জীবনীপ্রবন্ধ রচনা

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রবন্ধ রচনা 600 শব্দের মধ্যে

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন মহান ব্যক্তি। তার গুন ও প্রশাংসা বিবরণ করে শেষ করা যাবে না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার। তাঁর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রথম জীবনেই তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।

এই পোষ্টে প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রবন্ধ রচনা শেয়ার করা হল। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রবন্ধ অনুসারে অনুরূপ প্রবন্ধ লেখা যাবে – একজন স্মরণীয় বাঙালী; তােমার আদর্শ পুরুষ ; দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর ; মানবদরদা বিদ্যাসাগর ; শিক্ষাব্রতী বিদ্যাসাগর, যথার্থ বাঙালী বিদ্যাসাগর, তোমার প্রিয় ব্যাক্তি, প্রিয় বাঙ্গালী, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর রচনা ইত্যাদি। এটিও পড়ুন – সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা 700 শব্দের

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর

[ প্রসঙ্গসুত্রঃ ভূমিকা; জন্ম ও পিতৃপরিচয় শিক্ষা ও কর্মজীবন : চরিত্রের বৈশিষ্টে যথার্থ বাঙালী, উপসংহার।]

“বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত জগতে,
করুণার সিন্ধু তুমি,
সেই জানে মনে দীন যেদীনের বন্ধু।
– শ্ৰীমধুসূদন

ভূমিকা

বিদ্যাসাগর বাংলাদেশে এমন এক সময়ে এলেন, যখন শিক্ষিত বাঙালী চরিত্রবল হারিয়েছে। সাধারণ বাঙালী কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। দরিদ্রের ব্যথা ধনীর উপহাসের বিষয়, নারীর মর্যাদা ধুলায় অবলুষ্ঠিত। এমন এক নিঃসীম নৈরাশ্যের কুহেলিকায় জাতীয় জীবনের গতি যখন রুদ্ধ, তখনই চিরন্তন মানবতার আলােকবর্তিকা হাতে নিয়ে এক আশ্চর্য মানুষের আবির্ভাব। এই আলােকদূতই বাঙালীর অতি প্রিয় ও পূজা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

জন্ম ও পিতৃ-পরিচয়

কলকাতা থেকে বহু দূরবর্তী মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে ১৮২০ খ্রীস্টাব্দে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম। পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা ভগবতী দেবী। এরা দুজনেই পর্মপ্রাণতা আর চরিত্রবলে সমস্ত গ্রামবাসীর শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ধর্মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণ পরিবারে কিন্তু গোড়ামি এবং জাত্যভিমানজনিত নিষ্ঠুরতার ছিল একান্ত অভাব। বিদ্যাচর্চা এবং কর্তব্যনিষ্ঠা ছিল এই পরিবারের বহুকালাগত ঐশ্বর্য। দারিদ্র্য ছিল, কিন্তু ঔদার্যের অভাব ছিল না। বাল্যকাল থেকেই ঈশ্বরচন্দ্র মাতাপিতার কাছ থেকে নানা সংকর্মের প্রেরণা পেয়েছেন। দরিদ্র, পড়িত মানুষের সেবায় মাতা ভগবতী দেবী সর্বদা পুত্রকে উৎসাহ দিয়েছেন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

গ্রামের বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে মাত্র আট বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্র পিতার সঙ্গে কলকাতা। আসেন এবং সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন। পুত্রের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য পিতার ছিল না। নিজের হাতে সব কাজ করে পড়াশুনার জন্য সামান্য সময় পেতেন ঈশ্বরাচন্দ্র। কিয মেধা ছিল অসাধারণ। ১৮৪০ খ্রীস্টাব্দ মাত্র কুড়ি বছর বয়সে সংস্কৃত কলেজের পাঠ শেষ করে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত হন। বিদ্যাসাগরের কর্মজীবনও বিচিত্র ঘটনাবহুল। প্রথমে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক, তারপরে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হন। সরকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাজেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তার চেষ্টায় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের সুকুমারমতি বালক-বালিকাদের শিক্ষার দিকে লক্ষ্য রেখেই বর্ণপরিচয়, কথামালা, চরিতাবলী, বােধােদয়, আখ্যানমঞ্জরী, শকুন্তলা, সীতার বনবাস ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন।

কিন্তু তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সৎকর্ম হচ্ছে বিধবাবিবাহ আন্দোলন। শাস্ত্র মন্থন করে বিধবাবিবাহের সমর্থন সংগ্রহ করেছেন, প্রতিপক্ষের বিরূপতাকে পর্যুদস্ত করার মানসে লিখেছেন বিতর্ক-পুস্তিকা। শুধু তাই নয়, সব বাধা অগ্রাহ্য করে ১৮৫৬ খ্রীস্টাব্দে বিধবাবিবাহ আইনসিদ্ধ করিয়ে নিলেন। বন্ধুপুত্র এবং নিজপুত্রের বিধবাবিবাহ সম্পাদন করে আদর্শকে জীবনে প্রয়ােগ করার দৃষ্টান্ত দেখালেন।

এটিও পড়ুন – পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম পঞ্চায়েত সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর

চরিত্রের বৈশিষ্ট্যে যথার্থ বাঙালী

বিধবাবিবাহ প্রবর্তন করার প্রয়াসের পেছনে শক্তি ছিল তার অপার করুণা, নির্যাতিত মানবতার প্রতি অপরিসীম সহানুভূতি। বাঙালী চরিত্রের একটি বড় বৈশিষ্ট্য তার ‘রােদনপ্রবণতা। বিদ্যাসাগর সেই বৈশিষ্ট্যে যথার্থ বাঙালী। দরিদ্রের দুঃখ দেখে তিনি চোখের জলে বুক ভাসিয়ে দেন, বিধবার অশ্রু দেখলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই করুণার দুর্বার স্রোতে সমস্ত বাধা হেলায় দূর করে সংকল্প-সাধনে অগ্রসর হন। তার চরিত্রে বাঙালীর কুসুমকোমলতার সঙ্গে ইউরােপীয় চরিত্রের দার্ঢ্য মিশ্রিত হয়ে এক অপূর্ব ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়েছিল। সে যুগের বাঙালী সমাজে এমন ব্যক্তিত্ব আর একটিও ছিল না।

উপসংহার

বিদ্যাসাগর ছিলেন যথার্থ মানবতাবাদী। মানুষের ইহজীবনের সুখ-দুঃখে তিনি ছিলেন উৎসুক, পরলােক বা ঈশ্বর সম্বন্ধে তিনি ছিলেন নীরব এবং নিরুৎসুক। তার কাছে ধর্ম ছিল মানবধর্ম, কর্ম ছিল মানবপ্রেমের প্রবর্তনায় মানবকল্যাণে আত্মনিয়ােগ। এই দেশের কত মানুষ যে কতভাবে তার কাছে ঋণী তার হিসাব কেউ রাখে না। বিদেশে অসহায় অবস্থায় কবি মধুসূদনের ভাগ্যে ঘটেছিল তার মহত্ত্বের পরিচয়লাভ। তাই মধুসূদন ‘দীনের বন্ধু আখ্যায় তাকে ভূষিত করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

১৮৯১ খ্রীস্টাব্দের ২৯শে জুলাই আধুনিক যুগের ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই মানবতার পুজারীর পরলােকপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে উনবিংশ শতাব্দীর এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটলাে। বাঙালী তার আদর্শ বন্ধুকে হারালাে। কিন্তু মনুষ্যত্বের অনির্বাণ আলােকে বাঙালীচিত্তে তিনি এখনাে দীপ্যমান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button