ইংরেজিবাংলা ব্যাকরণ

ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করার নিয়ম

ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করার সময় নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়

ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করার নিয়ম: বর্তমানে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ করার অনেক অ্যাপ রয়েছে। তবু ছাত্র ছাত্রীদের লেখার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়।  ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করার সময় ছাত্র ছাত্রীদের যে বিষয়গুলি মেনে চললে সহজে ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা যায়। নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষার্থিবৃন্দের সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয় তা হল – [ ইংরেজি রিপাের্ট লেখার সঠিক নিয়মাবলী ]

ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করার নিয়ম

১। অনুবাদ যথাসম্ভব আক্ষরিক করার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি আক্ষরিক অনুবাদে অনূদিত অংশটি আড়ষ্ট বা অস্পষ্ট থেকে যায় তবে ভাবানুবাদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ স্বচ্ছন্দ আক্ষরিক অনুবাদ অথবা আক্ষরিক ও ভাবানুবাদের মিশ্র পদ্ধতি প্রয়ােজন অনুসারে প্রযুক্ত হতে পারে।

২। মূলের সরল, জটিল বা যৌগিক বাক্যকে অনুবাদে যথাসম্ভব অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবে কোন দীর্ঘ বাক্যের অনুবাদে বাক্যের গঠন মূলানুরূপ করতে গিয়ে যদি আড়ষ্ট বা দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে, তবে তাকে সরল ও যৌগিক বাক্যে বিশ্লিষ্ট করে অনুবাদ করা যেতে পারে।

৩। মূলের প্রত্যক্ষ এবং পরােক্ষ উক্তিকে বাংলা অনুবাদেও অক্ষুন্ন রাখতে হবে। অর্থাৎ উক্তি পরিবর্তন করে অনুবাদ করা অবিধেয়।

৪। ইংরেজী বিশিষ্টার্থক শব্দসমষ্টি, প্রবাদ-প্রবচন এবং বাগ্বিধির যথাযথ বাংলা প্রতিশব্দ বা অর্থ ব্যবহার করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আক্ষরিক অনুবাদ অনেক সময় হাস্যকর হয়ে ওঠে। যেমন— “at dead of night”-এর আক্ষরিক অনুবাদ দাঁড়াবে রাত্রির মৃত্যুতে। কিন্তু বিশিষ্টার্থে এটির অনুবাদ হবে–“গভীর রাত্রিতে’।

৫। ইংরেজী বাক্যের পদবিন্যাস-রীতি বাংলায় সাধারণত হবহ অনুসরণযােগ্য নয়। যেমন ইংরেজী বাক্যের ক্রমানুসারে প্রথমে কর্তা, তারপর সমাপিকা ক্রিয়া, শেষে কর্ম এবং কর্মের সম্পূরক বা সম্প্রসারক ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলায় সাধারণত কর্তা, কর্ম বা সম্প্রসারকসহ কর্ম এবং ক্রিয়া এই ক্রম অনুসৃত হয়। বাংলায় অনেক সময় ক্রিয়াটি উহ্য থাকে। কিন্তু ইংরেজী বাক্যে ক্রিয়ার ব্যবহার আবশ্যিক। যেমন—’At that time he was in London.’ এই বাক্যের বঙ্গানুবাদ দু’রকম হতে পারে (ক) তখন তিনি লণ্ডনে ; (খ) তখন তিনি লণ্ডনের বাসিন্দা। লক্ষণীয়, এখানে উভয় ক্ষেত্রেই অতীতবাচক সমাপিকা ক্রিয়াটি উহ্য। অনেক সময় বাংলায় ক্রিয়াটি বাক্যের প্রথমে ব্যবহৃত হয়। যেমন—’We were in constant happiness in the house of Sadananda’, এই বাক্যটির বাংলা অনুবাদ আমরা এভাবে করতে পারি—“ছিলাম আমরা সদানন্দে সদানন্দের ঘরে।

৬। মূলে বাক্য বা বাক্যসমূহে ক্রিয়ার যে কাল ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি অনুবাদেও রক্ষা করা বিধেয়। যেমন—He was trembling in terror.’ এই বাক্যটিতে ঘটমান অতীতকালের ক্রিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে। অনুবাদটি এরকম হওয়া প্রত্যাশিত—“তিনি ভয়ে কাপছিলেন। কাপছিলেন ক্রিয়াপদের জায়গায় কাপেন, কাপছে, কেঁপেছেন, কেঁপেছিলেন ইত্যাদির ব্যবহার বাঞ্ছনীয় হবে না।

৭। বাক্যের ভাবগত প্রকারভেদ গুলি অনুবাদেও যথাযথ রক্ষা করতে হবে। যেমন- অস্ত্যর্থক, নাস্ত্যর্থক, প্রশ্নসূচক, আবেগসূচক, ইচ্ছাসূচক, অনুজ্ঞাবাচক ইত্যাদি বাক্যকে অনুবাদ করার সময় সংশ্লিষ্ট ভাবরূপটি অক্ষুন্ন রাখতে হবে। অর্থাৎ অস্ত্যর্থক বাক্যের অনুবাদ অস্ত্যর্থক বাকোই করা বাঞ্ছনীয়। নাস্ত্যর্থক বাক্যের অনুবাদও নাস্ত্যর্থক বাক্যে হবে। অন্য বাক্যগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণীয়। রবীন্দ্রনাথের অনুবাদ-চর্চা’ গ্রন্থের একটি উদাহরণ লক্ষ্য কর The girl cried in dismay, “O dear, I do not know what will my stepmother say !” দেখতে পাচ্ছ, এই বাক্যটির প্রথম অংশটি অর্থাৎ পরােক্ষ বর্ণনাটি অস্ত্যর্থক, উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে প্রদত্ত প্রত্যক্ষ উক্তিবাচক বাক্যটি একই সঙ্গে আবেগসূচক এবং নাস্ত্যর্থক। রবীন্দ্রনাথের অনুবাদে এই বাক্য-বৈশিষ্ট্যগুলি হুবহু অনুসৃত হয়েছে। তার অনুবাদটি এ রকমমেয়েটি মনের খেদে বলিয়া উঠিল, “মাগাে আমার বিমাতা কী না জানি বলিবেন?”

৮। ছেদ বা যতিচিহ্নের ব্যবহার সম্বন্ধেও সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয়। বাক্যের ভাব ও গঠন অনুসারে কমা, সেমিকোলন, কোলন, পূর্ণচ্ছেদ, ড্যাশ চিহ্ন, আবেগ বা সম্বােধন চিহ্, প্রশ্ন চিহ্ন, উদ্ধৃতি চিহ্ন [,/; /: /।/-/!/ १ / ” ” ] ইত্যাদির যথাযথ ব্যবহার করলে অনুবাদ স্পষ্ট ও সাবলীল হবে।

৯। কোন শব্দ বা বাক্যাংশের সঠিক অর্থ না জানা থাকলে কাছাকাছি সম্ভাব্য অর্থ দিতে পার। তবে দেখতে হবে, অনুমিত অর্থটি যেন হাস্যকর এবং অসঙ্গতিপূর্ণ না হয়। যেমন There is a mixed community in our village.- as a ‘mixed community’ অংশের অর্থ না জানা থাকায় একটি ছাত্র অনুবাদ করেছিল—আমাদের গ্রামে কম্যুনিস্টদের অত্যন্ত প্রাদুর্ভাব ঘটিয়াছে। এ ধরনের হাস্যকর অনুবাদ সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।

১০। প্রদত্ত অনুচ্ছেদটি বেশ কয়েকবার পড়ে নিয়ে একটি খসড়া অনুবাদ কর। খসড়াটি পড়ে দেখ কোথায় কোথায় আড়ষ্ট বা অস্পষ্ট থাকছে। এর পর মূলের সঙ্গে মিলিয়ে ভাষা স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল কর। দেখবে স্বাভাবিকভাবেই অনুবাদটি পড়তে পারছ এবং তােমারও ভাল লাগছে।

ট্যাগঃ ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ, সহজে জেনে নিন ইংরেজী থেকে বাংলায় ট্রান্সলেশন , বাংলা থেকে ইংরেজি ট্রান্সলেশন , ইংরেজি থেকে বাংলা বঙ্গানুবাদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button