ও সামানা অম্লযুক্ত মাটি গমচাষযের পক্ষে উপযােগী। দোআঁশ এবং পলিযুক্ত দোআঁশ মাটি গমচাষের পক্ষে উপযুক্ত।

গমের উন্নত জাত : গমের উচ্চফলনশীল জাতগুলি হল-সােনালিকা, কল্যাণসােনা, সােনােরা, জনক, গিরিজা, হিরা, শৈলজা ইত্যাদি।

গম

চাষ পদ্ধতি (Method of cultivation):

(১) জমি তৈরি (Land preparation): নভেম্বর মাস-ই সব উচফলনশীল জাতের গম বােনার উপযুক্ত সময়। জমিতে উপযুক্ত ‘জো'(Moisture) থাকলে ৪/৫ বার গভীর করে লাল দিয়ে চষে মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করে নিতে হবে। এই সময় পূর্ববর্তী ফসলের গােড়া, আগাছা ইত্যাদি পরিষ্কার করে নিতে হবে। শেষ চাষের আগে গোবর বা কম্পােস্ট সার জমিতে দিয়ে সেই সার মাটির সাথে ভালােভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। জমিতে অধিক ফলনের জন্য রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। জমিতে রস কম থাকলে বীজ বােনার ৬-৭ দিন আগে একবার হালকা সেচ দিয়ে উপযুক্ত “জো” এলে চাষ দিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হবে।

(২) বীজ শােধন (Seeds purification) : ৯০ শতাংশ অঙ্কুরােদ্গম ক্ষমতাসম্পন্ন বীজ বােনার জন্য নির্বাচন করা উচিত। এর জন্য সার্টিফায়েড বীজ বুনতে হবে। বীজবাহিত ছত্রাক রােগ দমনের জন্য বীজ ভালােভাবে শােধন করে নিতে হবে।

এটিও পড়ুন – দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তার সামাজিক প্রতিক্রিয়া প্রবন্ধ রচনা

(৩) বীজ বপন (Sowing of seeds) : গমের বীজ সরাসরি জমিতে বপন করা হয়। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে গমের বীজ বােনা হয়। সাধারণত দুটি উপায়ে বীজ বপন করা হয় – (ক) হাতে ছিটিয়ে, (খ) বীজবপন যন্ত্রের সাহায্যে। সারিতে বীজ বুনলে, সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৪-১০ ইঞ্চি। বীজ মাটির ২ ইঞ্চি গভীরতায় বপন করা দরকার।

(৪) মাধ্যমিক পরিচর্যা (Interculture operation): গমের জমিতে নিড়ান দিতে হবে। খুরপি, নিড়ানি ইত্যাদির সাহায্যে আগাছা তুলে দিতে হবে। গমের জমিতে কয়েক ধরনের আগাছার খুব উপদ্রব দেখা যায়। যেমন-ফ্যানা ঘাস, করাত ঘাস, বুনােজই, বাথুয়া ইত্যাদি।

ভালাে ফল পেতে হলে গমের জমিতে ৪-৬ টি সেচ দিতে হবে। তবে এমনভাবে সেচ দিতে হবে যাতে জমিতে জল না-দাঁড়ায়। চারা একটু বড় হলে জমিতে নাইট্রোজেনঘটিত সার চাপান সার হিসাবে প্রয়ােগ করতে হবে।

গমের প্রধান কীট-শত্রু হল-(১) গমের মাজরা পােকা, (২) গমের কটুই পােকা, (৩) উইপােকা ইত্যাদি। গমের জমিতে যাতে কোনাে পােকার আক্রমণ না-ঘটে, তার জন্য কীটনাশক ওষুধ (ডিমেব্রুন, একালাক্স, অলড্রিন ইত্যাদি) জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

(৫) ফসল কাটা (Harvesting): সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে গম পেকে যায়। দানা পাকলে গমের খড়সমেত কাস্তে দিয়ে গম কাটা হয়। কাটা গম রােদে শুকিয়ে নিয়ে পাটার উপর পিটিয়ে অথবা গম ঝাড়াই মেশিনে গম ঝাড়াই করা হয়। গমের দানা পরিষ্কার করে দু-তিন দিন রােদে শুকিয়ে নিয়ে গােলাজাত করা হয়।

গমের ব্যবহার (Uses of Wheat) : গমের দানা কলের সাহায্যে পিষে আটা, ময়দা ও সুজি তৈরি হয়। আটা দিয়ে রুটি ও ময়দা দিয়ে লুচি, পাউরুটি, বিস্কুট, কেক প্রভৃতি তৈরি হয়। বিশেষ উপায়ে গমকে পেষণ করে সুজি তৈরি হয়। সুজি থেকে হালুয়া, পায়েস ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন প্রস্তুত হয়। গম ভেঙে ছাতু তৈরি করা হয়, যা বিভিন্ন অঞ্চলের অন্যতম খাদ্য। গম থেকে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়।

গমের খড় ছােটো ছােটো করে কেটে গােরু ও মােষকে খাওয়ানাে হয়। গমের ভুষি গবাদি পশুর খাদ্য। কাগজশিল্পে ও জ্বালানি হিসাবে গমের খড় ব্যবহার করা হয়।

এটিও পড়ুন – পরিবেশের জন্য ভাবনা অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

ট্যাগঃ গম চাষের সঠিক পদ্ধতি, জেনে নিন গম চাষের সঠিক পদ্ধতি, ডাউনলোড গম চাষের সঠিক পদ্ধতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *