ব্যবসা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী? শুরু করার সঠিক 5 টি পদ্ধতি

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন জনপ্রিয়?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েব ইন্ডাস্ট্রিতে কমিশন ভিত্তিক এক তুমুল আলোচিত পেশা। সাধারণত অন্য কোনো কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করার জন্য যখন একজন মার্কেটার একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন উপার্জন করেন তাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

সাধারণ কথায় বলতে গেলে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল এক ধরনের মার্কেটিং প্রক্রিয়া। যেখানে অন্য কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাবেন প্রত্যেকবার। ধরুন, আপনি Amazon এর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন। তাহলে আপনি যখন Amazon এর প্রোডাক্ট সারা পৃথিবীব্যাপী প্রোমোট করবেন তখন কেউ যদি সেই প্রোডাক্টটি Amazon থেকে ক্রয় করেন, তাহলে Amazon কম্পানী আপনাকে প্রত্যেকটি বিক্রির উপর একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন দিবে । এটিই সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন জনপ্রিয়?

এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বর্তমান সময়ে অয়েব দুনিয়ায় ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো তাদের পর্নের বা সার্ভিসের মার্কেটিং করছে। ধরুন আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে এর মধ্যে অনেক কোম্পানি তাদের পণ্য রেখেছে এখন তাদের পন্য মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন অথবা মার্কেটিং এর মাধ্যমে পৌঁছানো হচ্ছে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর প্রধান কাজ এর জন্য আপনি টিভিতে অথবা অনলাইনে ইনকাম বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারেন।

আপনার কাছে যেই কোম্পানিগুলো রয়েছে তাদের পণ্য যদি আপনি টিভিতে অথবা অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে চান তাহলে আপনার যে পরিমাণ খরচ করবেন এই পরিমাণ প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন কিনা এই ঝুঁকি থেকে যায়। এতকিছু করার পর আপনার পণ্য বিক্রি হল কিনা এরজন্য বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ী থাকবে না কিন্তু আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার পণ্য গুলো অন্য মানুষের ওয়েবসাইটে দেখানোর ব্যবস্থা করে দেন এবং পণ্য বিক্রি হলে এর থেকে একটা পার্সেন্টিস ওয়েবসাইটের মালিক কে দিয়ে দেন তাহলে ঝুঁকি ছাড়া আপনার কমার্স ওয়েবসাইটের লাভ হয়ে গেল। ঠিক একি ভাবে এই কাজটি করে থাকে ই-কমার্স স্টোর ওয়েবসাইট গুলো আর যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে তারা ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর পণ্য গুলো তাদের ওয়েবসাইটে রাখে এবং বিক্রি করে তারা একটা কমিশন পায়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ক্যারিয়ার হিসেবে কেমন?

আপনার আগ্রহ এবং সময়োপযোগী পণ্যের অফার প্রোমোট করতে পারলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়েই হতে পারে স্বপ্নের ক্যারিয়ার। যদিও আজকের দুনিয়াতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। কেননা, এই পেশায় যেমন আয় অনেক এবং প্যাসিভ ইনকাম গড়া সম্ভব, ঠিক তেমনি প্রতিষ্ঠিত হওয়াও সময়, শ্রম এবং বিনিয়োগ নির্ভর। তাই অনেকই এই পেশায় আসলেও সবার পক্ষে কম্পেটিশনে টিকে থাকা সম্ভব হয় না।

আর একবার এই পেশায় ঠিকে গেলে পিছন ফিরে আর তাকাতে হবে না। ইন্টারনেটের কল্যাণে বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। সারা পৃথিবীতে অনেকেই এখন অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মাকেটিং পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। আর যারা ফ্রিল্যান্সিং কাজের সাথে জড়িত তাদের উপার্জনের অন্যতম পছন্দনীয় মাধ্যমই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কিত একটি আমার পছন্দের বই – Learn and Earn From Digital Marketing – Affiliate Marketing, Drop Shipping, E-Learning, YouTube, Instagram, Facebook 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার পূর্বে কিছু প্রশ্ন

  • কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন?
  • ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চাইলে কী করতে হবে?
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কি কি দক্ষতা থাকতে হবে?
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার সুবিধা কী?
  • কী-ওয়ার্ড রিসার্চ এন্ড কম্পেটিটর অ্যানালাইসিস?
  • ওয়েবসাইট ছাড়া যেভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন?
  • ডোমেইন অ্যান্ড হোস্টিং কি এবং কেন প্রয়োজন?
  • ওয়েবসাইট এসইও অপটিমাইজড (SEO)
  • কনটেন্ট রাইটিং কী?
  • অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, digistore24 ইত্যাদি অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট।
  • ওয়েব সাইট মার্কেটিং,
  • লিংক বিল্ডিং কী এবং কেন প্রয়োজন?
  • URL শর্টনার কেন ব্যবহার করবো?
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস সমূহ, ইদানিং আ্যফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)-এর ব্যাপারে খুব শোনা যায়।
  • আ্যফিলিয়েট মার্কেটিং আসলে কী এবং এর থেকে কীভাবে/কেমন আয় করা যায়?
  • কিভাবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে যোগ দিতে পারব?
  • কোন প্রোডাক্ট নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করব? সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন করা?
  • আ্যফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবো?
  • একটি আফিলেটিং মার্কেটিং এর জন্য ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা দরকার হয়?
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য কি কি প্রয়োজন?
  • পেইড মার্কেটিং কী এবং কেন প্রয়োজন?
  • CPA মার্কেটিং-এর কাজ কিভাবে করতে হয়?
  • CPA মার্কেটিং শুরু করার জন্য নতুনদের কী কী দরকার?
  • অনলাইনে আমি কী করে এফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করতে পারি? ইত্যাদি।

এটিও পড়ুন – ব্লগস্পট দিয়ে যেভাবে ব্লগ তৈরি করবেন? সম্পূর্ণ পদ্ধতি

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবেন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য পার্সোনাল ব্লগ ও ওয়েবসাইট থাকা সবচেয়ে ভালো তাছাড়া ইউটিউব চ্যানেল অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় পেজ বা একাউন্ট থাকলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হচ্ছে অ্যামাজনে ই-কমার্স স্টোর তবে যারা বাংলাদেশ ভিত্তিক ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন তারা বিডি শপ এর অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া চাইলে দারাজ এবং বাগডুম এর সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য প্রথমে আপনাকে ভাল মানের একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট নির্বাচন করতে হবে। আপনার ওয়েবসাইট অথবা অডিয়েন্স এর উপর ভিত্তি করে আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম নিয়ে কোন জায়গায় কাজ করবেন প্রথমে নির্বাচন করুন। যাদের অডিয়েন্স ইউরোপ কান্ট্রির তারা অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে পারেন। তবে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো এলাকা ভিত্তিক সেবা দিয়ে থাকে চাইলে তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। তাছাড়া ক্লিকব্যাংক ওয়েবসাইটের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট তাদের পণ্য ক্লিক ব্যাংকের মধ্যে রেখেছে এই পন্য যদি আপনি বিক্রি করতে পারেন তাহলে এর থেকে আপনাকে একটা কমিশন দেওয়া হবে যা আপনার ক্লিকব্যাংক একাউন্ট এর মধ্যে যুক্ত হবে এবং পরে তা তুলতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য সহজ কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করুন। সঠিক নিয়মে যত কঠিন কাজ করলেও সহজ লাগে কিন্তু ভুল নিয়মে সহজ কাজও করতে কঠিন লাগে। তাই মাঝ পথে অনেকে ছেড়ে দেয়। তখনি কাজেটির পতি একটি ভুল ধারনা আসে। তাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করলে সঠিক নিয়ম অনুযায়ী কাজ করুন। দেখবেন সাফল্য পাবেন।

  • কোন ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করবেন এই বিষয়টি (Niche or topic or subject ) প্রথমে নিশ্চিত করে নিন তা না হলে সমস্যা সৃষ্টি হবে। বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রচুর চাহিদা তাই অনেক এই কাজে এসে এর ডিমান্ড বাড়িয়ে দিয়েছে তাই কোনো নিস প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা সবচেয়ে ভাল উপায়। শুধু প্রোডাক্ট নির্বাচন করলে চলবে না এর দাম এবং চাহিদার কথা মাথায় রাখতে হবে। এমন প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন যার প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং এর দাম যেন কম না হয় কমপক্ষে ১০০/২০০ ডলার হয় তাহলে ১০ থেকে ১৫% কমিশন ( আবার কিছু কিছু প্রোডাক্টে ৮০% পর্যন্ত কমিশন ) পেলেও আপনার ভালো পরিমাণ টাকা থেকে যাবে।
  • প্রডাক্ট নির্বাচন করা হয়ে গেলে ওয়েবসাইটের জন্য কাজ করা শুরু করুন। আপনার প্রোডাক্ট এর নাম অনুযায়ী একটি ডোমেইন নিয়ে ওয়েবসাইট এর মধ্যে যুক্ত করুন। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য ভালো মানের হোস্টিং এর প্রয়োজন হবে। ওয়েবসাইট কন্ট্রোল করা ভালো ভাবে শিখে নিন তা না হলে পরে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তবে চাইলে ব্লগার এর মধ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন তবে এর মধ্যে ওয়েবসাইট ভালোভাবে কাস্টমাইজ করা যায় না তাই ওয়ার্ডপ্রেস এর মধ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করাই ভালো। বর্তমানে অনেকে ওয়েবসাইট ছাড়াও অ্যাফিলিয়েট মাকেটিং করে অনেক টাকা ইনকাম করছেন। এই বিষয়ে একটি পোস্ট আছে দেখে নিতে পারেন।
  • ওয়েবসাইট তৈরী করা হয়ে গেলে যে ওয়েবসাইটে সঙ্গে আপনি কাজ করতে চান সেই ওয়েবসাইটের মধ্যে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে ফেলুন। তারপর আপনি আপনার সিলেক্ট করা প্রোডাক্টগুলো আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে যুক্ত করতে থাকুন।
  • এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল এসইও অথবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)। এই কাজ করার উদ্দেশ্য হল সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল, ইয়াহু, বিং এগুলো যেন আপনার ওয়েবসাইটের পোষ্ট গুলোকে উপরে দেখিয়ে থাকে। তবে যদি আপনি পেইড মার্কেটিং করেন তাহলে এসইও করার দরকার নাই।
  • যারা যারা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তারা ভিডিওর নিচে অ্যাফিলিয়েট লিংক দিতে পারেন তবে প্রোডাক্টের এফিলিয়েট লিংক খুব বেশি বড় হয়। এজন্য বিটলি (bitly.com) বা অন্যান্য URL শর্টনার দিয়ে লিংক ছোট করে দিতে পারেন।

বর্তমানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সম্ভাবনা

ইউরোপ (UK) এবং আমেরিকা (USA) দেশের ইউটিউবার এবং ব্লগাররা তাদের ৭৭ পার্সেন্ট এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করে থাকে কিন্তু এই তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি এর থেকে বের হতে হবে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মধ্যে আমাদেরকে আসতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশের তথা ভারত এর ইউটিউবার এবং ব্লগাররা অ্যাফিলিয়েট ইনকাম এর দিকে নজর দিয়েছে। তাদের কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো সম্পূর্ণ অ্যাফিলিয়েট নির্ভর। অ্যাফিলিয়েট এর এত বড় বাজার ধরতে হবে সকলের এই বিষয়টির সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হবে এবং এই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স নিয়ে কিছু কথা 

বর্তমান সময়ে বিশেষ করে কভিড পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় একটি অনলাইন ইনকাম মাধ্যম হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং। অনলাইনে অনেক কোর্স রয়েছে যেগুলো সত্যি কাজের তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে জনপ্রিয় কিছু কোর্স রয়েছে, যার মধ্যে তারা শিখিয়ে থাকে কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হয়, কিভাবে ওয়েবসাইট বানাতে হয়, কিভাবে এসইও (SEO) করতে হয়, কিভাবে ফেইসবুক মার্কেটিং করতে হয়, কিভাবে গুগল বিজ্ঞাপন চালু করতে হয় ইত্যাদি। আপনি ইউটিউব এর মধ্যে গিয়ে সার্চ করুন এই টপিক গুলোর উপরে চমৎকার তথ্য বহুল অনেক ভিডিও পাবেনা যা সম্পূর্ণ ফ্রী তাই আমার মনে হয় টাকা দিয়ে এই কোর্স না করাই ভালো। তবে অনেক সময় আপনার ব্যয় হতে পারে। হাতে নাতে শিখতে এবং সময় বাঁচাতে কোর্স করে নিতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

কিভাবে একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হবেন?  

সফল হতে কে না চায়? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ সফল হতে গেলে কতগুলো নিয়ম সঠিক ভাবে পালন করলে অবশ্যই সফল হবেন।

  • প্রথমত আপনি কেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চাচ্ছেন? নিশ্চয় ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে টাকা ইনকাম করতে চান তাই? কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন? অবশ্যই বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস যেমন ফাইবার, আপওয়ার্ক বা ফ্রিল্যান্সার এর মাধ্যমে কিংবা দেশীয় কোনো কম্পানির হয়ে কাজ করে। এইসব মার্কেটপ্লেসে কাজ করে বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর ফ্রিল্যান্সাররা। আর আমেরিকার বা ইউরোপের দেশগুলোর ক্লাইন্ট সল্প টাকার বিনিময়ে কাজ করিয়ে নেয়। উপরে যে ইউটিউব চ্যানেলগুলোর কথা বললাম তারা সকলেই আমেরিকার বা ইউরোপের। ফাইবার বা আপওয়ার্কের মতো মার্কেটপ্লেসে তারা কখনো কাজ করে না। তাহলে তাদের কাছে আপনি প্রাকটিকাল নলেজ পাবেন নাকি দেশে যারা মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন তাদের কাছে পাবেন?অবশ্যই দেশীয় ভাইদের কাছেই কার্যকরী শিক্ষাটা পাবেন।
  • আপনি যখন ইউটিউব দেখে কিছু শিখতে যাবেন তখন আপনার কাছে ঐ লেসনটির সব ভিডিও সিরিয়ালি আসবে না। আপনার কাছে কি কোনো পাঠসূচী আছে যেটি আপনাকে বলবে কোনটার পর কোনটা শেখা উচিত? কিংবা কোন জিনিসটি না শিখলেও চলবে, কোন জিনিসটির আলাদা একটি উপায় আছে যা অত্যন্ত সহজ – এসব প্রশ্নের উত্তর ইউটিউবে পাওয়া দুষ্কর।
  • আপনি যখন ইউটিউবে কোনো ভিডিও দেখে শেখেন এবং শেখার পর আপনি বাস্তবে তা প্রয়োগ করেন তখন দেখবেন ইউটিউবে দেখানো নিয়ম অনুযায়ী করেও আপনার ফলাফল ভিন্ন আসছে, কি হয়েছে, কেন হল না এটা আপনাকে কে জানাবে? ইউটিউব ভিডিওর নিচে কমেন্ট করলেই কি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আপনাকে উত্তর দেবে? আগের কয়টা কমেন্টের উত্তর দিয়েছেন একটু দেখে নিন। আর যদি কখনো স্ক্রীনশট দেখানোর প্রয়োজন হয়- যেটা প্রায়ই প্রয়োজন হবে – তখন আপনি কিভাবে ইউটিবারের সাথে স্ক্রীনশট শেয়ার করবেন?

এরকম আরো অনেক সমস্যা হবে যদি আপনি শুধু ইউটিউব কিংবা গুগলের সাহায্য নিয়ে শিখতে চান। তাহলে এর সমাধান কি? সমাধান হিসেবে আমি বলব আপনি একটি পেইড কোর্স করেন। পেইড কোর্স এবং ফ্রি ইউটিউব ভিডিওর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ইউটিউবে আপনি সেইসকল ভিডিও খুজে পাবেন যেগুলো মানুষ দেখার জন্য সার্চ করে। কিন্তু যে ছোটখাটো বিষয়গুলো একজন নতুন লার্নার জানে না, সেগুলো সে ইউটিউবে সার্চও করে না। আর যিনি ইউটিউব ভিডিও তৈরি করেন তিনিও তো একজন ডিজিটাল মার্কেটার। তার খুব ভালোভাবেই ধারনা আছে, এই টপিকটি নিয়ে মানুষ সার্চ করে না , তাই এই টপিকের উপরে ভিডিও বানালে ভিউ কম আসবে, টাকা ইনকাম হবে না, অযথা সময় আর পরিশ্রম হবে, তাই তিনি শুধু সেগুলোরই ভিডিও বানাবেন যেগুলো মানুষ চায়।

হ্যা এটা ঠিক যে ইউটিউবে পাওয়া যাবে না এমন কিছু নেই। তবে আপনি যে সেটা পাবেন তার কি নিশ্চয়তা। আপনি যদি এটাই না জানেন যে আপনাকে কি লিখে ইউটিউবে সার্চ করতে হবে তাহলে আপনি সেই অজানাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন কি করে?

তাই আমি বারংবার বলব একটি পেইড কোর্স করতে, নিজে নিজে ইউটিউব দেখে শিখতে যদি আপনার ৬ মাস লাগে তাহলে পেইড কোর্স করতে আপনার সময় লাগবে হয়ত ২ মাস। আমাদের দেশের অনেক সফল ফ্রিল্যান্সারগণ পেইড বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে পেইড কোর্স চালু করেছেন। আপনার যাকে ভালো লাগে তার কাছে গিয়ে শিখে নিতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর লেখা কিছু ভালো ব্লগের নাম কী? এই ব্লগ গুলো সত্যিই খুব উপকারী। নিম্নে কিছু ইংরেজী ব্লগ লিস্ট শেয়ার করা হল। যেগুলো থেকে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে পারবেন। যেমন –

Search Engine Journal
Niche Pursuits
Backlinko
Neil Patel
Smart Passive Income
Gotch SEO
MOZ Blog
Marketever
Tech Tage
Shout Me Loud

কিছু কোম্পানির যেগুলো থেকে অ্যাফিলিয়েট মাকেটিং করতে পারেন

  • digistore24-app.com
  • affiliate.flipkart.com
  • hostinger.com ( জনপ্রিয় ডমেন ও হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডার )
  • affiliate-program.amazon.in ( ভারতের শপিং ওয়েবসাইট )

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button