ক্যারিয়ারঅনলাইন ক্যারিয়ারমোবাইল অ্যাপ

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পেশা হিসেবে ক্যারিয়ার

সময়োপযোগী পেশা হিসেবে অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট কী এবং কেন?

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পেশা বর্তমানে একটি সময় উপযোগী পেশা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্মার্টফোনের ব্যবহার, ব্যপক হারে বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রাও। সারা পৃথিবীব্যাপী তাই মোবাইল অ্যাপসের বাজার এখন রমরমা এবং চাহিদা মানসম্পন্ন। এই বাজার বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। আর বাড়ছেও খুবই দ্রুতগতিতে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পেশা হিসেবে ক্যারিয়ার

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কী? : মোবাইল ফোন ও ট্যাবের জন্য তৈরিকৃত আপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারকে সাধারণত অ্যাপ বলা হয়ে থাকে। আর এই মোবাইল আপ্লিকেশন তৈরির পদ্ধতি হচ্ছে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। জনপ্রিয় তিনটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও উইন্ডোজ মোবাইল। প্রতিটি প্লাটফর্মের জন্য অ্যাপ তৈরি করতে ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করতে হয়। যেমন আইওএসের জন্য সুইফট বা অবজেক্টিভ সি, অ্যান্ড্রয়েডে জন্য জাভা ও উইন্ডোজ মোবাইলের জন্য সি সার্ফ ল্যাঙ্গুয়েজের প্রয়োজন হয়। এমনকি অ্যাপগুলো তৈরি করার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা এনভায়রনমেন্ট। যেমন আইওএস অ্যাপ তৈরি করতে প্রয়োজন হয় এক্সকোড, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের জন্য অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও এবং উইন্ডোজ অ্যাপের জন্য মাইক্রোসফট ভিজুয়াল স্টুডিও ও উইন্ডোজ মোবাইল এসডিকে। নিজ নিজ প্লাটফর্মের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে তৈরিকৃত অ্যাপগুলোকে ন্যাটিভ অ্যাপ বলে। ন্যাটিভ অ্যাপ ছাড়াও একভাবে অ্যাপ তৈরি করা যায়। যাকে বলা হয় ক্রস প্লাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। সাধারণত ওয়েব টেকনোলজি যেমন এইচটিএমএল, সিএসএস ও জেএস ব্যবহার করে ক্রস প্লাটফর্ম অ্যাপ তৈরি করা হয়। এগুলোকে হাইব্রিড অ্যাপও বলা হয়। হাইব্রিড বেশিরভাগ ফ্রেমওয়ার্কই জাভাস্ক্রিপ্টের ওপর তৈরি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, হাইব্রিডের এসব ফ্রেমওয়ার্কগুলো একটা দারুণ সুবিধা দেয়। একটা প্লাটফর্মের জন্য ডেভেলপ করলে তা একই সঙ্গে সবগুলো প্লাটফর্মে চালানো যায়।

এটিও পড়ুন – অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী? শুরু করার সঠিক 5 টি পদ্ধতি

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পেশায় যোগ্যতাঃ

এই পেশায় যে কেউ আসতে পারে। এর জন্য বিশেষ কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে কম্পিউটার আপ্লিকেশন অথবা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পাশ করে। BCA পড়ার পাশা পাশি অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স করলে খুব ভালো হয়। তবে সরাসরি এই কোর্স ও করতে পারে।

অ্যাপস ডেভেলপমেন্টের চাহিদা : ২০১৫ সালে আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগে মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের বাজার ছিল ১০০ (একশত) বিলিয়ন মার্কিন ডলারের! যেখানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা প্রত্যেকে গড়ে ন্যূনতম একটি অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া প্রতিদিন ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেন মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারে। এছাড়াও পৃথিবীব্যাপী স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ৮৬ শতাংশ সময় ব্যয় করেন অ্যাপসে। সুতরাং বলা যায় যেকোনো ডেভেলপার অ্যাপ ডেভেলপ করে প্লে স্টোরে (Google Play Store) আপলোড করে দারুণ আয় করতে পারে। আর একটা অ্যাপ জনপ্রিয় হয়ে গেলে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে মোবাইল অ্যাপসের বাজার প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের। ২০১০ সালে এই বাজারের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ৫৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের। অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের এই যে বিশাল বাজার, তার ৬৬ শতাংশ কাজই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট প্রস্তুতি :

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার হতে চাইলে প্রথমে আপনাকে বেছে নিতে হবে কিছু প্লাটফর্ম। এ ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি প্লাটফর্ম হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস। এখান থেকে আপনার পছন্দের প্লাটফর্মটি বেছে নিতে হবে। অ্যান্ড্রয়েডের প্রোগ্রামিং ভাষা হলো জাভা ও আইওএসের অবজেক্টিভ সি। এ দুটি প্রোগ্রামিং ভাষার ক্ষেত্রেই সি ও সি++ এর প্রাথমিক ধারণা থাকলে ভালো। আপনি যে কোনো একটি প্লাটফর্মে কাজ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে।

এবার আসুন দ্বিতীয় বিষয়টিতে। প্রতিটি স্থাপনা তৈরি করতে যেমন বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের কিছু সর্বজনীন গৃহীত উপায় রয়েছে এখানেও ঠিক একই নিয়ম প্রযোজ্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপনার তৈরি করা অ্যাপ্লিকেশনটির নকশা। সফটওয়্যারের নকশা প্যাটার্ন প্রত্যেক প্রোগ্রামারের রপ্ত করা উচিত। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস এ দুটিতেই এমসিভি পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়। ইভেন্ট হ্যান্ডলিং ছাড়াও অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং, অ্যানালাইসিস, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্টের কৌশল রপ্ত না করলে একজন ভালো ডেভেলপার হতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।

কোথায় শিখবেন অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট :

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে অনেক আইটি ফার্ম গড়ে উঠেছে। Google এ সার্চ করলে অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম পাবেন। বর্তমানে অনলাইনে অনেক পেইড কোর্স চালু রয়েছে এছাড়া Youtube এ টিউটোরিয়াল দেখে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শেখাও কিন্তু কঠিন কিছু নয়। শুধু খুঁজে নিতে হবে।

কীভাবে শিখবেন অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
কোন প্লাটফর্মের অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান? প্রথমে সেটির সিদ্ধান্ত নিন। তবে আমার মনে হয় অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মটি বেছে নিতে পারেন। এরপর গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে জেনে নিন এই প্লাটফর্মে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট করতে আপনাকে কী কী শিখতে হবে। এরপর শুরু করুন স্টেপ বাই স্টেপ শেখা। বর্তমানে ইন্টারনেট থেকেই অনেক কিছু শেখা সম্ভব। তবে হাতে-কলমে এবং দ্রুত শিখতে ভালো মানের পেশাদার প্রতিষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। শুধু ভালো প্রতিষ্ঠানে কোর্স করার ম্যাধ্যমে আপনি ভালোভাবে শিখতে পারবেন।

অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের বাজার:

অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের বাজার বিস্তারিত আলোচনার আগে আমরা একটি পরিসংখ্যান দেখি। মোবাইল গবেষণা প্রতিষ্ঠান “রিসার্চ টু গাইডেন্স”- এর মতে, ২০১৫ সালে মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের বাজার ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে। ২০১০ সালে এই বাজারের পরিমাণ ছিল ১০.২ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের এই যে বিশাল বাজার, তার ৬৬ শতাংশ কাজই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে!

আয় রোজগার :

অ্যাপ ডেভেলপ ফার্ম ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোয় অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। প্রথমিক অবস্থায় বেতন ১৫-২৫ হাজার টাকা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞতা থাকলে তা ৩০ থেকে ৪০ হাজারের মতো হয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোয় প্রতিদিনই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রচুর প্রজেক্ট জমা পড়ে। ফ্রিল্যান্সার (Freelancer.com) ও আপওয়রক (Upwork) জব ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একজন ওয়েব ডিজাইনার কিংবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার যেখানে গড়ে ১০ থেকে ১২ ডলার মূল্যে প্রতি ঘণ্টা কাজ করে, সেখানে একজন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারের ঘণ্টা প্রতি গড় আয় ২৫ থেকে ৫০ ডলারে। এই অ্যাপ তৈরির পর অনলাইন স্টোরে আপ করে আয়ও করা যায়।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার:

কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতেই যে কেবল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের চাহিদা এমনটি নয়। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপেসগুলোতে প্রতিদিনই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রচুর প্রজেক্ট জমা পড়ছে। ইল্যান্স এবং ওডেস্কের জব ট্রেন্ড বিশেষণ করে দেখা যায়, একজন ওয়েব ডিজাইনার কিংবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার যেখানে গড়ে ১০ থেকে ১২ ডলার মূল্যে প্রতি ঘন্টা কাজ করে সেখানে একজন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারের ঘন্টা প্রতি গড় আয় ২৫ থেকে ৫০ ডলারে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে আমাদের যে সকল সমস্যা:

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের অবকাঠামোগত অবস্থা এখনও খুবই দুর্বল। প্রথম সমস্যা ইন্টারনেটের গতি। কম গতির কারণে আমরা বড় এসডিকে ফাইলগুলো নামাতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করি, তারপরও সফল হওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। এছাড়াও অনলাইনে এ সংক্রান্ত যেসব রিসোর্স রয়েছে সেগুলোও আমরা ডাউনলোড করে দেখতে পারিনা কম গতির ইন্টারনেটের কারণে। উদাহরণ দেই, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে চার ক্রেডিটের একটি মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্টের কোর্স আছে, যার রিসোর্স সাইজ ১৬ গিগাবাইট! এটি ডাউনলোড করতে আমাদের কত সময় প্রয়োজন হবে? তবে বর্তমানে কিছুটা হলেও এর সমাধান পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয় কারণ, মূলধনের অভাব। মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্টে ক্যারিয়ার গড়তে, একজন ডেভেলপারকে ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার কিনতে হয়। আর সেটি যদি অ্যাপল ভিত্তিক অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট হয় তাহলে তাঁর খরচ বেড়ে আকাশচুম্বি হয়ে যায়।

তৃতীয় কারণ, শিক্ষা ব্যবস্থা। ভার্সিটিগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হতেই হয়। এ শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজন মেটানোর শিক্ষা ব্যবস্থা নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার আইটি গ্রাজুয়েট বের হলেও ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যাডার্ড শিক্ষার্থী বের হচ্ছে হাতে গোনা কয়েক’শ। এই শিক্ষার্থী নিজ দায়িত্বে সবকিছু শিখেছেন বলেই তারা ইন্ডাস্ট্রি – স্টান্ডার্ড হতে পেরেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে বের হবার পর আবার শুরু হয় বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি। কিন্তু সেখানেও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেনা তারা। এই কারণে ইন্ডাস্ট্রি থেকে হতাশ হয়ে অন্যান্য পেশায় চলে যাচ্ছে অনেকে।

আমরা কি পারবো?

হতাশার কথাগুলো তো আগে বলাই হল, এখন কথা হচ্ছে আমরা কি এই পেশায় প্রবেশ করতে পারবো না? সে প্রশ্নের উত্তর জানার আগে চলুন একটু গল্প বলি। ছেলেটির নাম আনিস, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। খুব আগ্রহী অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের ব্যাপারে। তবে তাঁর কোন কম্পিউটার ছিল না, বড় বোনের কম্পিউটার ব্যবহার করত। সেই কম্পিউটারটির কনফিগারেশন ছিল পেন্টিয়াম থ্রি, ৬৪ মেগাবাইট র‌্যাম আর ১০ গিবি হার্ডড্রাইভ! টানা ৯ বছর কম্পিউটারটি চালানোর পরও আনিস তাঁর বাবা-মাকে বলতে পারেনি আমাকে একটা নতুন কম্পিউটার কিনে দাও! পেন্টিয়াম থ্রি-র একটি কম্পিউটার থাকলেও আনিসের ছিল না কোন ইন্টারনেট সংযোগ।বন্ধুদের বাসায় এবং সাইবার ক্যাফেতেই চলত ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের কাজ, সেই সঙ্গে প্রোগ্রামিং নিয়েও ব্যাপক লেখাপড়া চলত। প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়ার সময়ই তিনি জানতে পারেন অনলাইন মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে। ছোটখাট অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার কাজ চলতে থাকে, সেই সঙ্গে নতুন নতুন বিষয়গুলোতে লেখাপড়ার কাজও। মাঝখানে সি/সি++, ডটনেট ও জেএসপি’র প্রজেক্টগুলো মার্কেটপ্লেস গুলোকে বেশ গরম করে তুলেছিল। সে সময় এ বিষয়গুলো নিয়েই লেখাপড়া আর কাজ করতে থাকেন আনিস। আর স্মার্টফোনের প্রতাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট নিয়েও লেখাপড়া শুরু করে সে। তবে বিপত্তি বাঁধে আরেক জায়গায়, স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করতে স্মার্টফোন কিনতে হবে। আবার আইফোন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করতে প্রয়োজন হবে অ্যাপল কম্পিউটার! কিন্তু এত ডিভাইস কেনার সামর্থ্য আনিসের ছিলনা। সাইবার ক্যাফের কম্পিউটারে বসেই অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয় তাঁকে। এর মধ্যে আনিসের জীবনে একটি স্মরনীয় ঘটনা ঘটে। এক ব্যক্তি মার্কেটপ্লেসে একটি সফটওয়্যার তৈরির প্রজেক্ট পোস্ট করে। বেশ সোজা একটি সফটওয়্যার হলেও তেমন কেউ সেটি সমাধান করতে পারেনি। উক্ত সফটওয়্যার তৈরির কাজে এগিয়ে আসেন আনিস এবং সফলভাবেই সে প্রজেক্টটি শেষ করে আয় করেন ৫৫০ ডলার! আর এই অর্থ দিয়েই আনিসের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের কাজের যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।

আনিস এখন সফল একজন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, যার মাসিক আয় ছয় অংক ছাড়িয়ে! এই ঘটনা এখানে উল্লেখ করার লক্ষ্য একটাই, আনিস পারলে আপনিও পারবেন। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট কোন রকেট সায়েন্স নয় যে এই ক্ষেত্রে কাজ শুরুকরে সফল হওয়া যাবেনা।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পেশায় যা না জানলেই নয়:

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক, বলবো কিভাবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট আসা যায় এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টে আসতে আপনাকে জানতে হবে:

  1.  জাভা / সি / সি++
  2. অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং অ্যানালাইসিস।

রেফারেন্স

ইন্টারনেটে আইফোনের অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ শেখার জন্য বেশ কিছু বই পাওয়া যায়। এছাড়া বিনামূল্যে টিউটরিয়াল সংগ্রহের জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট শেয়ার করা হল :

  •  iPhone Dev Forums (www.iphonedev forums.com/forum/)
  • iPhone Dev SDK (www.iphonedevsdk. com/forum/)
  • iPhone-Developers.com (http://iphone-developers.com/)
    তবে আইফোনের অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করার জন্য আপনার অবশ্যই থাকতে হবে অ্যাপল কমপিউটার।

অ্যান্ড্রয়িডঃ গুগলের Android Developers portal (http://developer.android.com/index.html) ওয়েবসাইটে ডেভেলপারদের জন্য রয়েছে প্রচুর পরিমাণে টিউটরিয়াল, ই-বুক, ইমুলেটর এবং সব কিছুই বিনামূল্যে।

এছাড়াও কয়েকটি প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট হলো :

  •  XDA Developers (www.xda-developers.com/)
  • http://www.anddev.org/
  • http://thesixdegree.com/appcon/ resources.html
  • http://developer.android.com/ guide/index.html
  • http://www.androidpeople.com/
  • http://www.vogella.de/android.html

এছাড়া বেসিসের অ্যান্ড্রয়িড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট লিঙ্ক পাবেন –  https://learneasywebdesign.blogspot.com এখানে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button